• Breaking News

    নিষ্ঠুর ফুটবল, রোনালদোর কান্নায় ভিজল সাঁ দেনি, আবার!

    Captureকাশীনাথ ভট্টাচার্য


    ফুটবল সত্যিই নিষ্ঠুর!
    না হলে, নিজের ও দেশের জন্য সর্বস্ব দিতে প্রস্তুত রোনালদোকে এমন দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়?
    ঘটনা ৮ মিনিটের। রোনালদোর ডান পায়ের তলায় বল। পায়েত এগিয়ে এলেন ট্যাকলে। বাঁ পা দিয়ে বল বের করলেন। ডান পা-য়ের হাঁটু ভাঙল। লাগল রোনালদোর বাঁ হাঁটুতে। চিৎকার করে পড়ে গেলেন রোনালদো, বাঁ হাঁটুতে হাত দিয়ে। তখনও বোঝা যায়নি চোটের তীব্রতা। কিন্তু যত সময় গেল, বোঝা গেল, রোনালদোর পক্ষে কঠিন হয়ে যাচ্ছে ম্যাচে থাকা।
    ১৭ মিনিটে কেঁদে ফেলে শুয়ে পড়লেন মাঠে। তাঁকে ধরে ধরেই নিয়ে যাওয়া হল মাঠের বাইরে। তখনই পরিবর্ত নামানোর ঝুঁকি নিলেন না পর্তুগাল কোচ ফেরনান্দো সানতোস। মাঠের বাইরে সাইডলাইনের ধারে শুশ্রূষা চলল। মিনিট তিনেক পর মাঠে ফিরলেন। একটু দৌড়তেই আবার সমস্যা। শেষে ২৪ মিনিটে রাগে আবার পড়ে গেলেন মাঠে। ভেঙে পড়লেন অঝোর কান্নায়। আর্মব্যান্ড খুলে প্রথমে মাটিতে ছুঁড়ে ফেললেন। পরে পরিয়ে দিলেন নানির হাতে। স্ট্রেচার ডাকতে হল। সেখানেও শুয়ে শুয়ে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে গেলেন রোনালদো। এই ফাইনালটা যিনি জিততে চেয়েছিলেন ভীষণভাবে। এই ফাইনালটা যাঁর জেতা জরুরি ছিল, দেশের হয়ে একটা ট্রফি নিজের নামে লেখার জন্য।
    পায়েতের বিরুদ্দে ফাউল দেওয়া হয়নি। সোশ্যাল নেটওয়ার্কে নানা মত ভেসে এল সঙ্গে সঙ্গেই। ইচ্ছাকৃত মনে তো হয়ইনি, পায়েতের ডান পা ফলো থ্রু-তে লেগেছিল, ওভাবে বাঁ পা বাড়ালে শরীরের ভারসাম্য রক্ষার্থে ডান পা-টা ভাঙতেই হত। তখনই পায়েতের ডান হাঁটু লেগেছিল রোনালদোর বাঁ-হাঁটুতে। আর ফলো-থ্রু মানে ভরবেগের প্রশ্ন থেকেই যায়। ফলে, আঘাত হয়ে দাঁড়ায় গুরুতর। ইংল্যান্ডের গার্ডিয়ান পত্রিকা জানাল, আইটিভি-তে বিশেষজ্ঞদের প্যানেলে ছিলেন রায়ান গিগস ও রয় কিনের মতো দুই প্রাক্তন তারকা, ম্যানচেস্টারে যাঁরা খেলেছিলেন রোনালদোর সঙ্গে। দুজনেই বলেছেন, ফাউলের প্রশ্নই নেই, ইচ্ছাকৃত অনিচ্ছাকৃত তো অনেক পরের ব্যাপার!
    কিন্তু, সিআর সেভেন সমর্থকরা মানবেন কি?
    তাঁরাও তো রোনালদোর মতোই চেয়েছিলেন, দেশকে একটা ট্রফি এনে দিক রোনালদোর পা। আবারও একটি ফাইনালে এবার দুর্ভাগ্যজনক বিদায়, কী করেই বা মেনে নেবেন কেউ? ২০০৪ ফাইনালে নিজেদের দেশে লিসবনে গ্রিসের কাছে হারতে হয়েছিল ১-০। ক্রিস্তিয়ানো তখন ১৭ নম্বর জার্সি পরতেন, ফিগো-দেকোদের ছায়ায় ঢাকা ছিলেন। সেই হার আজও ভুলতে পারেননি, কিছু দিন আগে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন। কেঁদে ভাসিয়েছিলেন সেই দিনও। তবে, সেই না-পারায় ছিল বেদনা। এবার হতাশা। এভাবে ফাইনালের মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে ২৪ মিনিটে, আঘাত পেয়ে, তাঁর মতো অ্যাথলিটকে, মেনে নিতে পারছিলেন না কিছুতেই। স্বাভাবিক।
    13652547_10154199608083820_1759597835_nআরও মিল, ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের সঙ্গে। সেবার আর এক রোনালদো ছিলেন, ব্রাজিলের। ফাইনালের আগে অজানা এক রোগে তিনি আক্রান্ত। ঘরেই দাঁত-কপাটি লেগে গিয়েছিল। বিপক্ষে সেই ফ্রান্স, খেলা সেই সাঁ দেনি-তে, ফাইনাল। রোবের্তো কার্লোস, তাঁর সেই বিশ্বকাপের রুমমেট বিবিসি-কে বলেছিলেন, অচৈতন্য হয়ে গিয়েছিলেন রোনালদো। তিনি তো ভেবেছিলেন, বোধহয় মারাই গিয়েছেন। জিভটা ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল। ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে তিনি ডেকে এনেছিলেন দলের ডাক্তারকে। কোনও রকমে জ্ঞান ফিরিয়ে সোজা হাসপাতালে। ফাইনালে যখন দুই দলের ফুটবলারদের নাম জানানো হয়েছিল, প্রথমে নাম ছিল না প্রথম এগারোয় রোনালদোর। পরে, টিমলিস্ট বদলানো হয়। রোনালদো একেবারেই খেলতে পারেননি। জিদান অসাধা্রণ সেই ফাইনালে, দুটো গোল। ফ্রান্স ৩-০ জিতেছিল। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ এখনও, ফ্রান্সের। দেশের মাটিতেই।
    ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের রোনালদোর কী হয়েছিল, রোনালদো কেউই ঠিকঠাক জানেন না। ২০১৬ সালে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর কী হল, সবাই দেখলেন, চোখের সামনে বা টিভির পর্দায়।
    এক যুগের ব্যবধানে দু-দুটো ফাইনাল থেকে একইভাবে কেঁদে বেরিয়ে যেতে হল রোনালদোকে, আবার ১৬ বছরের ব্যবধানে দুই রোনালদো একই রকম প্রভাবহীন থেকে গেলেন দুটি ফাইনালে। ফ্রান্সে ফাইনাল হলে রোনালদোদের বোধহয় এমনই নিয়তি!

    No comments