• Breaking News

    আবার চ্যাম্পিয়নস লিগ, বার্সেলোনা-পিসভি মঙ্গল-রাত ১০-২৫ । কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য
    বিশ্বকাপ চার বছর অন্তর। চ্যাম্পিয়নস লিগ কিন্তু প্রতি বছর!
    ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের এই লড়াই আরও আকর্ষক। ক্লাবে পছন্দমতো ফুটবলার পাশে পাওয়া যায়। ‘কিনে’ নেওয়া যায় প্রয়োজনে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার সুযোগ, অনুশীলনের সুযোগ। পারস্পরিক বোঝাপড়া অনেক বেশি। নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে খেলা। ম্যানেজাররা রোজ সুযোগ পান ঘষামাজা করে মনের মতো দল গড়তে। পরীক্ষা সম্ভব খেলার ধরন নিয়েও। আর, প্রায় সব জায়গাতেই দক্ষ ফুটবলারের উপস্থিতি। ফলে, অনেক বেশি উত্তেজক, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলকও। জাতীয় দলের খেলায় যা সম্ভবই নয়!
    সরকারিভাবে বার্সেলোনার অধিনায়ক হিসাবে চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ প্রথম ম্যাচ মেসির 
    চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে উৎসাহও তাই অনেক বেশি।
    ২০১৮-১৯ উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের (ইউসিএল) গ্রুপপর্ব শুরু মঙ্গলবার। প্রথমেই গ্রুপ বি-র দুটি খেলা। কাম্প নু-তে বার্সেলোনার সামনে পিএসভি আইন্দোভেন, সান সিরোয় ইন্তার মিলানের মুখোমুখি টটেনহ্যাম হটস্পার। এবারের ইউসিএল-এ সামান্য পরিবর্তন সময়ে। গত বছর পর্যন্তও ইউসিএল মানেই ছিল রাত ভারতীয় সময় রাত সোয়া বারোটায়। নভেম্বরের শেষ থেকে মার্চের শেষ পর্যন্ত তা এক ঘণ্টা পিছিয়ে যেত, যা এবারও যাবে, ইউরোপীয় ঘড়ির নিয়মানুযায়ী। কিন্তু, এবার প্রতি ‘ম্যাচ ডে’-তে গ্রুপ লিগে দুটি করে ম্যাচের সময় এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সময়ানুসারে রাত দশটা পঁচিশে শুরু প্রথম দুটি ম্যাচ। বাকি ম্যাচগুলি রাত সাড়ে বারোটায়। যেমন, লিভারপুল বনাম পিএসজি দেখতে একটু বেশি জাগতে হবে, সাড়ে বারোটা থেকে।

    বার্সেলোনা
    টানা তিনবার ইউরোপ-চ্যাম্পিয়ন রেয়াল মাদ্রিদ। লা লিগা খেতাব গতবারও এসেছে ঘরে। কিন্তু, কোয়ার্টার ফাইনালে অবিশ্বাস্য হার রোমার কাছে। নিজেদের মাঠে ৪-১ জিতে খেলতে গিয়েছিল রোমে, হেরেছিল ০-৩। অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে বিদায় ইউরোপের প্রথম আট থেকে। বাড়িতে বসে দেখা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিক ইউসিএল-এ।
    জিনেদিন জিদানের ম্যানেজারিতে রেয়াল লক্ষ্য স্থির রেখেছিল ইউরোপে। বার্সেলোনা একই সঙ্গে লা লিগা এবং ইউসিএল নিয়ে ভাবতে গিয়ে খেই হারিয়েছিল একটি ম্যাচে, নকআউটে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার কি বার্সেলোনা পারবে ২০১৫ সালের পর আবার ইউরোপ-সেরা হতে?
    ২০১৯ সালের ১ জুন, আতলেতিকো মাদ্রিদের ঘরের মাঠে ফাইনাল আপাতত অনেক দূর। কিন্তু সেই ফাইনালের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ মঙ্গলবার।

