• Breaking News

    ডেভিস কাপ: ভারতকে ২-০ এগিয়ে দিলেন রামকুমার, সাকেথ

    দক্ষিণ কোরিয়ার দুই খেলোয়াড়ই শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ছেড়ে দিলেন। তাতে কৃতিত্ব একটুও কমছে না ভারতের দুই খেলোয়াড়ের। শনিবার লিয়েন্ডার-বোপান্না জিতলেই ভারত ওয়ার্ল্ড গ্রুপের প্লে অফে।


    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    [caption id="attachment_774" align="alignleft" width="300"]ramkumarramanathanl1 রামকুমার রমানাথন। ছবি - টুইটার[/caption]

    ভারতীয়দের ডেভিস কাপ ইতিহাসে আগে কি কখনও ঘটেছে এমন?

    বিপক্ষের যে দুজন সিঙ্গলসে খেললেন, দুজনেই আহত হয়ে ম্যাচ ছেড়ে দিলেন। শুধু তা-ই নয়, এমন সময়ে ছাড়লেন যখন ভারতীয় দুজন ম্যাচ জেতার জন্য সার্ভ করছেন এবং দুজনেই ওই শেষ গেমে ১৫-১৫ পয়েন্টে! একটাই পার্থক্য, রামকুমার রমানাথনের ক্ষেত্রে চতুর্থ সেটে, সাকেথ মাইনেনির ক্ষেত্রে পঞ্চম সেটে। ডেভিস কাপে দুই অনভিজ্ঞ ভারতীয় অবশ্য প্রথম দিনের শেষেই ‘টাই’ এনে দিলেন ভারতের দিকে। ২-০ এগিয়ে শনিবার লিয়েন্ডার পেজ আর রোহন বোপান্না কোর্টে নামতে পারছেন, যে-ম্যাচ জিতে গেলেই এই ‘টাই’ ভারতের!

    বছর একুশের রামকুমার খেলছিলেন প্রথম ম্যাচ। এটিপি র‍্যাঙ্কিংয়ে ২১৭ নম্বরে থাকা রামকুমারের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সোং চান হোং ম্যাচ ছেড়ে দেন যখন, রামকুমার এগিয়ে ছিলেন ৬-৩, ২-৬, ৬-৩, ৬-৫ (১৫-১৫)। চন্ডিগড় ক্লাবে তখন খুশির ফোয়ারা। ডেভিস কাপে অভিষেকেই সিঙ্গলসে জয়। দ্বিতীয় সেটটা হারালেও রামকুমার নিজেকে ফিরে পেয়েছিলেন তৃতীয় সেট থেকেই। আনফোর্সড এরর কমিয়ে। গত দিন দুই ভারী বর্ষার কারণে ঘাসের কোর্টে সকালবেলা বলই যাচ্ছিল না। হঠাৎ যেন রোলাঁ গারো-র ক্লে কোর্ট মনে হচ্ছিল, যেখানে বল পড়ে হাঁটুর ওপর উঠতেই চায় না। আর শরীরের পুরো শক্তি ব্যবহৃত না হলে প্রয়োজনীয় গতিও সঞ্চারিত হয় না বলে।

    রামকুমার ওই বাড়তি শক্তি আনতে গিয়ে বেসলাইনে দাঁড়িয়ে খেলছিলেন। নেটে আসেননি প্রায়। যখন স্টেফি গ্রাফ খেলতেন উইম্বলডনে, তাঁর তথাকথিত দুর্বল ব্যাকহ্যান্ডকে আক্রমণ করতে চাইতেন উল্টোদিকের খেলোয়াড়। স্টেফির তখন একমাত্র ভরসা ছিল স্লাইসড ব্যাকহ্যান্ড, যা বলের গতি কমিয়ে দিত ঘাসের কোর্টে। কাজে লাগাতেন সেই অনিয়মিত বাউন্সও। রামকুমারের সঙ্গে স্টেফির তুলনা টানা অন্যায় হবে। কিন্তু, অবিকল ওইভাবে ব্যাকহ্যান্ড স্লাইসড শট নিচ্ছিলেন রামকুমার। বিপক্ষকে রুখতে চেয়েছিলেন যাতে আচমকা নেটে উঠে আসতে না পারেন। কিন্তু নিজের ভুলের সংখ্যা এত বেশি হয়ে গিয়েছিল যে দ্বিতীয় সেটে হেরে যান। তৃতীয় সেট থেকে আবার ছন্দে। ২ ঘন্টা ৩৬ মিনিটের লড়াই শেষ হয় চান হোং ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ায়।

    বরঞ্চ সাকেথ যখন খেলতে নামেন, কোর্ট অনেকটাই ঠিকঠাক আচরণ করছিল। বাউন্স পাচ্ছিল বল, খেলতে ততটা অসুবিধা হয়নি। সাকেথকে অবশ্য লড়তে হল নিজের সঙ্গেও। খেলা গড়িয়েছিল পঞ্চম সেটে। ৬-১, ৩-৬, ৬-৪, ৩-৬ হওয়ার পর চূড়ান্ত সেটে ৫-২ এগিয়ে সার্ভ করছিলেন সাকেথ। ১৫-১৫ অবস্থায় ম্যাচ ছেড় দেন দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়এ অভিজ্ঞ ইওং-কিউ লিম। তার আগে চতুর্থ সেটে একই অবস্থা হয়েছিল সাকেথেরও। চোট পেয়ে প্রায় খেলা থেকে সরে যেতে হচ্ছিল। কিন্তু, সাকেথ হার মানেননি। তাই শেষ পর্যন্ত এই তিন ঘন্টা ৯ মিনিটের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছিল দুই খেলোয়াড়ের স্ট্যামিনা ও ইচ্ছাশক্তির। তাতে জিতে গেলেন সাকেথ। আর ভারতকে এনে দিলেন ২-০ ব্যবধান।

    প্রথম ফাইভ-সেটার জিতে কোর্টে জার্সি খুলে ফেলেছিলেন সাকেথ। ভারতীয় দলের বাকি সদস্যরাও দেরি করেননি এগিয়ে এসে তাঁকে কাঁধে তুলে নিতে। সবাই বুঝতে পারছিলেন, লড়াইটা শারীরিক আর ছিল না, মনের জোরে লড়ে যাচ্ছিলেন সাকেথও।

    ডেভিস কাপে এশিয়া-ওসিয়ানিয়া গ্রুপ ওয়ান-এর রাউন্ড টু-তে খেলছে ভারত এখন। এই টাই জিতলে যাবে ওয়ার্ল্ড গ্রুপের প্লে অফে। সেখানে পৌঁছতে বাকি তিনটি ম্যাচের একটি জিতলেই যথেষ্ট। শনিবারই ওয়ার্ল্ড গ্রুপের প্লে অফ নিশ্চিত করে ফেলতে পারেন রিও অলিম্পিকের জন্য ভারতীয় জুটি লিয়েন্ডার-বোপান্না!

    No comments