• Breaking News

    পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া, কোচের আসনে যেন দু’দিকেই মোরিনিও!

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    cr723

    ইউরো-তে সবাই সামিল ঘর বাঁচাও আন্দোলনে! চূড়ান্ত মধ্যচিত্ততা, যা আরও বেশি করে দেখা যাবে এবার। নকআউটের প্রথম রাতই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। তিন ম্যাচে চার গোল। দুটি ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। একটির ফয়সালা আবার টাইব্রেকারে। সঙ্গে বিরক্তিকর, একঘেয়ে ফুটবল যা কখনও দর্শককে খেলা দেখতে উৎসাহিত করে না। কিন্তু, ইউরোপে সেটাই রীতি!

    শৃঙ্খলার জয়গান গাইতে গিয়ে ফুটবলের টুঁটি টিপে ধরতেই হবে, এই দর্শনের হাতে-গরম প্রদর্শন শুরু ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের দুই দেশকে দিয়ে। ওয়েলস বনাম নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড। গোল হবে, এমন কোনও সম্ভাবনা ছিল না কোথাও। আবার অতিরিক্ত সময়, ভাবতে ভাবতেই আত্মঘাতী গোল। গ্যারেথ বেল সেন্টার রেখেছিলেন গোলমুখে। বিপজ্জনক বাঁক। বিপক্ষের ডিফেন্ডার, যাঁর নামও গ্যারেথ, - তবে, ম্যাকলে – বাঁচাতে গিয়ে নিজের গোলেই ঠেলে দিয়েছিলেন। ব্যস, ঝাঁপ ফেলাই ছিল, তালা পড়ে গেল। বাকি মিনিট পনের বল নিয়ে নাড়াচাড়া হল, ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের নামে। কতক্ষণে রেফারি বাঁশি বাজাবেন, ক্রমশ অধৈর্য দর্শক!

    আশা ছিল ক্রোয়েশিয়া-পর্তুগাল ম্যাচ একটু হলেও আলাদা হবে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো আছেন, নানি-কারেসমা। উল্টোদিকে এই মুহূর্তে মাঝমাঠে বিশ্বের অন্যতম সেরা জুটি মোদরিচ-রাকিতিচ। ক্রোয়েশিয়া দেখিয়েছিল গ্রুপ লিগে, আক্রমণে যেতে ভয় পায় না। রোনালদোরা আবার একটি করে গোল খেয়ে একটি করে শোধ দিয়েছিলেন হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে, একই ম্যাচে তিন-তিনবার। আশা করবেন না-ই বা কেন?

    কিন্তু, মাঠে দেখা গেল চরম শৃঙ্খলা! হঠাৎ যেন দুদিকের দুই বেঞ্চে দুই কোচের নামই হোসে মোরিনিও! গোল আবার কী জিনিস? বলটা গোল, সেটাতে লাথি মারতে হবে জানি, মাঝেমাঝে বিপক্ষের ফুটবলারকেও – ওই পর্যন্তই থাক না! হোসে ফোন্তে রীতিমতো মাড়িয়ে গেলেন রাকিতিচের পা, রেফারি নির্বিকার। অন্য যে কোনও ম্যাচে লাল কার্ড খুব কম শাস্তি, ভিডিও দেখে আরও বড় শাস্তির কথা ভাবতে পারে সংস্থা, রেফারি পাত্তাই দিলেন না বিশেষ। রোনালদোও একবার বিপক্ষের বুটের ওপর বুট দিয়ে মাড়িয়ে যে-ই বুঝলেন রেফারি কড়া পদক্ষেপ নিতেও পারেন, দু-হাত তুলে ক্ষমা চেয়ে ক্রোয়েশীয়র গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে পার পেয়ে গেলেন।

    কৌশল? প্রথম, একমাত্র এবং শেষ কৌশল – গোল খাব না। ক্রোয়েশিয়ার কোচ বলে দিয়েছিলেন আন্তে কাসিচ বলে রেখেছিলেন নিশ্চয়ই, বল পেলে, ফ্রি কিক বা কর্নার থেকে, শুধু তুলে দেবে মান্দজুকিচের জন্য। আর, পর্তুগালের ফেরনান্দো সানতোসের স্পষ্ট কথা, যেখানে রোনালদো, বল দাও ওদিকে, পরের ব্যাপার পরে ভেবো। মানে, রাতজেগে দু’দলের খেলা দেখে কোচরা অন্য কোনও নির্দেশ দিয়েছিলেন, এমন মনে করার কোনও জায়গাই ছিল না!

    কিন্তু, ওই যে বলা হয়, এমন ম্যাচে শেষ পর্যন্ত একক দক্ষতাই পার্থক্য গড়ে দেয়, দিলও। ম্যাচে রোনালদো ছিলেনই না প্রায়। তাঁকে সেভাবে বল ধরতেই দেয়নি ক্রোয়েশিয়া-রক্ষণ। কিন্তু পর্তুগালকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার নায়ক হয়ে গেলেন ক্রিস্তিয়ানোই। ক্রোয়েশিয়া এসেছিল আক্রমণে। পেরিসিচ কীভাবে যে গোলটা মিস করলেন! ফিরতি বল নিয়ে আক্রমণ শুরু পর্তুগালের, নিজেদের অর্ধ থেকে। বলটা পেয়েই রোনালদো বাড়িয়ে দেন মাঝে রেনাতো সানচেজকে। আর ছুটতে শুরু করেন তীরবেগে, ডানদিকের প্রান্ত ধরে। বাঁদিক থেকে একইভাবে উঠছিলেন নানিও। তরুণ প্রতিভা সানচেজ, গায়েগতরে খেলার অযাচিত প্রবণতা সত্ত্বেও, বল নিয়ন্ত্রণ চোখ টানে। মাঝখান দিয়ে উঠতে উঠতে দেখে ফেলেছিলেন, নানিকে পাস দেওয়া সুবিধাজনক। নানি আবার বলটা পেয়ে সময় নষ্ট না করে ক্রস রেখে যান ক্রিস্তিয়ানোর জন্য। সামনে তখন একা গোলরক্ষক সুবাসিচ। অন্য যে কোনও দিন ওখান থেকে গোল ছাড়া অন্য কিছু ভাবাই সম্ভব নয়। ক্রিস্তিয়ানোর শট সোজা সুবাসিচের হাতে লেগে উঠে গেল। ততক্ষণে কারেসমা চলে এসেছেন কাছে। আলতো হেডে বল পাঠালেন জালে। ম্যাচের তখন ১১৭ মিনিট।

    আর গোল হয়নি। ক্রোয়েশিয়া বিদায় নিল, টুকরোটাকরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না-পেরে। পর্তুগাল পৌঁছল পরের পর্বে যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষায় পোল্যান্ড। সেই ম্যাচেও দর্শকদের জন্য অপেক্ষায় হয়ত চূড়ান্ত একঘেয়েমিই!

    No comments