• Breaking News

    কলকাতা ফুটবলের ডায়মন্ড কোচ অমল দত্ত প্রয়াত

    কলকাতা ফুটবলের ডায়মন্ড কোচ অমল দত্ত প্রয়াত

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    কলকাতা ফুটবলের ডায়মন্ড কোচ অমল দত্ত প্রয়াত। দীর্ঘ রোগভোগের পর রবিবার নিজের বাগুইআটির বাড়িতে সন্ধে আটটা দশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮৬। সোমবার সকালে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে গণেশ টকির কাছে, পৈতৃক ভবনে। সেখান থেকে রবীন্দ্র সদন। সাধারণ ভক্তরা যাতে এসে তাদের শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যেতে পারেন প্রয়াত ফুটবল প্রশিক্ষককে, সেই জন্য। পশ্টিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আসবেন সেখানেই। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান ক্লাব ঘুরে শেষকৃত্যের জন্য তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে নিমতলা মহাশ্মশানে।
    ১০ জানুয়ারি ১৯৩০ সালে জন্মেছিলেন অমল দত্ত। ২এ শিকদারপাড়া লেনের বাড়িতে কেটেছিল ছোটবেলা। বাবা গণেশচন্দ্র দত্ত, মা সরস্বতী দেবী। ছয় ভাই তিন বোনের পরিবারে অমল ছিলেন সপ্তম সন্তান। সিটি ট্রেনিং স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষালাভ, ম্যাট্রিক পাস করেছিলেন মেট্রোপলিটান স্কুল থেকে। তারপর বিদ্যাসাগর কলেজে বিজ্ঞানে ইন্টারমিডিয়েট।
    ফুটবল খেলা শুরু তারা ফ্রেন্ডস ক্লাবে। লেফট হাফ-এ খেলতেন। সুবার্বন ক্লাবের হয়ে ময়দানে খেলা শুরু। স্পোর্টিং ইউনিয়ন, এরিয়ান হয়ে ইস্টবেঙ্গলেও খেলেছিলেন, সন্তোষ ট্রফিতে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন রেলওয়েজের। ভারতীয় দলে ছিলেন ১৯৫৪ সালের এশিয়ান গেমসে। এ ছাড়াও ১৯৫৪ সালেই আফগানিস্তান ও হংকং সফরে গিয়েছিলেন জাতীয় দলের হয়ে। খেলেছিলেন চতুর্দেশীয় ফুটবল প্রতিযোগিতাতেও, ১৯৫৪ ও ১৯৫৫ সালে।
    মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে মেলবোর্ন অলিম্পিকের জন্য ভারতীয় দলে সুযোগ না পেয়ে খেলা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রচুর কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে পাড়ি দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডে, ফুটবল কোচিং-এর প্রাথমিক পাঠ নেবেন বলে। সেখানে বিখ্যাত ইংরেজ কোচ ওয়াল্টার উইন্টারবটম ও লিটলউডের কাছে প্রথাগত শিক্ষা পেয়ে কোচিংয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে ফিরে এসেছিলেন দেশে।
    কোচিং শুরু ইন্টারন্যাশনাল ক্লাবে, ১৯৫৯ সালে। ১৯৬০-৬২ বি এন আর-এর পর ১৯৬৩-তে বড় ক্লাবে কোচিং প্রথমবার, ইস্টবেঙ্গলে। দুবছর ছিলেন, যদিও কোনও ট্রফি পাননি। বড় ক্লাবে প্রথম ট্রফি কলকাতা লিগ, ১৯৬৯ সালে মোহনবাগানে এসে। ১৯৯৯ পর্যন্ত টানা কোচিং করিয়েছিলেন। মোট ২৯ ট্রফি জিতেছিলেন ক্লাব কোচিংয়ে। মোহনবাগানের হয়ে ১৭ ট্রফি, ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ৯, মহমেডান স্পোর্টিংয়ের ২, টালিগঞ্জ অগ্রগামীর হয়ে একটি ট্রফি। অনূর্ধ্ব ১৯ জাতীয় ফুটবলে ওডিশাকে যুগ্ম বিজয়ী করিয়েছিলেন ১৯৬৯ সালে। সন্তোষ ট্রফিতে সেরা সাফল্য ১৯৮৬ সালে বাংলার হয়ে পাঞ্জাবের কাছে ফাইনালে টাইব্রেকারে হার।
    ভারতীয় দলের কোচ হওয়ার সুযোগ বিশেষ পাননি। তবুও, ১৯৮৬ সালে সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন ভারতকে। আর ১৯৮৮ নেহরু কাপে যদিও ছয় দেশের মধ্যে পঞ্চম হয়েছিল ভারত, পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র স্মরণীয় হয়ে আছে দর্শকদের মনে।
    মোহনবাগানকে ডায়মন্ড সিস্টেমে খেলিয়ে দুর্দান্ত জনপ্রিয় হয়েছিলেন, সাধারণ মানুষ যারা মাঠবিমুখ হয়ে পড়েছিলেন, আবার ফিরে এসেছিলেন ডায়মন্ড মোহনবাগানের খেলা দেখতে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ১৯৯৭-এর ফেডারেশন কাপে ডায়মন্ড মোহনবাগানের বিরুদ্ধে পিকে ব্যানার্জির ইস্টবেঙ্গলের সেই লড়াই স্মরণীয় হয়ে আছে ১ লক্ষ ৩১ হাজার মানুষ দেখতে এসেছিলেন বলে। সেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ১-৪ হারলেও ডায়মন্ড মোহনবাগানের ফুটবল প্রশংসা কুড়িয়েছিল সবার।
    কিংবদন্তী ক্রীড়া সম্পাদক মতি নন্দীর কাছের মানুষ ও প্রিয় কোচ ছিলেন। মতি নন্দীর ৮৫তম জন্মদিনেই মারা গেলেন অমল দত্ত।

    No comments