• Breaking News

    ইস্টবেঙ্গল-বাতিল প্লাজার জোড়া গোলে মোহনবাগান-জয় চার্চিলের । কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    মোহনবাগান - ০  চার্চিল ব্রাদার্স – ৩
                            (সিসে ২১, প্লাজা ৫১, ৫৫)

    জোড়া গোলে ম্যাচের নায়ক প্লাজা। ছবি - ইন্টারনেট
    ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা তাঁকে এই ভূমিকায় দেখতে চেয়েছিলেন চিরশত্রুদের বিরুদ্ধে। লাল-হলুদ ছেড়ে লাল জার্সিতে গিয়ে সবুজ মেরুনের বিরুদ্ধে জোড়া গোল পেলেন উইলিস প্লাজা।  ঘরের মাঠে মোহনবাগানকে দিলেন এবারের আই লিগে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ। আর, দ্বিতীয় স্থান থেকে মোহনবাগানকে সরিয়ে পাঁচ ম্যাচের পর ৯ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল গতবার অবনমনে থাকা চার্চিল ব্রাদার্স। লাজংয়ের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে প্লাজার হ্যাটট্রিকে এসেছিল চার্চিলের প্রথম জয়। এবার দ্বিতীয় জয়ে তাঁর জোড়া গোল। মোট পাঁচ গোল নিয়ে এখন আই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ত্রিনিদাদ-টোবাগোর স্ট্রাইকার।
    প্লাজার জোড়া গোলের অনেক আগে, প্রথমার্ধে ২১ মিনিটে চার্চিলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন গাম্বিয়ার দাওদা সিসে। গোল অবশ্য মোহনবাগান রক্ষণে দলরাজ সিংয়ের ভুলে। তবে সেই গোলের আক্রমণও প্লাজারই তৈরি। তিনিই বল দিয়েছিলেন অনূর্ধ্ব ২২ লামগৌলেন গৌ হাংশিংকে। বক্সে তখন ফিরতি সেন্টারের অপেক্ষায় প্লাজা। হাংশিংয়ের সেন্টার এল, মোহনবাগানের দলরাজ পেয়ে গেলেন মাথায়। কিন্তু দুর্বল হেডে বল পাঠালেন আগুয়ান সিসের পায়ে যিনি গোলে পাঠাতে ভুল করেননি।
    দলরাজ গোটা ম্যাচেই বারবার এমন ভুল করলেন, যেমন, দ্বিতীয় গোলের সময়ও তিনি প্লাজার পাশেই। কিন্তু প্লাজার হেড তাঁর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে যখন গোলে ঢুকছে, শিলটনের কিছু করার নেই। প্লাজার মাথায় বল ফেলেছিলেন এবার ইজরায়েল গুরুং। ডানদিক দিয়ে তাঁর দৌড় বারবারই সমস্যায় ফেলছিল মোহনবাগানের লেফট ব্যাক অভিষেক আম্বেকারকে। কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী মেনে নিলেন, তাঁর দলের রক্ষণ এবং রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডাররা কেউই তেমন ভাল খেলতে পারেননি। ‘এক একদিন হয় এমন। কোনও কিছুই ঠিকঠাক হয় না। কথা বলতে হবে, ভাবতে হবে।’
    দলের তৃতীয় এবং নিজের দ্বিতীয় গোলের সময় প্লাজা অবশ্য আদর্শ স্ট্রাইকারের ভূমিকায়। বাঁদিক থেকে সিসে অনেকটা দৌড়ে বল ধরেছিলেন সিসে। নিখুঁত সেন্টার রাখেন, মোহনবাগান রক্ষণ তখন গড়ের মাঠ! প্লাজা ঝাঁপিয়ে জোরালো হেডে পরাস্ত করেন শিলটনকে, এই ম্যাচের আগেই যিনি মোহনবাগানের হয়ে রেকর্ড করেছিলেন ১০০ ম্যাচে গোল না-খাওয়ার। ইনজুরি টাইমে সিসের দূরপাল্লার শট বারে লেগে বাইরে যায়, ব্যবধান না হলে বাড়ত আরও। ঘরের মাঠে দু-ম্যাচ থেকে সবুজমেরুনের ঘরে এল মাত্র এক পয়েন্ট।
    প্রথমার্ধেই মোহনবাগানের জালে বল পাঠিয়েছিলেন প্লাজা। কিন্তু ৩৮ মিনিটে তাঁর প্রচেষ্টা রেফারি আর বেঙ্কটেশ নাকচ করে দেন ফাউলের অপরাধে। যেমন ৭৯ মিনিটে মোহনবাগানের হেনরি কিসেকার গোলও বাতিল হয় একই কারণে।  মোহনবাগানের আরও সমস্যা হয়ে গিয়েছিল ১৬ মিনিটে সোনি নর্দের শট পোস্টে লেগে বাইরে যাওয়ায়। শুরু থেকেই তাঁকে মাঠে রেখেছিলেন শঙ্করলাল। বাঁদিক দিয়ে নিজের অভ্যাসমতো ভেতরে ঢুকে আসছিলেন যেমন, প্রয়োজনে নিচে নেমেও খেলছিলেন। কিন্তু, চার্চিল রক্ষণে ওয়েন ভাজ, নেনাদ নোভাকোভিচ এবং হুসেইন এলদোর মোহনবাগানের দুই সফল স্ট্রাইকার আসিয়ের দিপান্দা দিকা এবং কিসেকাকে তেমন বিপজ্জনক হয়ে ওঠার সুযোগ দেননি। শঙ্করলাল যেমন বললেন, সোনি তো আর ভগবান নন, মানুষই! 
    সবুজমেরুন রক্ষণে অনেকটা উন্নতি জরুরি যেমন, মাঝমাঠেও। খেলা তৈরি হয়ইনি প্রায়, প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দশ মিনিট বিপক্ষ রক্ষণে চাপ তৈরি করা ছাড়া। সোনি মাঠে আছেন বলে বল পেলেই তাঁর দিকে পাঠাতে হবে, এমন অলিখিত নিয়ম দেখা দিয়েছিল বেশ কয়েকবার। যেন সোনি-ভরসাতেই আই লিগ তরী পেরতে চাইছে মোহনবাগান, মনে হতেই পারে। তেমন কিছু হয়নি চার্চিলের বিরুদ্ধে। উল্টে, বড় ব্যবধানে হেরে গোল-পার্থক্যে গোকুলমের থেকে পিছিয়ে এবং ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগান আপাতত পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ।

    No comments