• Breaking News

    সোনির গোলে খেতাবের আরও কাছে মোহনবাগান - শান্তনু ব্যানার্জি

    শান্তনু ব্যানার্জি - সেই সোনি নর্দে, আবার! ঠিক যখন দরকার, কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দিলেন। আর, মোহনবাগানকে নিয়ে গেলেন আই লিগ জয়ের মোহনার দিকে।
    মিনার্ভা পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগেই মোহনবাগান জেনে গিয়েছিল, চার্চিল ব্রাদার্সকে ৩-১ উড়িয়ে এগিয়ে গিয়েছে আইজল এফসি। তিন পয়েন্ট না পেলেই নেমে আসতে হবে শীর্ষস্থান ছেড়ে। সুরিন্দর সিং-এর প্রশিক্ষণে মিনার্ভা যথেষ্ট বেগ দিলেও শেষ পর্যন্ত আটকে রাখতে পারল না মোহনবাগানের বিজয়রথ। ২০১৫ সালের এক বছর পর আবারও লিগজয়ের দিকে প্রবলভাবে ধাবমান এখন পালতোলা নৌকো।
    বাংলা নতুন বছরের প্রথম সন্ধেয় মোহনবাগানকে মাঠে অবশ্য বেশ বেগ পেতে হল জিততে। সুযোগ তৈরি হল, নষ্ট হলও প্রচুর। আবার মিনার্ভাও গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেও কাজের কাজ করে উঠতে পারল না বলে চাপ বাড়াতে পারল না সঞ্জয় সেনের দলের ওপর। সব করেও গোল না পেলে যা কখনও করা সম্ভব নয় ফুটবলে।
    ক্লান্তি ধরা পড়ছিল মোহনবাগানের খেলায়। একে তো ভারতজুড়ে ঘুরে ঘুরে খেলা, তার ওপর খেতাব জয়ের দৌড়ে থাকার চাপ। লুধিয়ানায় আবার ম্যাচের আগের দিন ভরদুপুরে অনুশীলনের ক্লান্তি। বেশ কিছু মিস পাসও দেখা গেল। যে ছন্দ সচরাচর দেখতে অভ্যস্ত সবুজমেরুনের খেলায়, পাওয়া যায়নি। তারই মধ্যে সিমরনজিতের শট যেভাবে পোস্টে লেগে ফিরে এসেছিল, পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ভাগ্যদেবীর যতটুকু সহায়তা জরুরি, আছে মোহনবাগানের সঙ্গেই।
    এমনকি, ম্যাচের মাঝে আলো নিভে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল, যা উত্তরোত্তর চাপ বাড়িয়েছিল বাগানের ফুটবলারদের ওপর। গুরু নানক স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট নিভে যাওয়ায় মিনিট পনের মাঠেই অপেক্ষা করতে হয়েছিল ফুটবলারদের। গোল হয়নি তখনও। সময় যাত এগোচ্ছিল, চাপ ক্রমশ চেপে বসছিল ফুটবলারদের মনে।
    গোল ৮৪ মিনিটে। স্যাং মিন কিম থাকায় অফসাইডের ফাঁদে পড়তে হয়নি সোনিকে। বল নিয়ে একাই সামনের ফাঁকা জমি ধরে এগিয়ে মিনার্ভার গোলরক্ষক অর্শদীপকে পরাস্ত করেন, নিশ্চিত করেন তিন পয়েন্ট। আর গোল করেই কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে যেভাবে লাথি মেরেছিলেন সোনি, বোঝা সহজ, ঠিক কতটা চাপে ছিলেন সোনিরা। ডাফি, প্রীতম কোটাল, পিন্টু মাহাতো এমনকি সোনিও আগে-পরে বেশ কয়েকবার নিশ্চিত গোলের সুযোগ হারিয়েছিলেন, যে-কারণে ব্যবধান বাড়েনি।
    লিগের শেষপর্বে এসে মোহনবাগানের ভারতভ্রমণের পালা এখন। শিলিগুড়িতে ইস্টবেঙ্গল, শিলংয়ে লাজং, লুধিয়ানায় মিনার্ভার পর আইজলে গিয়ে আইজল এফসি-র বিরুদ্ধে খেলা। তার মাঝে আবার একটি ম্যাচ আছে কলকাতায়, এএফসি কাপে মাজিয়ার বিরুদ্ধে ১৯ এপ্রিল, রবীন্দ্র সরোবরে। কিন্তু, সেই ম্যাচ নিয়ে আদৌ কি এখন আর ভাবতে রাজি হবেন কোনও মোহনবাগান সমর্থক?
    ২২ এপ্রিল আইজলে খালিদ জামালের দলের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের খেলা এখন প্রায়-ফাইনাল। যদি ড্র হয়, মোহনবাগান এগিয়ে যাবে। হারলে পিছিয়ে পড়বে দৌ্ড় থেকে।
    আর ২২ এপ্রিল আইজলকে হারালে? সেই দিনই নিশ্চিত হয়ে যাবে, ২০১৭-র আই লিগ খেতাব মোহনবাগানেরই!

    No comments