• Breaking News

    ফ্রান্স কিন্তু ইংল্যান্ড নয়!

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    [caption id="attachment_532" align="alignleft" width="300"]বাঁদিকে ফরাসি গ্রিজমান, ডানদিকে আইসল্যান্ডের জিলফি সিগুর্ডসন। ছবি - টুইটার বাঁদিকে ফরাসি গ্রিজমান, ডানদিকে আইসল্যান্ডের জিলফি সিগুর্ডসন। ছবি - টুইটার[/caption]

    ইউরো হয়েছিল নিজেদের দেশে, ১৯৮৪ সালে। চ্যাম্পিয়ন, অধিনায়ক মিশেল প্লাতিনির দুর্দান্ত খেলায়। ৫ ম্যাচে একাই ৯ গোল করেছিলেন, আজও যা ইউরোয় সর্বকালের সর্বোচ্চ।

    বিশ্বকাপ হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। আবার চ্যাম্পিয়ন, দিদিয়ের দেশঁর নেতৃত্বে, জিনেদিন জিদানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেও। ফাইনালে ব্রাজিলকে ৩-০ হারিয়ে যার মধ্যে দুটি গোল ছিল জিদানের।

    ১৮ বছর পর আবারও একটি বড় প্রতিযোগিতার আসর বসেছে ফ্রান্সে। এবারও অন্যতম ফেভারিট। সূচিতেও খুব বেশি ঝামেলা হয়নি। গ্রুপ পর্যায়ে খেলেছে রোমানিয়া, আলবানিয়া, সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে। প্রি-কোয়ার্টারে রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ড, কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে। হ্যাঁ, ইংল্যান্ড নিজেদের ফুটবলকে আর একটু উন্নত করতে পারলে হয়ত এই ম্যাচটায় আয়োজকদের বিরুদ্ধে খেলতে পারত। কিন্তু, বাছাইপর্বে সব ম্যাচ জেতা আর মূলপর্বে সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখা তো আর এক কথা নয়! ফলে, সহজেই সেমিফাইনালে পৌঁছে যেতে পারে ফ্রান্স। আজ আইসল্যান্ডকে হারালেই।

    আইসল্যান্ড অবশ্যই এই ইউরোর সবচেয়ে বড় রূপকথা। মাত্র তিন লক্ষ ৩০ হাজার মানুষের দেশ, ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে! উত্তর অতলান্তিক আর সুমেরু মহাসাগরের সংযোগস্থলে এই দেশের অবস্থান। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে তারা ৩৫তম! দেশে আগ্নেয়গিরি আর হিমবাহ, দুটো সমস্যা। তা সত্ত্বেও যেভাবে তারা উঠে এসে এই ইউরোকে নিজেদের রূপকথা হিসাবে তুলে ধরেছে, অন্য যে কোনও দেশের উদ্বুদ্ধ হওয়া উচিত। প্রথমবার ইউরোর মূলপর্বে খেলতে এসেই ইউরোপের সেরা আটে জায়গা করে নেওয়া, অভাবনীয়!

    কিন্তু, যেহেতু ফুটবলই মুখ্য, ফ্রান্সকে হারিয়ে আইসল্যান্ড সেমিফাইনালে যাবে, ভেবে নেওয়াটা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দুর্দান্ত দল ফ্রান্সের। বিশেষ করে ওপরের ছ’জন। মাঝমাঠে পল পোগবা, ব্লাইসে মাতুইদির সঙ্গে কন্তে। ওপরে জিরু, গ্রিজমানের পাশে পায়েত। এই আক্রমণ ধরে রাখা কি সম্ভব আইসল্যান্ডের রক্ষণের পক্ষে?

    মেনে নিতে অসুবিধা নেই যে, লার্স ল্যাগেরব্যাক ধুরন্ধর কোচ। সুইডেনের দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন। এখন হেইমির হলগ্রিমসনের সঙ্গে আইসল্যান্ডের দায়িত্বে। জোর দেন রক্ষণে, যা স্বাভাবিক। ৪-৪-২, ল্যাগেরব্যাকের প্রিয় ছক। এখনও তার ওপরই ভরসা করে আছেন। আক্রমণে লং বল, দুরন্ত গতি আর সেট পিস বা লম্বা লম্বা থ্রোগুলো ভরসা। দলের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা বুঝে নিয়ে যা ভাল বুঝেছেন, করেছেন। তাতে তাঁর দল ইউরোপের সেরা আট দেশের মধ্যে স্থান পেয়েছে, আর কী-ই বা চাইতে পারতেন!

    ফ্রান্সের সমস্যা অন্য। আইসল্যান্ড জানে ইতিহাস লিখে ফেলেছে। আর একটাও ম্যাচ না জিতলেও কিস্যু এসে যায় না তাদের। কিন্তু, ট্রফি না জিতলে সন্তুষ্টি কোথায় ফরাসি জনতার? তাই ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি চাপ থাকবে। সেমিফাইনালে জার্মানর বিরুদ্ধে খেলার আগে যদিও সেই চাপ চেপে বসছে না। তবুও সতর্কতা জরুরি। হাল্কা চালে নিতে গিয়ে ইংল্যান্ড ডুবেছে। ফ্রান্স অবশ্য আর যা-ই হোক, ইংল্যান্ড নয়!

    ‘আজুরি’ ইতালি হেরে গিয়েছে। আজ রাতে আরও দুই নীলের যুদ্ধ। ‘লেস ব্লুস’ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আইসল্যান্ড, যাদের নীল জার্সির চাহিদা এই মুহূর্তে বাজারে এত যে, স্পনসর সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে, আর জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। রোজ রোজ যে তৈরি হয় না রূপকথা!

     

    ক্যাপশন – বাঁদিকে ফরাসি গ্রিজমান, ডানদিকে আইসল্যান্ডের জিলফি সিগুর্ডসন। ছবি - টুইটার

    No comments