• Breaking News

    অমলতাসের ফুল । শিবতোষ সিংহ

    শিবতোষ সিংহ

    [caption id="attachment_750" align="alignright" width="208"]amald f শিল্পী দেবব্রত ঘোষের তুলিতে। মানস চক্রবর্তী সম্পাদিত সৃষ্টি প্রকাশনের ‘অমল দত্ত’ বইয়ের (১৯৯৯) প্রচ্ছদ থেকে[/caption]

    "বসেন"
    "এ্যাঁ?"
    "বলি বসেন। চা খাইবেন তো?"
    "হ্যাঁ। লাল চা এক কাপ। চিনি ছাড়া।"
    "চিনি দিয়াই খান। ভয় নাই।"

    "হ্যাঁ। তাও ঠিক। আসলে শরীরটা অনেকদিন ঠিক... তবে গতকাল থেকে অনেকটা ভাল, মানে বেশ অনেকটাই ভাল – বুঝলেন?"
    "হুম"
    "আচ্ছা আপনাকে তো..."
    "আমি রাখহরি। বাদলের বাবা।"

    "ও। বাদলের বাবা। কিন্তু বাদলের বাবার কী যেন একটা... না না। কী সব যে ভাবি। দিব্যি দেখছি ... তা দেশে গিয়েছিলেন বুঝি?"
    "ওই"
    "ও। বাদল কই?"
    "এই সময়টায় তো দোকানে মাছি মাইরতে হয়। ও একটুখান ঘুমাইতে গেছে।"
    "দুপুরে ঘুমোতে? ভুঁড়ি হয়ে যাবে তো!"
    "তো হইলেই বা কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হইবো? বানাইবো তো চা।"
    "ওর পায়ে ভাল কাজ আছে। শটেও জোর আছে। হেডটা একটু ভালো করতে পারলে..."
    "কিসুই হইব না"
    "কে বলল হবে না? এ ছেলে ঠিকভাবে তৈরি হলে বড় ক্লাবে খেলবে।"
    "আর ছাড়েন। গরীবের ঘোড়া রোগ ভাল না। একজোড়া বুট কিনে দিতে পারি নাই। যেটা পরে খেলত, আপনার কেনা। মনে পড়ে? আপনি আর কত করবেন?"
    "আরে সে কোনও ব্যাপার না। ওরম কত ছেলেকে কত কী .... ওরা কত কষ্ট করে রোদে জলে খেলবে, আর এটুকু করব না আমরা? পরে যখন দাঁড়িয়ে যাবে তখন সেরম নামডাক। যেখান দিয়ে যাবে, লোক পেছনে দৌড়বে।"
    "ওই স্বপ্ন দেইখ্যাই আপনি গেলেন"
    "গেলাম মানে? বাবু যেদিন প্রথম এলো... এইটুকু ছেলে একটা... খেতে পায় না... রোগা লিকলিকে করছে... কিন্তু বল পায়ে বাঘের বাচ্চা। ময়দানে নিয়ে গেলাম। যে দিন প্রথম ইন্ডিয়া খেলল সেদিন রাতেই আমার বাড়িতে এক হাঁড়ি মিষ্টি নিয়ে এসে হাজির। কেঁদে পা জড়িয়ে ধরল। যত বলি ছাড়, সে আর ছাড়ে না। তারপর প্রবীর, সুদীপ, কালু আরও কত নাম বলব। সব কোথা থেকে কোথায় চলে গেছে।"
    "আর আপনি?"
    "কী আমি?"
    "একখান পুরস্কারও যদি জুটত কপালে।"
    "ধোর্! কে দেবে? ওরা? ফুটবলের কিছু বোঝে? সব তো আখের গোছাতে এসেছে। ফুটবলটা ভালবাসে ক’জন? রোজ বিকেলে এখনও মাঠে যায় কেউ? খোঁজ নিন গিয়ে। আমি কিন্তু রোজ যেতাম। শেষটায় আর পারলাম না বুঝলেন। কিন্তু এখন তো অনেকটা ভাল। আবার যাব। বাদলকে পাঠাবেন। প্র্যাকটিসে ফাঁকি দেওয়া চলবে না।"
    "আপনার চা ঠান্ডা হইয়া গেল। খাইয়া লন।"
    "১৭-য় যুব বিশ্বকাপ। এবারের ছেলেগুলো ভাল। ওরা তো আমায় সুযোগ দেবে না। নইলে দেখিয়ে দিতাম এই টিম নিয়ে কী করা যায়। দুটো উইং একসঙ্গে উঠত। দেখে নেবেন, এই বাচ্চাগুলো একদিন বিশ্বকাপ খেলবেই খেলবে। সবুজ ঘাসের বুকে ইন্ডিয়া লেখা আমাদের এগারোটা আকাশি-নীল জার্সি ছুটে বেড়াবে। একশো তিরিশ কোটির দেশ। কদ্দিন আর পড়ে পড়ে মার খাব আমরা? নাঃ। আর বসে কাজ নেই। শরীরটা যখন একটু ভাল লাগছে অনেকদিন পর... মাঠটা চক্কর দিয়ে যাই একবার। দেখি ছেলেগুলো কী করছে।"
    তারপর সেই মাঝারি চেহারার লোকটা রাস্তা পেরিয়ে মাঠে নেমে কোথায় যেন হারিয়ে গেল।

    "হ। ওই করো গিয়া। জীবনটা মাঠ-মাঠ কইরাই গেল। এহন মরবার পরেও মাঠ লইয়াই থাকো। মইরাও টের পায় না। বোকার হদ্দ একখান। আমার হইসে জ্বালা। ছেলেটারে এত ভালোবাসত ..."
    আক্ষেপ করে বন্ধ দোকানটার সামনে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন রাখহরি।

    1 comment:

    1. পিনাকী চক্রবর্তীJuly 12, 2016 at 11:48 PM

      আশা করবো "ওই" দেশের থেকেও এই লেখাটা পড়া যাবে !!!

      বড় ভালো লাগলো

      ReplyDelete