• Breaking News

    শামির ৪ উইকেট, ঋদ্ধির ৬ শিকার – বাংলার দাপটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছন্নছাড়া!

    Captureরাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    বাংলার দুই ক্রিকেটারের দাপটে বিদেশে টেস্ট ম্যাচে ভারত দুর্দান্ত জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে, আগে কখনও হয়েছে কি এমন?
    মহম্মদ শামি নিলেন চার উইকেট। ভারতীয় জোরে বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি ৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলস্টোনে পৌঁছতে যুগ্ম দ্রুততম। বেঙ্কটেশ প্রসাদও তাঁর মতোই ১৩ টেস্ট খেলে পেয়েছিলেন ৫০ টেস্ট উইকেট।
    ঋদ্ধিমান সাহা উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে নিলেন ৫ ক্যাচ, সঙ্গে দেবেন্দ্র বিশুকে স্টাম্পিংও করলেন, অমিত মিশ্রর বলে। ইনিংসে মোট ৬ শিকার। ভারতে ঋদ্ধির আগে সৈয়দ কিরমানি ও মহন্দ্র সিং ধোনিরও এক ইনিংসে ৬ শিকার ছিল। কিন্তু ঋদ্ধি পেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজে, যেখানে আগে কোনও উইকেটরক্ষকের এই কৃতিত্ব নেই।
    ভারতের ৮ উইকেটে ৫৬৬ রানে প্রথম ইনিংস ছেড়ে দেওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে মাত্র ২৪৩ রানে গুটিয়ে গেল, ফলো্অন করতে হল, তার পেছনে বাংলার এই দুই ক্রিকেটারের অবদান অনস্বীকার্য। উমেশ যাদবও চার উইকেট পেলেন, অমিত মিশ্রর দখলে বাকি দুই উইকেট। কিন্তু শামির ৪ উইকেট, ঋদ্ধির ৬ শিকার থেকে গেল শীর্ষে।
    দেড় বছর পর মহম্মদ শামি টেস্টে ফিরে এলেন নতুন রূপেও। আগে তাঁর রান-আপ ছিল লম্বা। অনেকটা দৌড়তেন, যে-কারণে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, চোট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আশঙ্কা সত্যিও হয়েছিল। অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল, ক্রাচ নিয়ে হেঁটেছিলেন দিন চল্লিশেক। ফিরে এলেন এবার ছোট রান-আপে। তাঁর বল এখন আরও বাউন্স আদায় করে নিচ্ছে তথাকথিত মরা পিচ থেকেও।
    ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইন আপে ২, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ব্যাটসম্যান তাঁর শিকার। তিনজন আউট উইকেটের পেছনে ঋদ্ধিকে ক্যাচ দিয়ে, চতুর্থজনের ক্যাচ গালিতে রাহানের হাতে। আগে শামি বেশি উইকেট পেতেন বোল্ড বা এলবিডব্লু। অর্থাৎ, গতির সঙ্গে সঙ্গে বল স্কিডও করত, যা অস্বস্তি বাড়াত ব্যাটসম্যানদের। আটকে থাকতেন ওই অপ্রত্যাশিত গতির কারণে। চোট সারিয়ে ফিরে আসা শামিকে দেখা গেল, বল তুলতেও পারছেন, চতুর্থ স্টাম্পের নিশানায়, যা ব্যাটসম্যানকে বাধ্য করছে খেলার চেষ্টায় গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতেও।
    ঋদ্ধি খেলছেন নিজের দ্বাদশ টেস্ট ম্যাচ। ৩১ বছরের ঋদ্ধির কিছু করার ছিল না, ধোনি ছিলেন তাঁর আগে! কিন্তু, ধোনি অবসর নেওয়ার পর যে সুযোগ এসেছে, দুহাতে লুফে নিয়েছেন বাংলার শিলিগুড়ির এই উইকেটরক্ষক। ব্যাট হাতে ৪০ করেছেন। বাংলায় নিয়মিত যাঁরা তাঁকে ব্যাট করতে দেখেছেন, জানেন, আরও বেশি করতেই পারেন ঋদ্ধি। তবে, উইকেটের সামনে ব্যাটিংয়ের সামান্য ঘটতি পু্ষিয়ে দিয়েছেন বড় গ্লাভস হাতে, উইকেটের পেছনে।
    আর, বাংলার এই দুই ক্রিকেটারের হাত ধরে স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ইনিংসে টেস্ট ম্যাচ জেতার দিকে ভারত। ২০০৬-এর পর প্রথম নিজেদের দেশে ফলো অন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩২৩ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ১ উইকেটে ২১। ব্যাট হাতে শতরান পেয়ে বল-হাতে অশ্বিন একটিও উইকেট পাননি প্রথম ইনিংসে। দ্বিতীয় ইনিংসে কি কথা বলবে অশ্বিনের অফস্পিন?

    No comments