• Breaking News

    মতি নন্দী ৮৫

    তাঁর ৮৫-তম জন্মদিনে ইউরোর ফাইনাল! বেঁচে থাকলে আজ কী লিখতেন মতি নন্দী, ভেবে নেওয়ার আদর্শ সময়।


    রাইট স্পোর্টস-এর শ্রদ্ধার্ঘ্য কিংবদন্তি প্রবাদপ্রতিম ক্রীড়া সম্পাদককে,


    বাংলা ক্রীড়া সাংবাদিকতা যাঁর হাত ধরে নিয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক বাঁক


    শুভ্রাংশু রায়

    [caption id="attachment_693" align="alignleft" width="185"]mn final মানস চক্রবর্তী সম্পাদিত, দীপ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘মতি নন্দী’ বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে ছবিটি সংগৃহীত[/caption]

    পাটিগণিতের সরল নিয়মে বয়স হত ৮৫।

    ১৯৩১-র ১০ জুলাই জন্মেছিলেন তিনি।

    মতি নন্দী।

    নামই যথেষ্ট।

    পেশাগত পরিচয় সাংবাদিক হলেও মতি নন্দী তাঁর  লেখনীর অসামান্য শিল্পনৈপুণ্যে  সাংবাদিকতার  পরিধিকে অতিক্রম করে সাহিত্যের আঙিনায় নিজের সৃষ্টিকে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সাংবাদিক না সাহিত্যিক কোন পরিচয় মতি নন্দীর ক্ষেত্রে  অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত তা নিয়ে হয়তো প্রশ্ন  তোলা যেতে পারে। কিন্তু যে বিষয়টি  আমাদের আলোচনার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক, সাংবাদিকতার পেশাগত বৃত্তের বাইরে  যেখানে মতি নন্দী একান্তভাবেই  ঔপন্যাসিক  বা গল্পকার সেখানেও মাঠ ময়দানের চরিত্র বা ঘটনা ভীষণভাবে  ভিড় করে আছে। ময়দানের মতিদা তাঁর কলমের নৈপুণ্যে সাদা পাতার ওপর ময়দানি চরিত্র বা ঘটনাকে জীবন্ত করে তুলেছেন। হয়তো কল্পনা মিশেছে। কিন্তু তা কাহিনির বিস্তার এবং বাস্তবকে নষ্ট করেনি বরং তাঁর সাহিত্য সৃষ্টির ক্যানভাসকে আরও রঙিন করেছে।

    মতি নন্দীর গল্প এবং উপন্যাস, দু’চারটি বাদে, মলাটবন্দী অবস্থায় পাঠক বা গবেষকদের কাছে সহজলভ্য। কিন্তু তিনি যে সময় খবরের কাগজে ক্রীড়া সাংবাদিকতা শুরু করেছিলেন, ইন্টারনেট পৃথিবীর আলো দেখেনি। খবরের কাগজের ই-সংস্করণ প্রকাশের প্রশ্নই ছিল না। তাঁর জীবনের সায়াহ্নে যখন খবরের কাগজ বা ম্যাগাজিনগুলির ই-সংস্করণ প্রকাশ হতে শুরু করেছিল, তাঁর কলম প্রাকৃতিক কারণেই সেই শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। তাই ক্রীড়া সাংবাদিক বা ক্রীড়া প্রাবন্ধিক  মতি নন্দীকে কিন্তু আমরা চাইলেও খুব সহজে হাতের কাছে পাই না। আগ্রহীকে এ জন্য দৌড়তে হয় লাইব্রেরিতে। প্রচুর সময় ব্যয় করে, ধৈর্য ধরে ধুলোমাখা পুরোনো কাগজ বা পত্রিকার পাতা ঘেঁটে খুঁজে বার করতে হয় তাঁর লেখা।

    প্রকৃতপক্ষে সেই সময় মতি নন্দীদের হাত ধরে বাংলায় ক্রীড়া সাংবাদিকতায় এক নতুন ধারার সূচনা হয়েছিল। কারন শুধু মতি নন্দী বা তাঁর আনন্দবাজার পত্রিকা নয়, পাশাপাশি যুগান্তর-এর মতো আরও কিছু দৈনিক কাগজে গুরুত্বসহকারে খেলার খবর ছাপা শুরু হয়। বদল ঘটতে থাকে ক্রীড়া সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সংবাদ পরিবেশনের  ভঙ্গি এবং অবশ্যই ভাষার। পরবর্তী কালে, বিশেষত  সাতের দশকে বাংলার জনপ্রিয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসাবে যে নানা ধরনের খেলার পত্রপত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটে তার প্রাথমিক পর্যায়ের প্রস্তুতি কিন্তু ছয়ের দশকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি হিসেবে মতি নন্দীর নিজস্ব কিছু অবদান ছিলই।

    তাঁর মৃত্যুর পর, সাহিত্যিক মতি নন্দীর পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। হয়ত ভবিষ্যতে কোনও দিন তাঁর কপালে জীবনকালে অপ্রাপ্ত পূর্ণ সাহিত্যিকের স্বীকৃতি মিলবে। আজ মতি নন্দীর ৮৫ তম জন্ম দিনে ক্রীড়া দুনিয়ার সবাই ব্যস্ত ইউরো কাপের ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে। এটাই স্বাভাবিক। আজ যদি মতি নন্দী বেঁচে থাকতেন, তাঁর কলম থেকে হয়ত বেরত ফাইনালের আগের মুহূর্তে দুই দলের ফুটবল খেলার ধরন নিয়ে তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ। দুই টিমের কোচের সম্ভাব্য স্ট্র্যাটেজি। কিন্তু তাঁর শরীর পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। তাই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার নির্ণায়ক দিনে আরও বেশি করে মনে পড়ে তাঁর কথা। কী লিখতেন তিনি আজ?

    No comments