• Breaking News

    চোট সারিয়ে এবার জাতীয় দলও ভাবনায় ইউজেনিসনের । কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    সাত দিন আর। পঞ্চম হিরো আইএসএল-এর ঢাকে কাঠি আগামী শনিবার। এটিকে বনাম কেরালা ব্লাস্টার্স উদ্বোধনী ম্যাচ, যুবভারতীতে। সন্ধে সাড়ে সাতটায় খেলা এবার, আগের আটটা থেকে আধঘন্টা এগিয়ে আনা হয়েছে সময়, ভক্তরা যাতে মাঠ থেকে ফেরার সুবিধেটাও পেতে পারেন। টেলিভিশন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সুনীল ছেত্রীরা বলতে শুরু করে দিয়েছেন, ‘ফুটবল ভক্ত হয়ে পড়ুন, মাঠে আসুন!’
    চারবারে দুবারের চ্যাম্পিয়ন এটিকে। চতুর্থ বছরটা ভাল যায়নি একেবারে। স্পেন থেকে ইংল্যান্ডে সরে গিয়েছিল দলের ভিত। কোচরা এসেছিলেন। টেডি শেরিংহ্যাম, অ্যাশলে ওয়েস্টউড। দুজনেই ইংরেজ, কিন্তু, এটিকের পারফরম্যান্স বলার মতো হয়নি। এবার আর এক ইংরেজ কোচ দায়িত্বে। স্টিভ কোপেল, যিনি কেরালা ব্লাস্টার্স এবং জামশেদপুর এফসি-তে কোচিং করিয়েছেন। কলকাতায় এবার তিনি। দলেও নতুন মুখ প্রচুর। বিশেষত বিদেশিরা। ঢেলে সাজানো হয়েছে বলাটাই ঠিক।
    মানুয়েল লানজারোতে ব্রুনো, জন জনসন, জেরসন ভিয়েইরা, আন্দ্রে ভিকে, এভেরতোন সানতোস, কালু উচে – আইএসএল-এর ইতিহাসে সফল বিদেশিদের নিয়ে আসা হয়েছে। ইউজেনিসন লিংদো, প্রণয় হালদার, প্রবীর দাস, হিতেশ শর্মা, জয়েশ রানে, বলবন্ত সিং, দেবজিৎ মজুমদাররা আছেন। অনূর্ধ্ব১৭ বিশ্বকাপে যাঁকে নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বেশ হইচই পড়েছিল সেই কোমল থাটালও। কোমর বেঁধেই নেমে পড়েছে এটিকে, গতবারের ব্যর্থতা ভুলিয়ে নতুন শুরুর আশায়।
    অন্যতম প্রধান ভরসা অবশ্যই ইউজেনিসন লিংদো যিনি প্রায় এক বছর পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরছেন, চোট সারিয়ে। বাঁ হাঁটুতে চোট ছিল। এমন চোট যা আগে ফুটবলারদের জীবন শেষ করে দিত। কোচ কোপেলও জানালেন, ‘এখন আর তেমন হয় না। ইউজেনিসন ছন্দে ফিরছে। আমি তাড়াহুড়োয় বিশ্বাসী নই। চেষ্টা করব, খেলিয়ে খেলিয়ে ওকে নিজের সহজাত ছন্দে ফেরাতে।’
    ইউজেনিসন লিংদো

