• Breaking News

    সূর্যকেই ভয় আনন্দের! । কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    সস্ত্রীক বিশ্বনাথন আনন্দ, কলকাতায়। ছবি - গেমপ্ল্যান
    ‘সুর্য (শেখর গঙ্গোপাধ্যায়) আমার সব জানে। বোর্ডে কী কী করতে পারি তা-ও যেমন জানে, বোর্ডের বাইরে কী কী করতে পারি তা-ও। এই প্রতিযোগিতায় সূর্যকেই তাই সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছি,’ জানালেন বিশ্বনাথন আনন্দ।
    ‘আনন্দের বিরুদ্ধে খেলব, এটাই এই প্রতিযোগিতায় আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হতে চলেছে। আমি ওর সঙ্গে থেকেছি বহুবার, বহু প্রতিযোগিতায়। কিন্তু, বিরুদ্ধে খেলিনি কখনও। এবার সেই সুযোগ পাচ্ছি, তা-ও আমার শহর কলকাতাতেই। খুব উত্তেজিত,’ বললেন সূর্যশেখর গঙ্গোপাধ্যায়, বিশ্ব প্রতিযোগিতায় যিনি থেকেছেন আনন্দের ‘সেকেন্ড’ হিসাবে। আনন্দ তো এমনও বলেছিলেন যে, ‘যদি কোনও চাল সূর্য একবার বলে যে দেখে নিয়েছে, আমাদের আর কোনও চিন্তাই থাকত না। জানতাম, সব দিক দেখেশুনেই চালটার কথা বলেছে সূর্য।’
    এই দুর্দান্ত সম্পর্কই এবার কলকাতায় টেবলের দু-পাশে!
    বাঙালির অন্যতম প্রিয় উৎসব ভাইফোঁটার দিন কলকাতায় শুরু হচ্ছে টাটা স্টিল চেস ইন্ডিয়া ২০১৮। আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতা যেখানে খেলবেন বিশ্বের সেরা দাবাড়ুরা। ছ’দিনের এই দাবা-উৎসবে খেলতে হাজির আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হিকারু নাকামুরা ও ওয়েসলি সো, রাশিয়ার সের্গেই কারিয়াকিন, আর্মেনিয়ার লেভন আরোনিয়ান, আজারবাইজানের শাখরিয়ার মামেদিয়ারোভ এবং ভারতের বিশ্বনাথন আনন্দ, সূর্যশেখর, পেন্টালা হরিকৃষ্ণ, বিদিত গুজরাতির সঙ্গে দুই কিশোর তারকা নিহাল সরিন এবং প্রজ্ঞানন্দ রমেশবাবু।
    কলাকাতায় টাটা স্টিল ইন্ডিয়া ২০১৮ দাবা প্রতিযোগিতায় খেলতে হাজির দাবাড়ুরা
    প্রতিযোগিতার দুটি ভাগ। প্রথম তিন দিন চলবে র‍্যাপিড দাবা। প্রজ্ঞানন্দ ছাড়া বাকি দশজনের প্রত্যেকে খেলবেন একে অপরের বিরুদ্ধে, একটি করে গেম। ৯ গেমের পর শীর্ষে যিনি, চ্যাম্পিয়ন। র‍্যাপিড দাবায় এক-একটি গেম চলে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা। অর্থাৎ, দুই প্রতিযোগীর প্রত্যেকে চালের জন্য সময় পাবেন আধঘণ্টা করে। ৯ থেকে ১১ নভেম্বর খেলা চলবে দুপুর দুটো থেকে সন্ধে ছ’টা। প্রতি দিন এক-একজন খেলবেন তিনটি করে গেম।
    একদিন বিশ্রাম দিয়ে ১৩ এবং ১৪ নভেম্বর হবে ব্লিৎজ দাবা। এখানে নিহাল থাকবেন না, খেলবেন প্রজ্ঞানন্দ। প্রত্যেকে দুবার করে খেলবেন এক-একজনের বিরুদ্ধে। মোট ১৮ গেমের লড়াই। এখানে গেম-প্রতি ৫ মিনিট করে বরাদ্দ সবার। অর্থাৎ, এক-একদিনে ন’টি করে গেম খেলতে হবে প্রত্যেককে।
    ক্রিকেটের মতো দাবাতেও এখন তিনটি ফর্ম্যাট। আগে যেভাবে খেলা হত তাকে বলা হচ্ছে ক্লাসিকাল ফর্ম্যাট। তারপর র‍্যাপিড এবং ব্লিৎজ। মেজাজে পুরোপুরিই টেস্ট, একদিন ও টিটোয়েন্টি। শুক্রবার প্রথম খেলায় আনন্দের সামনে ওয়েসলি সো, হরিকৃষ্ণর বিপক্ষে সূর্য, মামেদিয়ারোভ-বিদিত, নাকামুরা-অ্যারোনিয়ান ও নিহাল-কারিয়াকিন।
    ভারতে এমন দাবা প্রতিযোগিতা নিয়মিত হলে আন্তর্জাতিক আসরের সঙ্গে ফারাকটা আরও কমবে বলেই মনে করছেন আনন্দ। ‘দাবা এমনিতেও বেশ জনপ্রিয় ভারতে, যার প্রমাণ পাওয়া সম্ভব এতজন গ্র্যান্ডমাস্টার এবং সেরা একশোয় বহু ভারতীয়র উপস্থিতিতে। দেশে এমন বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ নিয়মিত পেলে আরও ভালই হবে। দাবাও পাল্টাচ্ছে যুগের সঙ্গে নিয়ম মেনে। তাই ক্লাসিকাল ফর্ম্যাটই এখন আর একমাত্র নয়। র‍্যাপিড এবং ব্লিৎজও খেলতেই হচ্ছে সবাইকে। শুধু একধরনের দাবা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না আর,’ বললেন আনন্দ।
    অলিম্পিকে দাবার অন্তর্ভূক্তি নিয়ে প্রথমে সো জানালেন, ‘অনেকেই দাবাকে খেলা হিসাবে ধরতে চাইছেন না, পারস্পরিক শারীরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না বলে। কিন্তু আমরা যারা দাবা খেলি, জানি, সর্বোচ্চ পর্যায়ের শারীরিক স্ট্যামিনা ও মানসিক শক্তি একসঙ্গে কাজে লাগে এখানে। ক্লাসিকাল দাবায় তো ২ থেকে ৬ ঘণ্টা খেলতে হয়। তাই, দাবা অলিম্পিকে এলে ভালই লাগবে।’
     মাসখানেক আগে এই প্রসঙ্গে আনন্দ যা বলেছিলেন, এবারও বললেন তাই-ই। ‘হ্যাঁ, আমাদের একটা দাবা অলিম্পিয়াড হয় আলাদা করে, সেটা দুবছর অন্তর হয় আর অলিম্পিক চার বছর। শীতকালীন হোক বা গ্রীষ্মকালীন, কোনও একটা অলিম্পিকের অংশ হতেই পারে দাবা। কোনওটাতেই আপত্তি নেই।’
    প্রসঙ্গত, কলকাতায় ২৬ বছর পর কোনও প্রতিযোগিতায় খেলতে এসেছেন আনন্দ। আইসিসিআর-এ ২৫০ টাকার টিকিট কেটে ভারতের সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদকে দেখতে আসবেন না কলকাতার ক্রীড়াপ্রেমীরা?

    No comments