• Breaking News

    ‘স্বাধীন’ বেল বনাম ‘দলাধীন’ রোনালদো! | কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    [caption id="attachment_591" align="alignleft" width="300"]‘স্বাধীন’ বেল বনাম ‘দলাধীন’ রোনালদো! | কাশীনাথ ভট্টাচার্য ‘স্বাধীন’ বেল বনাম ‘দলাধীন’ রোনালদো! | কাশীনাথ ভট্টাচার্য[/caption]

    শনিবার নাকি বিয়ের দিন ঠিক করে রেখেছেন জো লেডলি!
    নিজেদের ইংল্যান্ড বিদায় নিয়েছে সেই কবে, ব্রিটিশ মিডিয়া এখন পড়েছে তাই ওয়েলস নিয়ে। আর ধুন্ধুমার সেমিফাইনালের আগে খুঁজে বের করেছে খবর, নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডারের ঠিক-করে-রাখা বিয়ের দিন আসলে ফাইনালের ঠিক আগের রাত। উচিত-অনুচিত তর্ক, উচ্চাকাঙ্ক্ষার অভাব ইত্যাদি নিয়ে জ্ঞানগর্ভ ভাষণ – ছেয়ে গিয়েছে ইংরেজ প্রচারমাধ্যমে। এমনকি গ্যারেথ বেলও সেই পরিচিত ফাঁদে পা দিয়ে বলে ফেলেছেন, ‘আমি তো ছুটিতে যাওয়া ঠিক করে রেখেছি ১১ জুলাই, সোমবার!’
    ইউরো শুরুর আগে যদি বোঝাই যেত যে ওয়েলস পৌঁছবে সেমিফাইনালে, এত লেখালেখি হচ্ছে কেন তা হলে? কেনই বা বলা হচ্ছে রূপকথাসম এই দৌড়? বাস্তবসম্মত ছিল না, সেই কারণেই তো? তাই লেডলি-কে দোষ দেওয়া অর্থহীন। আইসল্যান্ড যদি কোয়ার্টার ফাইনালে রোজ পৌঁছয়, ওয়েলস যদি সেমিফাইনালে খেলে প্রতিটি প্রতিযোগিতার, দেশদুটি তো ইউরোপীয় ফুটবলে জার্মানি হয়ে যেত প্রায়!
    ওয়েলস নিয়ে ব্রিটিশ গর্ব উথলে ওঠায় ইংরেজ সংবাদমাধ্যমের প্রচারের ঢক্কানিনাদে খানিকটা পেছনে চলে গিয়েছেন এমনকি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও! পর্তুগিজ অধিনায়ক মনে মনে নিশ্চয়ই ধন্যবাদ দিচ্ছেন ব্রিটিশ মিডিয়াকে। তাঁকে খানিকটা হলেও চাপমুক্ত করে দিয়েছে আপাতত এই বেল-বন্দনা। তাঁর বয়স ৩১, বেলের ২৭। হয়ত নিজের শেষ বড় প্রতিযোগিতায় এমন অযাচিত সুযোগ সামনে রোনালদোর, পর্তুগালকে ফাইনালে টেনে নিয়ে যাওয়ার।
    ২০০৪ নিজের দেশে ফাইনালে পৌঁছনোর জন্য ফিগো-দেকোদের কৃতিত্ব দেয় পর্তুগিজ জনতাই, তার ওপর আবার ফাদার-ফিগার ফেলিপে স্কোলারির উপস্থিতি। রোনালদো তখন বড়ই ছোট। নিজের অধিনায়কত্বে গতবার ইউরো সেমিফাইনালে বিদায়ের মুহূর্তটা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। শেষ পেনাল্টি নিতে চেয়েছিলেন স্পেনের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে। সেই সুযোগই তাঁকে দেননি সতীর্থরা! চতুর্থ পেনাল্টি মিসেই হেরে যেতে হয়েছিল পর্তুগালকে, রোনালদো বসে পড়েছিলেন মাঠে অসহায়। সেই ভুল যাতে দ্বিতীয়বার না হয়, পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম শটটাই নিয়ে গোল করে এগিয়ে দিয়ে যান দেশকে। সহযোদ্ধারা এবার আর ভুল করেননি। স্পেন আর ওয়েলস নিশ্চয়ই এক নয়, রোনালদোর কাছে। ফাইনালে ওঠার এমন সুযোগ হারাতে চাইবেন না রোনালদো নিঃসন্দেহে।
    তবু, লড়াইটা যতই ‘স্বাধীন’ বেল বনাম ‘দলাধীন’ রোনালদো বলা হোক, আসলে দুটো ভাল দলের যেখানে ঠিক ওই স্তরের না হলেও এমন কিছু ফুটবলার আছেন যারা অন্তত কোচ যে কাজটা করতে বলেন, চেষ্টা করেন করে ফেলার। ওয়েলসের কোচ ক্রিস কোলম্যান ইউরোর ঠিক আগে ৩-৫-২ চলে গিয়েছিলেন, র‍্যামসে-লেডলি-অ্যালেনকে পেয়ে গিয়ে একই মাঝমাঠে। র‍্যামসের হাস্যকর ভুলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে সেমিফাইনালের বাইরে চলে যাওয়া নিশ্চয়ই খুশি করেনি কোলম্যানকে। যেমন, উইলিয়াম কার্ভালিওকে পাবেন না ফেরনান্দো সানতোস। বেল ‘স্বাধীন’ কারণ তাঁর ম্যানেজার সেই স্বাধীনতা দিয়েছেন তাঁকে, খেলায়। রোনালদো দলাধীন কারণ তাঁকে ততটা স্বাধীনতা দেওয়া হয়নি। খেলার মাঝে বেশ কয়েকবার যাঁকে বল না-পেয়ে হতাশ দেখাচ্ছে। এমনকি সেই হতাশা গোপনও করছেন না! যে যে দলের হয়ে খেলেছেন রোনালদো এত দিন, কোনও দল এত কম শতাংশ বল পায়ে রেখে খেলেছে কিনা, গবেষণার বিষয়!
    পর্তুগালকে এই ‘অনুত্তেজক’ ‘একঘেয়ে’ করে তোলার কৃতিত্ব আবার প্রাপ্য কোচ ফেরনান্দোরই, সেমিফাইনালের আগেও যিনি নির্দ্বিধায় বলে দিয়েছেন, ‘চিত্তাকর্ষক ফুটবল খেলে বাড়ি যাওয়া না একঘেয়ে খেলে ফাইনালে পৌঁছন – বললে পরেরটাই বেছে নেব। আর এ নিয়ে আমার মনে কোনও দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব নেই।’ এই সোজাসাপ্টা ব্যাপারটা তিনি ঢুকিয়ে দিয়েছেন দলের সবার মনে। আহামরি খেলে জেতাই আসল, এসব আপ্তবাক্যে বিশ্বাস আর রাখছে না পর্তুগাল। গ্রিস যদি পেরে থাকে আমরাও পারি, এমন মতে বিশ্বাসী হয়েই এগোচ্ছে। সে গ্রিস যতই তাঁদের বাড়াভাতে ছাই দিয়ে থাকুক না কেন, আজি হতে বারোবর্ষ আগে!
    আর, কী আশ্চর্য, ওয়েলসের কথাতেও ডেনমার্কের সঙ্গে সেই গ্রিস! যেভাবে অঘটন ঘটিয়েছিল ২০০৪-এ, সেই নজির তুলে ধরে নিজেদের তাতিয়ে তোলার চেষ্টা। তাঁদের ফুটবলে অন্তত এই মুহূর্তে গ্রিসের চেয়ে অনেক বেশি উত্তেজক উপাদান থাকা সত্ত্বেও!

    No comments