• Breaking News

    রোনালদোর শততম গোল, ইউরোপে!

    বায়ার্ন ১   রেয়াল ২


    (ভিদাল ২৬)    (রোনালদো ৪৭, ৭৭)


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    স্বপ্নের মতো গত বছরটা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরো খেতাব। যে-কারণে বালন দি’ওর। এমন মরসুমের পর খানিকটা ভাঁটার টান অনস্বীকার্য। কিন্তু শুনবে কে?

    নাম ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো হলে এই মুহূর্তে ফুটবল বিশ্ব সত্যিই আর কিছু শুনতে চায় না, রাজি নয়। তাই সাময়িক ছন্দপতন নিয়ে কত লেখা আবার, বিশেষজ্ঞ ও বিশেষ-অজ্ঞ, দুই তরফেই। কিছু গোল কম ছিল বা আছে, এই তো? রেয়াল মাদ্রিদ এখনও আছে লা লিগার শীর্ষে। রেয়াল মাদ্রিদ এখনও আছে টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে এসি মিলানের সেই ২৭ বছর আগের রেকর্ড ছোঁওয়ার জন্য। তারপরও ছিদ্রান্বেষণ! কেন?

    মরসুম এখন শেষ পর্বে। ফসল ঘরে তোলার সময়। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘বিজনেস এন্ড’। পর্তুগিজ রোনালদো দেখিয়ে দিলেন, ঠিক কোন সময় জ্বলে উঠতেই হবে, তিনি এখন সবচেয়ে ভাল জানেন। বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে দিল রেয়াল মাদ্রিদ, চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম পর্বে। জেতাল রোনালদোর জোড়া গোল!

    ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেই পারত, বলা হবে। সঙ্গত। আর্তুরো ভিদালের জোরালো হেডে ১-০ এগিয়ে যাওয়ার পর প্রথমার্ধের শেষে রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে পেনাল্টি পেয়েছিল বায়ার্ন। রিবেরির জোরালো শট আপাতদৃষ্টিতে মনে হলেও দানি কার্ভাহালের বুকেই লেগেছিল, হাতে নয়। সেই পেনাল্টি নিতে এগিয়েছিলেন ভিদাল। কিন্তু, উড়িয়ে দেন চিলের ফুটবলার, বারের অনেক ওপর দিয়ে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ওই গোল মানে বিরতির পর সাজঘর থেকে রোনালদোদের ফিরতে হত ০-২ পিছিয়ে, অ্যাওয়ে ম্যাচে। ম্যাচটা ভিদালই তো থালায় করে সাজিয়ে তুলে দিলেন রোনালদোদের হাতে। ঠিক যেমন গতবার সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্বে টমাস মুলার পেনাল্টিতে গোলের সুযোগ হারিয়ে ফাইনালে তুলে দিয়েছিলেন আতলেতিকো মাদ্রিদকে।

    খলনায়ক! গতবার সেমিফাইনালে ছিলেন টমাস মুলার, এবার আর্তুরো ভিদাল! পেনাল্টি থেকে গোলের সুযোগ হারিয়ে।


    ভিদালের ওই মিসটাই ফিরে আসার সুযোগ দিয়ে গিয়েছিল রেয়ালকে, যা কাজে লাগেতে দ্বিধা করেননি রোনালদো। ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় নিজের ৯৯তম গোল পেলেন সেই কার্ভাহালের ক্রসে ডান পায়ের ভলিতে। ম্যানুয়েল নয়ারের পক্ষেও আন্দাজ করা সম্ভব হয়নি, কোনদিকে বলটা পাঠাতে পারেন রোনালদো।

    আর, ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় ইতিহাস লিখে শততম গোলটা রোনালদো পেলেন নয়ারকে বোকা বানিয়ে। জার্মান গোলরক্ষককে বলা হয় বিশ্বের সেরা। কিন্তু, শিক্ষানবিশ গোলরক্ষকদের মতো পায়ের তলা দিয়ে গোল খেলেন নয়ার।

    বেশ কয়েকবার অবশ্য দলের পতন নিশ্চিত বাঁচিয়েও ছিলেন সেই নয়ারই। কখনও বেনজেমার শট, কখনও রোনালদোর আবার কখনও বা বেলের হেড। সের্খিও রামোস অভ্যাসবশত ৯২ মিনিটে হেডে গোল করেও ফেলেছিলেন, কিন্তু অফসাইডে ছিলেন বলে বাতিল হয় গোল। আর তার আগে ব্রাজিলীয় মার্সেলোর বাঁপায়ের শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট। ঘরের মাঠে আরও কষ্ট বাড়ত আনসেলোত্তি ও বায়ার্ন মিউনিখের, ৬০ মিনিট থেকেই যাদের খেলতে হয়েছিল দশজনে, জাভি মার্তিনেসের মতো নির্ভরযোগ্য ফুটবলার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ায়।

    অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের দিকে এক পা এগিয়ে গেলেন রোনালদোরা, আলাদা করে বলাটা বাহুল্যই!

    গুরু আনসেলোত্তিকে অবশ্য তাঁর ঘরে গিয়েই গুরুদক্ষিণা দিয়ে এলেন জিনেদিন জিদান!

    অন্য দুই ম্যাচে


    মোনাকো নিশ্চিতভাবেই পা রেখে ফেলল সেমিফাইনালে। বোরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ফুটবলাররা বোঝালেন, গত মঙ্গল-রাতে তাঁদের বাসের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনা এখনও ছাপ ফেলে রেখেছে তাঁদের মনে। ঘরের মাঠেই তাঁরা হেরে গেলেন ২-৩। শুধু জয় নয়, অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে তিনটি গোলও নিয়ে ফিরছে মোনাকো।

    অন্য ম্যাচ নিয়ে সংশয় থেকেই গেল। আতলেতিকো দে মাদ্রিদের রক্ষণাত্মক রেকর্ড যত ভালই হোক না কেন, ১-০ ‘লিড’ নিয়ে নিজেরা যখন অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে যাবেন, সংশয়ের কাঁটা খচখচ করবেই। লেস্টারের বিরুদ্ধে একমাত্র গোল গ্রিজমানের, পেনাল্টি থেকে। ঘরের মাঠে লেস্টার এবার ১-০ জিতলেই অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে খেলা। ইউরোপে সেমিফাইনাল অসম্ভব দূরত্বে নয় লেস্টারের, প্রথম মরসুমেই !

    No comments