• Breaking News

    পানেনকা, সোনালি গোল, বাস্তেন - আগের ১৪ ইউরো ফাইনাল, একঝলকে

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    [caption id="attachment_665" align="alignleft" width="300"]lev yashin ১৯৬০ ইউরোর ফাইনালে দুর্ভেদ্য লেভ ইয়াসিন[/caption]

    রবিবার রাতে পারি (Paris) শহরে ১৫তম ইউরোর ফাইনাল। আয়োজক ফ্রান্স খেলবে পর্তুগালের বিরুদ্ধে। তার আগে, একঝলকে পড়ে নিন আগের ১৪ ফাইনালে কী কী ঘটেছিল –

    ১) ১৯৬০:  সোভিয়েত ইউনিয়ন ২-১ যুগোস্লাভিয়া (অতিরিক্ত সময়ে)

    এই পারি শহরেই হয়েছিল সেই প্রথম ফাইনাল। সেমিফাইনালে আয়োজক ফ্রান্সকে ৪-৫ হারিয়ে যুগোস্লাভিয়া উঠে এসেছিল ফাইনালে। এগিয়ে গিয়েছিল মিলান গালিচের গোলে। শোধ করেছিলেন স্লাভা মেত্রেভেলি। লেভ ইয়াসিনকে আর পরাস্ত করা যায়নি। অতিরিক্ত সময়ে ১১৩ মিনিটে পোনেদেলনিকের গোলে অঁরি দেলাউঁ কাপ সোভিয়েত ইউনিয়নের।

    ২) ১৯৬৪:  স্পেন ২-১ সোভিয়েত ইউনিয়ন

    সান্তিয়াগো বের্নাবেউ-তে রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কোর উপস্থিতিকে কি স্পেন হারতে পারত? খেলার শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল চুস পেরেদার গোলে। সোভিয়েতের হয়ে সেই গোল শোধ করেছিলেন গালিমজিয়ান খুসাইনভ। কিন্তু স্পেনেও তখন ছিলেন লুইস সুয়ারেজ, যাঁর বাড়ানো পাস থেকে মার্সেলিনো মার্তিনেজ করেছিলেন ট্রফি জয়ের গোল।

    ৩) ১৯৬৮: ইতালি ২-০ যুগোস্লাভিয়া (প্রথম খেলা ১-১)

    প্রথম ফাইনালে আর ৯ মিনিট গোল না খেলেই ট্রফি পেত যুগোস্লাভিয়া। কিন্তু, ইতালি গোল শোধ করে। তখন টাইব্রেকার ছিল না। দু’দিন পর ফিরতি ফাইনাল। এবার আজুরি শুরু থেকেই ছন্দে। রোমের স্তাদিও অলিম্পিকো-তে লুইগি রিভা ফিরলেন, পার্থক্য তৈরি হল। বারো মিনিটেই গোল। পরে পিয়েত্রো আনাসতাসির দ্বিতীয় গোল। এখনও পর্যন্ত একমাত্র ইউরো-জয় ইতালির।

    ৪) ১৯৭২: পশ্চিম জার্মানি ৩-০ সোভিয়েত ইউনিয়ন

    ব্রাসেলসে ফাইনাল। জার্ড মুলার দুই অর্ধে দুটো গোল করেছিলেন। খেলা ওখানেই শেষ। তারপর তৃতীয় গোল হার্বার্ট উইমারের। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আগের মাসেই মুলার একা চার গোল করেছিলেন। ফাইনালে তেমন হয়নি আর, রক্ষে!

    ৫) ১৯৭৬: চেকোস্লোভাকিয়া ২-২ পশ্চিম জার্মানি (টাইব্রেকার চেকরা ৫-৩ জয়ী)

    ইয়ান সেলিক ও ক্যারল ডোবিয়াসের গোলে এগিয়েছিল চেকোস্লোভাকিয়া। পশ্চিম জার্মানি তখনও গোলশোধ করতে শেষ মুহূর্তে। ডিয়েটার মুলার আর বার্নড হোলজেনবেইন করেছিলেন ২-২। প্রথম কোনও বড় প্রতিযোগিতার ফাইনালে টাইব্রেকার। প্রথম সাত শটে গোল। প্রথম মিস উলি হোয়েনেসের। এল সেই মুহূর্ত! শেপ মাইয়ারকে ডাইভ দেওয়ার সময় ও সুযোগ দিয়ে আলতো চিপে জালে বল পাঠিয়েছিলেন আন্তোনিন পানেনকা। তারপর থেকে ওই আলতো চিপের পেনাল্টির নাম হয়ে গিয়েছে ‘পানেনকা পেনাল্টি’!

    ৬) ১৯৮০: পশ্চিম জার্মানি ২-১ বেলজিয়াম

    রোমে ফাইনাল। পশ্চিম জার্মানিকে শুরুতেই এগিয়ে দিয়েছিলেন হর্সট হ্রুবেশ্চ। ৭৫ মিনিটে পেনাল্টি পায় বেলডিয়াম। ১-১ করেছিলেন রেনে ফন দারিকেন। কিন্তু আবারও হ্রুবেশ্চ, এবার রুমেনিগের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে। জাপ ডারওয়েলের আস্থার মর্যাদা দিয়েছিলেন জার্মান স্ট্রাইকার।

    ৭) ১৯৮৪: ফ্রান্স ২-০ স্পেন

    প্লাতিনির প্রতিযোগিতা! একা ৯ গোল করেছিলেন ৫ ম্যাচে! তার নবমটি ফাইনালে, ফ্রিকিক থেকে। স্পেনের গোলরক্ষক লুইস আরকোনাদা বুঝতে ভুল করেছিলেন। পরে, দ্বিতীয় গোল ব্রুনো বেওনে-র, প্রতিযোগিতার সেরা ফুটবলার তিগানার পাস থেকে। ফ্রান্সের প্রথম বড় ট্রফি জয়।

    ৮) ১৯৮৮: নেদারল্যান্ডস ২-০ সোভিয়েত ইউনিয়ন

    রাইনাস মিশেলের প্রথম ও একমাত্র ট্রফি, দেশের হয়ে। এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে অবদান দুই সেরা ছাত্রর। রুদ গুলিত ও মার্কো ফন বাস্তেন। সোভিয়েতের গোলরক্ষক রেনাত দাসায়েভ এখনও ভেবে পান না, ওই দুরূহতম কোণ থেকে কী করে গোলে বলটা রেখেছিলেন বাস্তেন! পানেনকার পেনাল্টির পর ইউরো ফাইনালে আবারও মনে রাখার মতো গোল, হয়ত পানেনকা-পেনাল্টির থেকেও বেশি উত্তেজক, মিউনিখ ফাইনালে।

    ৯) ১৯৯২: ডেনমার্ক ২-০ জার্মানি

    চ্যাম্পিয়নদের খেলারই কথা ছিল না ইউরো-তে। যুগোস্লাভিয়া বাদ, ডেকে আনা হয়েছিল ডেনমার্ককে। তারাই এবার ফাইনালে। ২০১৬য় ওয়েলস বা আইসল্যান্ডের চেয়ে কম বড় রপকথা নয়। গোটেনবার্গে ফাইনালে জার্মানিই ফেভারিট। জন জেনসেন আর কিম উইলফোর্টের গোল। তিনকাঠির তলায় পিটার স্মাইশেল দুর্ভেদ্য!

    ১০) ১৯৯৬: জার্মানি ২-১ চেক প্রজাতন্ত্র (অতিরিক্ত সময়ে, গোল্ডেন গোল)

    প্যাট্রিক বার্জারের পেনাল্টিতে পিছিয়ে ছিল জার্মান, ওয়েম্বলি ফাইনালে। খেলা শেষ হওয়ার ২১ মিনিট আগে মাঠে আসেন অলিভার বিয়েরহফ। এসেই গোল, ১-১, খেলা গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। ৯৫ মিনিটে এল সেই মুহূর্ত। প্রথম সোনালি গোল, সেই বিয়েরহফেরই। জার্মানির তৃতীয় ট্রফি।

    ১১) ২০০০: ফ্রান্স ২-১ ইতালি (অতিরিক্ত সময়ে)

    আবারও সোনালি গোল। এবার দাভিদ ত্রেজেগুয়ে-র। ইতালি এগিয়েছিল মার্কো দেলভেচ্চিওর গোলে। সমতা ফিরিয়েছিলেন সিলভাইন উইলতর্দ। রটারড্যাম ফাইনালে তারপর ত্রেজেগুয়ের অমরত্ব, পিরেসের পাস থেকে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জেতার দু’বছর পর ইউরোও জিতলেন জিদানরা।

    ১২) ২০০৪: গ্রিস ১-০ পর্তুগাল

    লিসবনে ফাইনাল। আয়োজক পর্তুগালের বিরুদ্ধে গ্রিস, গোটা প্রতিযোগিতায় যাদের নেতিবাচক ফুটবল সমালোচনার কারণ হয়েছিল। লুইস ফিগোর দল গ্রুপ লিগে হেরেছিল গ্রিসের কাছেই। ফাইনালেও হার ওই ০-১। অ্যাঞ্জেলস কারিস্টিয়াসের হেডে, কর্নার থেকে। স্বপ্নভঙ্গ ফিগো-দেকো ও তরুণ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। নিজেদের দেশের মাটিতে।

    ১৩) ২০০৮: স্পেন ১-০ জার্মানি

    ভিয়েনায় নায়ক ফেরনান্দো তোরেস। তাঁর একমাত্র গোলে হার জার্মানির আবার। স্পেন-যুগ শুরু, জাভি-যুগ শুরু। লুইস আরাগোনেসের দল ইতিহাস লিখেছিল ৪৪ বছর পর। আর বড় প্রতিযোগিতায় ২৪ বছর পর পেরিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। ৩৩ মিনিটে তোরেসের গোল আর শোধ করতে পারেনি জোয়াকিম লো-র জার্মানি।

    ১৪) স্পেন ৪-০ ইতালি

    KIEV, UKRAINE - JULY 01:  Spain players and coaching staff celebrate with the trophy following victory in the UEFA EURO 2012 final match between Spain and Italy at the Olympic Stadium on July 1, 2012 in Kiev, Ukraine.  (Photo by Alex Grimm/Getty Images)

    এত একপেশে, তবু এত ভাল ফুটবল ইউরো ফাইনালে কমই দেখা গিয়েছিল। জার্মানিকে ২-১ উড়িয়ে ইতালি এসেছিল ফাইনালে। আর দেল বস্কের স্পেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ম্যাড়ম্যাড়ে নিষ্প্রভ ফুটবলের। কিয়েভে ফাইনালে ইনিয়েস্তা অনবদ্য। সিলভা, আলবা, তোরেস আর মাতা-র গোলে ট্রফি। শেষ ২৮ মিনিট ইতালিকে খেলতে হয়েছিল দশজনে, থিয়াগো মোতা আহত হয়ে মাঠ ছাড়ায়। তার আগেই তৃতীয় পরিবর্তনও করে ফেলেছিল ইতালি।

    No comments