• Breaking News

    টানা সপ্তম জয়, ‘ভারত দা পুত্তর’ বিজেন্দরের চোখে জল!

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    [caption id="attachment_791" align="alignleft" width="300"]vijender-singh-kerry-hope-1607-2016 এভাবেই  বারবার হোপের  ‘আশা’ শেষ হল বিজেন্দরের ঘুসিতে! ছবি সৌজন্য - টুইটার[/caption]

    দিল্লিতে ‘বারিশ’ হচ্ছে। ‘আজ শাম দিল্লিমে মুক্কোঁকি বারিশ করনেকি পুরি কোশিস করুঙ্গা’, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন টুইটারে। সেই প্রতিশ্রুতি রাখলেন বিজেন্দর সিং বেনিওয়াল!

    ঘরের রিংয়ে ঘরের ছেলেই চ্যাম্পিয়ন! দেশের মাটিতে প্রথমবার লড়লেন পেশাদার বক্সার বিজেন্দর। নিজের সপ্তম লড়াইতে প্রথমবার প্রতিপক্ষকে নকআউট করতে পারলেন না। কিন্তু, জিতলেন টানা সপ্তম লড়াই। এবার অস্ট্রেলীয় কেরি হোপের বিরুদ্ধে, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে, ৯৮-৯২, ৯৮-৯২ ও ১০০-৯০ পয়েন্টে, তিন বিচারকের কাছে। পেলেন ডব্লুবিও এশিয়া প্যাসিফিক সুপার মিডলওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ খেতাব।

    দিল্লির ত্যাগরাজ স্টেডিয়াম জেগে উঠেছিল ভারতের প্রথম পেশাদার বক্সিং লড়াই দেখতে। হরিয়ানার বিজেন্দর ভারতকে আগেও বহু সম্মান এনে দিয়েছিলেন অপেশাদার বক্সিংয়ে। যার মধ্যে শীর্ষস্থানে অবশ্যই ২০০৮ বেজিং অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক। তারপর সোনাও জিতেছিলেন ২০১০ এশিয়াডে, গুয়াংঝাউ-তে। কমনওয়েলথ গেমসে দুটো রুপো, একটি ব্রোঞ্জ। ২০০৯ মিলানে মিডলওয়েট বিভাগেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ব্রোঞ্জ পদক এনেছিলেন।

    ২৯ অক্টোবর ১৯৮৫ সালে জন্ম। তিরিশ বছর পূর্তির আগে, ২০১৫ জুনে ঘোষণা করেছিলেন, পেশাদার হবেন। ভারতীয়দের একাংশ যদিও তাঁর এই সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারেননি। অলিম্পিক এবং এশিয়াডে আর অংশ নিতে পারবেন না পেশাদার হওয়ার ফলে, এই কারণে অনেকেই চেয়েছিলেন, বিজেন্দর অপেশাদার থেকে যান। তা ছাড়াও আশঙ্কা ছিল যে, পেশাদার বক্সিংয়ের ঝক্কি নিতে কি পারবেন বিজেন্দর? বেশি ঝুঁকি হয়ে যাচ্ছে না কি? ১৩ মাস ও টানা সাতটি পেশাদার লড়াইয়ে জেতার পর বিজেন্দরকে নিয়ে আর কোনও সংশয়?

    সনি হোয়াইটিং, ডিন জিলেন, সামেত হিউসেইনোভ, আলেকজান্ডার হোরভাথ, মাতিউজ রোয়ের, অ্যান্ড্রেজ সোলড্রা-র পর কেরি হোপ। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল পাঁচ রাউন্ড লড়াই, ফ্রান্সের মাতিউজ রোয়েরের সঙ্গে। ছ’বার নকআউটের পর এবার দশ রাউন্ডই লড়তে হল। ষষ্ঠ রাউন্ডে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে দেয় বিজেন্দরকে। হোপ অবশ্য লড়াই ছাড়েননি, ডান চোখের নিচে কেটে যাওয়া সত্ত্বেও।

    বিজেন্দরের এই লড়াই দেখেত হাজির ছিলেন বীরেন্দ্র শেহবাগ, রাহুল গান্ধী, রনদীপ হুড়া, সুরেশ রায়না-রা। খেতাব জিতে বিজেন্দর জানালেন, ‘ধন্যবাদ আমার দেশ ও দেশবাসীকে, যাঁরা এভাবে আমাকে সমর্থন জানালেন। ভাবিনি লড়াই দশ রাউন্ড গড়াবে, সত্যিই। গোটা দেশের সাফল্য, আমার নয়। প্রচুর পরিশ্রম করেছি এখানে পৌঁছতে। আবারও করব, নিজের র‍্যাঙ্কিং আরও বাড়াতে। আর আপনাদের এই ভালবাসা পেতে।’ খেতাবি ‘বেল্ট’ কোমরে জড়িয়ে আপ্লুত ‘ভারত দা পুত্তর’ বিজেন্দরের তখন চোখে জল!

    No comments