• Breaking News

    স্মিথ-ওয়ার্নারদের কলার-তোলা অকারণ ঔদ্ধত্যের চিহ্নহীন ক্যাহিল । কাশীনাথ ভট্টাচার্য



    কাশীনাথ ভট্টাচার্য
    সুনীল ছেত্রী এবং ব্রেট লি-র সঙ্গে কথা বলেই ভারতে ফুটবল খেলতে আসার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছিলেন টিম ক্যাহিল!
    অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চার-চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন। তাঁর দেশের পক্ষে সর্বাধিক ৫০ গোল,  ১০৭ ম্যাচে। আর, ভারতে আসার আগে ফুটবলারদের চেয়েও বেশি কথা বলেছিলেন ক্রিকেটারদের সঙ্গে, জানালেন নিজেই।
    ‘কার কার সঙ্গে কথা বলেছিলাম? ওয়েস ব্রাউন, তারপর ব্রেট লি, ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ। আর টেক্সট করেছিলাম (সুনীল) ছেত্রীকে। ছেত্রী অদ্ভুত। দুর্দান্ত প্লেয়ার, দেশের অ্যাম্বাসাডর, এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারতকে,’ বললেন টিম, সাংবাদিক সম্মেলনে যাঁর মুখে শুধুই ‘টিম’ বা দলের কথা!
    টিম ক্যাহিল, কলকাতায়। ছবি - আইএসএল

    এভারটনে আট বছর খেলেছেন, যে-কারণে ভারতের ইপিএল-প্রেমী জনতার কাছে ক্যাহিলের পরিচিতি বেশি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের মধ্যে যে স্বভাব-ঔদ্ধত্য দেখতে পাওয়া যায় চলনে বলনে, ক্যাহিল কিন্তু সেই তুলনায় বেশ নম্র এবং ভদ্র। চারটি বিশ্বকাপ এবং ফিফা বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম গোল করার কৃতিত্ব অর্জিত, তবুও। ‘এই কৃতিত্বটা থেকে যাবে। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস নিয়ে আলোচনা হলেই উঠে আসবে আমার নাম। প্রথম গোলটা সমতায় ফিরিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে, দ্বিতীয় গোল পাল্টে দিয়েছিল ম্যাচের পরিস্থিতি। কাজেই কী করে ভুলব!’
    কিন্তু, নিজের চেয়েও বেশি করে বারবার উঠে এল নতুন দেশ এবং নতুন ক্লাবের কথা, জুনিয়রদের কথা।
    ‘জামশেদপুরে এসে এখানকার সুযোগসুবিধা দেখে মুগ্ধ। ঘরের পাশে অনুশীলনের মাঠ। একসঙ্গে সবার থাকার ব্যবস্থা। জিম আছে, সুইমিং পুল আছে। অনুশীলনের পর বিশ্রাম নিয়ে পরে অবসর সময়ে টেবল টেনিস খেলার বন্দোবস্তও। সবচেয়ে বড় কথা, টাটা ফুটবল আকাদেমি সঙ্গেই। বাচ্চারা উঠে আসার জন্য তৈরি হচ্ছে যেখানে। আমরা, সিনিয়ররা পরামর্শ দিতে পারি, নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারি ওদের সঙ্গে যা ওদের কাজে আসবেই। আমাদের দলেও বেশ কয়েকজন জুনিয়র আছে যাদের খেলতে দেখে খুবই ভাল লেগেছে – গৌরব মুখি, মোবাশির রহমান এবং বিশাল দাস। পরিকাঠামোর দিক দিয়ে এতটা এগিয়ে, অন্য কোনও দিকে মন যাওয়ার প্রশ্নই নেই এই চব্বিশ গুণ সাত ফুটবল-সম্পৃক্ত পরিস্থিতিতে। খুব খুশি, এমন কিছুই বোধহয় খুঁজছিলাম,’ জানালেন এক নিঃশ্বাসেই।
    রাশিয়া বিশ্বকাপে বিশেষ খেলার সুযোগ পাননি। নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে মাঠে এসেছিলেন একবারই, পরিবর্ত হিসাবে। তবুও মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বেশ কিছু দেশের বেশ কিছু ক্লাবের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু সব ফিরিয়ে পছন্দ করেছেন ভারতকেই। সঙ্গী ইচ্ছেও, ভারতীয় ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের যতটুকু সম্ভব অবদান রাখা। ‘সুব্রত (পাল) তো আছেই। ভারতের হয়ে বহুদিন খেলেছে, জুনিয়রদের গাইড করার ক্ষেত্রে নিচ্ছে বড় ভূমিকা। দলে আমরা সবাই এক। নেতৃত্ব আসলে পারস্পরিক সম্মান। দলে আমরা শৃঙ্খলা এবং এই পারস্পরিক সম্মানের ওপরই জোর দিচ্ছি সবচেয়ে বেশি। পরস্পরকে সাহায্য করা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য। চেষ্টা করছি ভক্তদের মুখে হাসি ফোটাতে।’
    সুব্রত পাল, কোচ সেজার ও ক্যাহিল। ছবি - আইএসএল

