• Breaking News

    ইউরো ফাইনাল প্রিভিউ: রোনালদো-নানির বিরুদ্ধে দুই ‘বুড়ো’ ফরাসি সাইডব্যাক!

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    ron-nani

    সিআর সেভেন-এর বিরুদ্ধে এজি সেভেন! ইউরো ফাইনালের জনপ্রিয়তম শিরোনাম।

    ব্যাপারটা মাদ্রিদ ডার্বি-তেও নিয়ে যাওয়াই চলে! ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো খেলেন রেয়াল মাদ্রিদে, আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে আঁতোই গ্রিজমান। গত ২৮ মে ২০১৬, মিলানে দুজনে খেলেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে, যেখানে টাইব্রেকারে শেষ পেনাল্টি নিয়ে রেয়ালকে জিতিয়েছিলেন রোনালদো। এবার কি তা হলে বদলা নেওয়ার পালা গ্রিজমানের?

    সোনার বুট জিতেই ফেলেছেন গ্রিজমান, প্রায়-নিশ্চিত। ৬ গোল, দুটি গোলের পাস। রোনালদো এবং নানি, দুজনেরই তিনটি করে গোল আছে, রোনালদোর আবার তিনটি গোলের পাসও। কিন্তু, গ্রিজমানকে ধরতে দুজনের যে কোনও একজনকে হ্যাটট্রিক করতে হবে ইউরো ফাইনালে। কল্পনার সীমানায়ও খানিকটা বাড়াবাড়ি তো বটেই!

    কিন্তু রবিবার পারির স্তাদ দে ফ্রাঁসে-তে কে আর কতগুলো গোল নিয়ে মাথা ঘামাবেন, যদি না গ্রিজমান হ্যাটট্রিক করে ছুঁয়ে ফেলেন মিশল প্লাতিনিকে? রোনালদো বা নানি বা রেনাতো সানচেজের তো চাই ফ্রান্সের চেয়ে একটাই মাত্র বেশি গোল!

    নিজেদের দেশে তরতরিয়ে ফাইনালে পৌঁছন নিয়ে যতই আনন্দের আতিশয্য থাকুক, পর্তুগালের কাছে বেগ পেতেই হবে ফ্রান্সকে। বিপদ আসবে মাঠের মাঝখান দিয়ে যতটা, তার চেয়েও বেশি দু-প্রান্ত দিয়ে। ফরাসি দুই সাইডব্যাক, এভরা আর সাগনার বয়স, একটু নয়, বেশ বেশি। এভরা ৩৫ পেরিয়েছেন, সাগনা ৩৩-এর বেশি। এবার পর্তুগালের দুই ডানা ভাবুন। যথাক্রমে রোনালদো ও নানি। দুজনের গতিই দুর্দান্ত। বল নিয়ে এগোতে ভালবাসেন, সাইডব্যাকদের পেছনে ফেলে। আর এই দুজনকে যদিওবা সামলালেন, মাঝখান থেকে রেনাতো সানচেজ, আঠেরোর যে-যুবককে নিয়ে উচ্ছ্বাস সর্বত্র। এভরা একসময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে রোনালদো ও নানি দুজনকেই পেছন থেকে দৌড়ে উঠে এসে সাহায্য করতেন। ওই দুজনের গতি সম্পর্কে সম্যাক ধারণা প্রিমিয়ার লিগে খেলার কল্যাণে আছে বাকারি সাগনা ও কোসচিয়েলনিরও। গতির যুদ্ধে যে কোনও দিন রোনালদো-নানি পেছনে ফেলতে পারেন এই ফরাসি ডিফেন্ডারদের।

    সিসোকুর জায়গায় মাঝমাঠে কঁতে এবং রক্ষণে উমতিতি-র জায়গায় আদিল রামি ফিরলেও ততটা মজবুত দেখাচ্ছে না ফ্রান্স রক্ষণকে যতটা উজ্জ্বল ‘লেস ব্লুস’ মাঝমাঠ ও ফরোয়ার্ড লাইন। বরঞ্চ, চোট সারিয়ে পেপে ফিরে এলে সেদ্রিক-ফোন্তে-গেরিরোকে সঙ্গে নিয়ে দুর্ভেদ্য ব্যুহ রচনা করতেই পারেন রেয়ালের ডিফেন্ডার।

    ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে হারের দিন মুলারকে ছুঁয়ে লাল কার্ড দেখার ঘটনা তাঁকে কতটা শিখিয়েছিল, প্রমাণ এবার পেপের পারফরম্যান্স। মারকুটে জার্সি-বুট সান্তিয়াগো বের্নাবেউ সাজঘরে রেখেই ফ্রান্সে এসেছেন পেপে, নিশ্চিত! সঙ্গে উইলিয়াম কার্ভালিওর ফিরে আসা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসাবে। গ্রিজমানদের কাজটা আরও কঠিন এখন। দলের নাম হিসাবে জার্মানি যতই বড় হোক, খেদিরা-হামেলসের অনুপস্থিতিতে এতটা সংঘবদ্ধ কখনও দেখায়নি সেমিফাইনালে সোয়াইনস্টেগারদের।

    আসলে কৃতিত্ব তো পর্তুগাল-কোচ ফেরনান্দো সানতোসের, দল থেকে ‘অ্যাডভেঞ্চার’ শব্দটা স্বচ্ছন্দে ছেঁটে ফেলে যিনি আমদানি করেছেন আরও একটি ইংরেজি শব্দ, ‘অর্গানাইজেশন’! শেষ ১৩ ম্যাচে তাঁর পর্তুগাল অপরাজিত। জিতেছে ৯ ম্যাচ, ৪ ম্যাচ ড্র। ওয়েলসকে সেমিফাইনালে হারানোর ম্যাচ বাদে বাকি ৮ ম্যাচ জিতেছেন একগোলের ব্যবধানে। বল-পায়ে রোনালদো-নানি-সানচেজরা যতই দুর্দান্ত হোন, সানতোস তাঁদের সেই স্বাধীনতা দিচ্ছেন না। দেখতে সুন্দর হচ্ছে না পর্তুগাল। ফাইনালে তো উঠছে!

    নিজেদের দেশে ফরাসিরা উৎসবে মত্ত। তাদের খেলায় ৩৪ বছরের শাপমুক্তি, ৫৮ বছর পর আবার জার্মানিকে হারানোর কৃতিত্ব। দেশের মাঠে অবশ্যই গ্রিজমানরা শুরু করবেন ফেভারিট হয়েই। শেষ করতে পারবেন কি?

    অধিনায়ক দিদিয়ের দেশঁর হাতে যেমন একজন জিদান ছিল, জিদানের ম্যানেজারিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী একজন আবার আছেন সানতোসের হাতে – রোনালদো। দেশকে ট্রফি এনে দিতে পারলে লিওনেল মেসির সঙ্গে তর্কের লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারবেন, নিঃসন্দেহে। বারো বছর আগে লিসবনের দুঃখটা রোনালদো আজ প্যারিসে ভুলতে ও ভোলাতে আগ্রহী!

    No comments