    বার্সেলোনার ওলন্দাজ-ঐতিহ্য
    শব্দটা এখন ব্যবহৃতই হয় না প্রায়। ‘ওলন্দাজ’। ক্রমশ আমরা স্বচ্ছন্দ হয়ে পড়ছি ইংরেজি ‘ডাচ’ শব্দে। নেদারল্যান্ডসের নাগরিকরা বাংলায় ওলন্দাজ। বার্সেলোনার সঙ্গে ওলন্দাজদের সম্পর্ক দুর্দান্ত। জোহান ক্রুয়েফকে দিয়ে শুরু। জোহান নিসকেনস, রোনাল্ড কোয়েম্যান, ফ্রাঙ্ক ডে বোয়ের, ফিলিপ কোকু, প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট, মার্ক ওভারমার্স, এডগার ডাভিডস, জিওভান্নি ফন ব্রঙ্কহর্স্ট – এই ধারা মেনে এখন বার্সেলোনায় আছেন গোলরক্ষক জেসপার সিলেসেন। গত দুটি মরসুমে যিনি কোপে দেল রে-তে নিয়মিত খেলেছেন বার্সেলোনার প্রথম দলে, কিন্তু লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে তিনকাঠির তলায় জার্মান টের স্টেগেনই। পিএসভি-র বিরুদ্ধেও তাই সিলেসেনের প্রথম এগারয় থাকার সম্ভাবনা কম।
    পিএসভি-র কোচ হিসাবে আসছেন মার্ক ফন বমেল। বার্সেলোনার হয়ে দ্বিমুকুট জিতেছিলেন ২০০৫-০৬ মরসুমে, লা লিগা এবং ইউসিএল। কোকুর পরিবর্তে বোমেলই এখন ডাচ চ্যাম্পিয়নদের দায়িত্বে। নিয়মিত বড় ব্যবধানে জিতছে পিএসভি, স্থানীয় লিগে। মেখিকো-র ইরভিনজ লোজানো নজর কেড়েছিলেন ২০১৮ বিশ্বকাপে। ইউরোপীয় দলবদলের বাজারে জোর খবর, লোজানোর দিকে নজর আছে বার্সেলোনার। কাম্প নু-তে এসে লোজানো নিশ্চয়ই চাইবেন নিজেকে এমন উচ্চতায় তুলে নিয়ে যেতে যাতে এই গুজব সত্যি হলেও হতে পারে।

    কী দেখবেন
    বার্সেলোনার দায়িত্বে এরনেস্তো ভালভের্দে, গত মরসুম থেকেই। বার্সেলোনার খেলার ধরনে খুব বেশি বদল হয়নি। কিন্তু, তুলনায় ছোট পাসের ‘বিল্ড আপ’ ছেড়ে প্রয়োজনে ‘ডাইরেক্ট’ হচ্ছেন লিওনেল মেসিরা। পরিবর্তন হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ কোনও অবস্থাতেই ছোট পাস ছাড়া খেলব না এই মনোভাব একসময় জাঁকিয়ে বসতে চেয়েছিল বার্সেলোনার গলায়। জাভি-ইনিয়েস্তা দুজনেই নেই এখন। মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরির ক্ষেত্রে তো বটেই, দুজনেই চেষ্টা করতেন দুই উইং সচল রাখতে, হঠাৎ-হঠাৎ খেলার গতিপথ পাল্টে দিতে একটু বড় পাস বাড়াতে, লাইনের ধার ধরে। সেই বলগুলি নিয়ে দুই সাইডব্যাক আলবা বা আলভেসের উঠে-আসা তখন বৈচিত্র্য বাড়াত আক্রমণে। এখন মেসি যেমন ডানদিক থেকে লম্বা বল বাড়িয়ে দিচ্ছেন বাঁদিক থেকে উঠে-আসা আলবা বা কখনও কুতিনিও বা দেমবেলের জন্য। কখনও বা মাঝখানে এসে ডানদিক থেকে সের্খি রোবের্তোর জন্যও বাড়িয়ে দেন। এই খেলাটা ছেড়ে বেড়নো বার্সেলোনার পক্ষে এই মুহূর্তে অসম্ভব। তাই, একই রকম দেখবেন মঙ্গল-রাতেও।
    পিএসভি-র আক্রমণাত্মক ফুটবলও অনেকটা একই ঘরানার। অবশ্যই সেখানে কোনও মেসি নেই। বা সুয়ারেজ-কুতিনিও-দেমবেলে। নিয়ন্ত্রণে সের্খিও বুসকেতস বা ইভান রাকিতিচও নেই যেহেতু, পিএসভি-র মূল অস্ত্র অবশ্যই প্রতি আক্রমণে দুরন্ত গতি যা সমস্যায় ফেলতেই পারে পিকে-উমতিতির রক্ষণকে।

    সম্ভাব্য ফল
    বার্সেলোনা লা লিগায় এখনও পর্যন্ত চারটি ম্যাচই জিতেছে। মরসুমের শুরুতে স্পেনীয় সুপার কাপেও জিতেছিল সেভিয়ার বিরুদ্ধে। চ্যাম্পিয়নস লিগে ঘরের মাঠে গত পাঁচ বছর অপরাজিত। তাই, পিএসভি-র বিরুদ্ধেও জিতে শুরু করা উচিত। বার্সেলোনা রক্ষণের গোল খাওয়ার প্রবণতা ধরে, সরকারিভাবে নেসির নেতৃত্বে মঙ্গল-রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরুর সম্ভাব্য ফল হতেই পারে বার্সার পক্ষে ৩-১!

    No comments