• Breaking News

    আই এস এল: ‘এক শহর, এক দল’ মানতে রাজি নন চিমা-এমেকা

    চিমার পরামর্শ, সমর্থন বাড়াতে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়িতে হোম ম্যাচ খেলুক এটিকে। আর এমেকা তুলেছেন, লন্ডনের সাতটা দলের একসঙ্গে প্রিমিয়ার লিগে খেলার সম্ভাবনার কথা!


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    Capture


    এক শহর, এক দল! সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার নাকি এমন একটা ভাবনা আছে, আইএসএল নিয়ে। যেন একটি শহর থেকে দুটি বা তিনটি দল খেললেই ভারতীয় ফুটবলের মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে! তাই আতলেতিকো দে কলকাতা-র পর ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানকে আইএসএল-এ জায়গা দিতে, শোনা যায়, তীব্র আপত্তি তাঁদের বড় কর্তাদের!
    বিতর্কিত এই ব্যাপারে মুখ খুললেন বিদেশি প্রাক্তন-ফুটবলার চিমা ওকোরি। ফেসবুকে নিজের দেওয়ালে দীর্ঘ ‘পোস্ট’ করেছেন। লিখেছেন, ‘যখন বেশ বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে আইএসএল-এ খেলার সুযোগ পেয়েছিল এটিকে, ওদের এক বড় কর্তাকে বলেছিলাম, একটা সময় কিন্তু ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান, কলকাতা ফুটবলের যারা সত্যিকারের মালিক, আইএসএল খেলতে শুরু করবে। তখন এটিকে-র সমর্থন-ভিত্তি আসবে কোত্থেকে? কয়েকটা বছরই কি শুধু একচেটিয়া সমর্থন পাবেন তাঁরা কলকাতার? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, কয়েকটা বছরের পুরো সমর্থন পাওয়াও কি কম? এখন কিন্তু মনে হচ্ছে, সেই সমর্থন উঠে যাওয়ার পথে।
    ‘সময় এসেছে, এটিকে-র এবার জোর দেওয়া উচিত প্রথমে বাংলার ফুটবলের উন্নতির দিকে নজর দেওয়ায়, পরে ভারতীয় ফুটবলের। কয়েকটা ম্যাচ কলকাতায় খেলবে, ভাল কথা। কিন্তু আরও ভাল করবে এটিকে, যদি শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ির মতো পাহাড়ি শহর বা শহরতলিতে কিছু ম্যাচ খেলে। সেখানে পরিকাঠামোর উন্নতি করে কয়েকটা হোম ম্যাচ খেলে সেখানকার ফুটবলপ্রেমীদের সমর্থনও জুটিয়ে নেয়। ওই সব জায়গায় প্রচুর ফুটবলপ্রেমী আছেন, এমন ম্যাচ দেখার জন্য যাঁরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন।
    ‘যদি আইএসএল-এ তিনটি দল তাদের ম্যাচগুলো ঘুরিয়েফিরিয়ে ওই শহরগুলোতে খেলে, ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বর্গ তৈরি হবে নতুন করে।
    ‘যত বেশি বাংলার দল খেলবে ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে, তত উন্নতি হবে পরিকাঠামোর, মানও বাড়বে খেলার।
    ‘দলগুলো নিশ্চয়ই বাংলার ফুটবলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরস্পরের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া বা নতুন জায়গা তৈরির কথা চিন্তা করবে।’
    মোহনবাগানে প্রথম বিদেশি ফুটবলারের এমন যুক্তিপূর্ণ কথায় বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন চিমার দিকে। প্রচুর ‘লাইক’ ও ‘কমেন্ট’ পেয়েছেন চিমা। আর তারই মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মন্তব্যটি করেছেন তাঁর দেশ নাইজেরিয়ার আর-এক প্রাক্তন ফুটবলার এমেকা ইউজিগো, কলকাতা থেকেই যাঁর উত্থান দেখেছিল ফুটবল-বিশ্ব, পৌঁছে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপের আসরে।
    এমেকার কথায়, ‘এআইএফএফ যে-পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে চিমার দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বজনীন। ফুটবল এমন খেলা, যা সবাইকে কাছে টেনে আনে, দূরে ঠেলে সরিয়ে দেয় না কখনও। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গ থেকে তো পাঁচটা দল খেলতে পারে! অসুবিধা কোথায়, কেনই বা লোকে চিন্তিত? লন্ডনে কতগুলো দল, ভাবুন তো! ক্রিস্টাল প্যালেস, টটেনহ্যাম হটস্পার, আর্সেনাল, চেলসি, ওয়েস্ট হ্যাম, ফুলহ্যাম, চার্লটন অ্যাথলেটিক ইত্যাদি। কোনও না কোনও সময় সব দলই প্রিমিয়ার লিগে খেলছে বা খেলবে, একসঙ্গেই। আর লন্ডনের কয়েক মাইলের মধ্যেই তো ওয়াটফোর্ডও। সূচিটা ঠিকঠাক তৈরি করতে হয়। তা ছাড়াও, প্রতিটি ক্লাবেরই বিরাট সংখ্যক সমর্থক আছে। ফুটবল সত্যিই কোনও বৈষম্য মানে না, বিশেষ শ্রেণীর জন্য একচেটিয়া অধিকারের কথাও বলে না।’
    সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা কি শুনছেন, কলকাতায় খেলে-যাওয়া অন্যতম সেরা দুই বিদেশির কথা?

    No comments