• Breaking News

    ইতালির বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে কখনও না-জেতাই জার্মানির বাড়তি প্রেরণা!

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    germ-ita

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই একটাই জায়গা আছে যেখানে জার্মান-সমর্থকরা সমঝে চলেন। ইতালির বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিযোগিতার কোনও ম্যাচে ইতালিকে হারাতে পারেনি জার্মানি। হেরেছে বহুবার। আজ রাতে জোয়াকিম লো-র প্রশিক্ষণে জার্মান ফুটবলারদের নতুন লক্ষ্য তাই,  ইতালি-জয়!

    ব্রাজিলের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ছিল যা জার্মানরা ভেঙে দিয়েছিল ২০১৪ বিশ্বকাপে। তার আগে বিশ্বকাপ বা কনফেডারেশনস কাপে, হারাতে পারেনি কখনও ব্রাজিলকে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে, ব্রাজিলকে ব্রাজিলেই গুনে গুনে ৭ গোল দিয়ে, শেষে ৭-১ জিতেছিল লো-র জার্মানি। ‘মিনেইরাজো’ বলেন ব্রাজিলীয়রা। তেমন কিছু কি হতে পারে আজ, বোর্দো-তে?

    সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না! ইতালি সম্ভবত পাচ্ছে না তাদের সেরা দুই অস্ত্রকে। কানদ্রেভা ও দে রোসি। কানদ্রেভা তো আগের দুটি ম্যাচই খেলেননি, চোটের কারণে। আর দে রোসিকে গত ম্যাচে স্পেনের বিরুদ্ধে চোট পেয়ে বে্রিয়ে আসতে হয়েছিল। ইতালি শিবিরের খবর, কানদ্রেভার হয়ত এই প্রতিযোগিতাতেই খেলার সম্ভাবনা নেই আর। দে রোসিকে নিয়ে দলের চিকিৎসকরা প্রাণপণ খাটছেন, যদি কোনওভাবে খেলানো যায়। তার ওপর, থিয়াগো মোতা কার্ড-সমস্যায় ম্যাচের বাইরে। মনে পড়তে বাধ্য, মিনেইরাও-তে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে পারেননি নেইমার ও থিয়াগো সিলভা!

    তবু, আর যা-ই হোক, যে-ই খেলুন না কেন, ব্রাজিল হবে না ইতালি, নিঃসন্দেহ! মানে, ইতালি কখনও সাত গোল খাবে না! গোলে বুফোঁ আর রক্ষণে বরজাগলি-বোনুচ্চি-কিয়েলিনি। এটা ঠিক যে, স্পেন চার বছর আগে এই ইতালিকেও ৪-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল, বুফোঁরা সেবারও ছিলেন। গোল-করতে-ব্যর্থ হিসাবে পরিচিত স্পেনই যদি চার গোল দিতে পারে, কেন পারবে না জার্মানি, এই প্রশ্ন তোলার লোকও কম নেই।

    হয়ত সেই কারণেই লো-র জার্মানি আত্মবিশ্বাসী। আগে আটবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে হারাতে না-পারার রেকর্ড নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছেন না কোচ লো। ক্রুসরাও জানিয়ে দিয়েছেন, রেকর্ড নিয়ে মোটেও সন্ত্রস্ত নন তাঁরা। রেকর্ড তো অতীত, জার্মান ফুটবল দল বাঁচে বর্তমানে। তাই, সত্তরের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল বা বিরাশির ফাইনাল বা গতবারের ইউরো সেমিফাইনাল যেখানে লো-র প্রায় এই দলকেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন মারিও বালোতেলি, জোড়া গোলে, ওগুলো নিয়ে মাথা ঘামানো অর্থহীন। সেই বালোতেলি এখন ইতালি দল থেকেই অনেক দূরে, মুলাররা এখনও জার্মানির ভরসা।

    আসলে এই রেকর্ডটাই হয়ত জার্মানির সবচেয়ে বড় প্রেরণা এখন। নতুন কিছু করার কথা রোজই তো বলেন আন্তর্জাতিক আসরে কোচ ও ফুটবলাররা। যাদের বারবার হারিয়েছেন তাদের আরও একবার হারানোর চেয়ে যাদের কোনওবার হারাতে পারেননি তাদের হারানোর লক্ষ্যটা সত্যিই কি অন্যরকম নয়? ইতিহাস তো লেখা হয় এমন মুহূর্তগুলোতেই!

    দুই দেশের সংগ্রহে চার-চার করে মোট আট বিশ্বকাপ। ইতালি একবার জিতেছে ইউরো, জার্মানি তিনবার। মানে, আন্তর্জাতিক স্তরের সবচেয়ে বড় দুই ট্রফি আছে দু-দেশের কাছে মোট বারোটি! ইউরোপে এর চেয়ে বড় ম্যাচ অসম্ভব। আর কোনও দেশ সাফল্যে এই দুই দেশের কাছাকাছিও আসতে পারবে না। ফলে, বোর্দোর ম্যাচ ঘিরে আশার পারদ চড়ছে ক্রমশ।

    দুই দলই মাঝমাঠে পাঁচজনকে খেলায়, নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বিপক্ষকে। জার্মানরা অধুনা পাসিং ফুটবল খেলে, মাঝমাঠে বিল্ড-আপ থাকে, অতীতের জার্মানি দলে যা ছিল না কখনও। আন্তোনিও কোন্তের ইতালি কিন্তু রক্ষণে লোক বাড়িয়ে ভিড় করে পড়ে থাকার পথে নেই। দুই প্রান্ত ধরে দুই উইং দিয়ে আক্রমণে আসে ক্রমাগত, বিপক্ষ রক্ষণকে ছড়িয়ে দিয়ে মাঝখানে ফাঁকা জায়গা বের করে, দুই স্ট্রাইকারের জন্য। বোয়াতেং-হামেলসকে বাড়তি সতর্ক তাই থাকতেই হবে। মাঝমাঠে খেদিরা ও টোনি ক্রুসকেও, বিপক্ষের হামলা রোখার প্রাথমিক দায়িত্ব যাঁদের।

    জুভেন্তাসের এই রক্ষণ প্রায়-দুর্ভেদ্য মনে হলেও টমাস মুলার কিন্তু আশাবাদী হতেই পারেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই রক্ষণ টপকেই গোল করেছিলেন তিনি, তাঁর বায়ার্ন মিউনিখ হারিয়েছিল জুভেন্তাসকে। ইউরোয় এখনও গোল নেই মুলারের। গোল দিতে শুরু করার জন্য এর চেয়ে ভাল দিন আর পাবেন কি মুলার?

    No comments