    ইউজেনিসন নিজে আশাবাদী। ‘বহু দিন পর মাঠে নামব আবার। জানি প্রত্যাশা থাকবেই। চেষ্টা করব ছন্দে ফিরতে তাড়াতাড়ি। জানুয়ারিতে এশিয়া কাপ আছে। মাঠের বাইরে এত দিন থাকায় স্বাভাবিকভাবেই ছিটকে গিয়েছি জাতীয় দল থেকে। সব ফুটবলারেরই ইচ্ছে থাকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার। আমারও রয়েছে। দেখা যাক, কত দূর এগোতে পারি।’
    ইংরেজ কোচদের সঙ্গে আইএসএলের সম্পর্ক বিশেষ মধুর ছিল না গতবারের আগে। জন গ্রেগরি গতবার চেন্নাইয়িনকে চ্যাম্পিয়ন করানোর পর চাকাটা ঘুরেছে। কোপেল, যিনি রক্ষণাত্মক ফুটবলের জন্যই খ্যাত, মনে করছেন, ‘ব্যাপারটা নির্ভর করে দলে কেমন ফুটবলার আছে তার ওপর। যদিও দল গড়ার সময় থেকে ছিলাম না, হাতে যা দল পেয়েছি, খুশি। বরাবরই মনে হয়েছে, ভারতের মতো বৈচিত্রপূর্ণ দেশে ফুটবল দল হিসাবে সাফল্য পেতে ধারাবাহিকতা জরুরি। একই দল, একই কোচ, একই রকম পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে অনুশীলন – এগুলো কাজে লাগে। তাই মনে হয়েছিল, তেমন বিদেশি এবং দেশি ফুটবলারদের দলে চাই যারা অন্তত একটা মরসুম হলেও খেলেছে আইএসএল-এ। আপাতত খুশি। এবার, খেলা শুরু হলে বোঝা যাবে।’
    কোপেলের খুশির আরও কারণ, এবার জানুয়ারিতে দলে নতুন মুখ নেওয়া সম্ভব। তাই, প্রথম ম্যাচের প্রথম এগার আর মরসুম শেষের ম্যাচে প্রথম এগারয় বিস্তর ফারাক হতে পারে, তাঁর দাবি। তা ছাড়াও নতুন চ্যালেঞ্জ এবার, তিনটি ‘ব্রেক’। ‘মানসিক ও  শারীরিক দিক দিয়ে ফুটবলারদের সর্বোচ্চ স্তরে খেলার জন্য ধরে রাখাটাই তখন চ্যালেঞ্জ। এমনও সময় আছে যখন কুড়ি দিনের মধ্যে মাত্র একটাই ম্যাচ খেলতে হবে। আইএসএল-এ একসময় প্রতি তিন দিনে একটা করে ম্যাচ খেলেছি। এবার মাঝে এতটা সময় পাওয়ায়, দলের একটি নির্দিষ্ট ঘরানা তুলে ধরতে চাইব। মাঝের সময়গুলোতে কাজ করব সেটা নিয়েই,’ জানালেন কোপেল, কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে।
    প্রাক-মরসুম অনুশীলনের জন্য স্পেনে গিয়েছিল দল। খেলেছিল ইংল্যান্ডেও, ফুলহ্যামের বিরুদ্ধে, যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ইউজেনিসন এবং ব্রাজিলীয় জেরসন ভিয়েইরা। জেরসন বলছিলেন, ‘সবার সঙ্গে মেশার সুযোগ হয়েছে, দল হিসাবে এককাট্টা হয়ে উঠতে পেরেছি বলেই মনে হচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচটা আজ খেলতে পারলেই বোধহয় ভাল হত! কিন্তু, এখনও দিন সাতেক অপেক্ষা। মাঠে নামার তর সইছে না আর। সবাইই মুখিয়ে আছি মাঠে নামতে।’
    প্রথম ম্যাচে আবার এটিকের সামনে কেরালা ব্লাস্টার্স, যাদের কোচ ছিলেন কোপেল একসময়। ‘পুরনো কথা মনে পড়বেই। কেরল বেশ ভাল দল। ফুটবল এমন এক খেলা যেখানে দলের ফুটবলারদের দক্ষতা এবং উৎকর্ষের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। বার্সেলোনা বা রেয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বসেরা দলগুলোকে দেখুন। মাঠে দলের ফুটবলাররা বল পায়ে পেলে চেষ্টা করে সৃষ্টিশীল ফুটবলারদের পায়ে বলটা পাঠিয়ে দিতে যাতে তারা খেলার নিয়ন্ত্রণ রেখে দিতে পারে। আমাদেরও চেষ্টা থাকবে একই রকম।’
    গতবার গোলখরায় ভুগেছিল এটিকে। এবার যাতে তেমন না হয়, খুঁজে খুঁজে স্কোরারদের আনা হয়েছে। আর খেলার ধরন পাল্টানো? কোপেল বলেছেন, ‘ফুটবল বিশ্বজনীন। ইংল্যান্ডে সেরা দল এখন ৪-৩-৩ খেলে, লিভারপুলও পাল্টে নেয় নিজেদের, বিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা বুঝে। একটা সময় ইংল্যান্ডের ফুটবল পুরোটাই ছিল ৪-৪-২ নির্ভর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবই পাল্টে যাচ্ছে। তাই স্পেনীয় কোচ না ইংরেজ কোচ, এ নিয়ে ভাবনা অর্থহীন। দলে যেমন ফুটবলার থাকবে তার ভিত্তিতেই তৈরি হবে খেলার ধরন। আমি কিন্তু গোল পাওয়ার দিকে নজর দিতেই আগ্রহী।’

    No comments