    এই পারস্পরিক সম্মান প্রতিফলিত সুব্রত পালের কথায়। ২০১১ সালে এশিয়া কাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলেছিল ভারত, যে-ম্যাচে ভারতের তিনকাঠির তলায় ছিলেন সুব্রত আর উল্টোদিকে ক্যাহিল যিনি দুগোল করেছিলেন, অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল চার গোলে। সুব্রত জানালেন, ‘ম্যাচটায় ভালই খেলেছিলাম, চার গোল খাওয়ার পরও বলছি। এখনও ওই ম্যাচের ভিডিও দেখি মাঝেমাঝেই। ক্যাহিল আসলে দুর্দান্ত। শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও। ওকে যত দেখছি কাছে আসার পর, আরও ভাল লাগছে। এত বড় ফুটবলার কিন্তু কী দুর্দান্তভাবে মিশে গিয়েছে সবার সঙ্গে। বিশেষত জুনিয়ররা খুবই উপকৃত হবে ওর সান্নিধ্যে।’
    পঞ্চম আইএসএল এবার প্রায় ছ’মাসের। মাঝে বারতিনেক নানা কারণে বন্ধ থাকবে। তা ছাড়াও, ১৮ ম্যাচের লিগকে তত বড় মানতে রাজি নন মরসুমে ৫০ ম্যাচ খেলে-আসা ক্যাহিল। আবার, প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না, নির্বাসিত থাকায়। মাঝে নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ফিরবেন নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলতে, যা জানিয়ে দিয়েছিলেন জামশেদপুরে সই করার সময়ই। আটত্রিশ বছরের ক্যাহিল জানেন, যে-ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সই করেছেন, বয়স মাত্রই দুই। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী, নতুন দেশে এবং নতুন লিগে এসে নিজের জাত চেনাতে।
    খুব ভাল করেই জানেন, ভারতে ঠিক কতটা জনপ্রিয় ক্রিকেট। নিজেও ক্রিকেট-ভক্ত। বলতে ভুললেন না, ‘আজীবন ভক্ত শচীন তেন্ডুলকারের, আর এখন পছন্দ করি বিরাট কোহলিকে। কোহলির সম্পর্কে সব কিছুই জানি, প্রতিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ওকে ফলোও করি। আবেগপ্রবণ, নিজের উঠে আসার দিনগুলো ভোলেনি। খেলাকে ফিরিয়ে দিতে চায় কিছু যা ওকে ভাললাগার অনেকগুলো কারণের অন্যতম।’
    স্টিভ স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নারদের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন ভারতে আসার আগে। কিন্তু স্মিথ-ওয়ার্নারদের কলার-তোলা অকারণ ঔদ্ধত্যের চিহ্ন অন্তত পাওয়া যায়নি প্রথম দিন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ক্যাহিলের খোলামেলা কথাবার্তায়।

    No comments