• Breaking News

    ইউরোর ফাইনাল, চতুর্থ বালন দি’ওর নিশ্চিত করে ফেললেন রোনালদো!

    প্লাতিনিকে ছুঁয়ে ফেললেন রোনালদো, নবম গোল করে, ইউরোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    [caption id="attachment_624" align="alignleft" width="300"]ronaldo head সব মাথা ছাড়িয়ে, আকাশে উঠল পর্তুগিজ অধিনায়কের মাথা। হেডে অসাধারণ গোলের সেই মুহূর্ত। ছবি - টুইটার[/caption]

    ঠিক সময়ে নিজেকে তুলে ধরতে জানেন যিনি, তিনিই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো!

    আরও একটি বিরক্তিকর ৯০ মিনিট বা তারও বেশি সময়ের দিকে এগোবে বলে মনে হচ্ছিল ২০১৬ ইউরোর প্রথম সেমিফাইনাল। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট চরম একঘেয়ে। কোনও পক্ষেরই তেমন বলার মতো আক্রমণ নেই। মাঝমাঠে পরস্পরকে কাটাকুটি। একে অপরকে মেপে নেওয়ার ট্যাকটিক্যাল ইউরোপীয় অভ্যাস। রোনালদো ঝলসে দিচ্ছেন না, বেলকেও মনেই হচ্ছে না ভয়ঙ্কর। দুই গোলরক্ষককেই তখনও পর্যন্ত পড়তে হয়নি তেমন কঠিন পরিস্থিতিতে। মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু, আবারও হয়ত টাইব্রেকার!

    হল না কারণ রোনালদো খুঁজে পেলেন নিজেকে, ওয়েলস রক্ষণ ভুল করল কর্নারের সময় তাঁকে ছেড়ে রেখে। কর্নার থেকে পাস করা হয়েছিল গেরিরো-কে। তিনি বাঁপায়ে সেন্টার রাখেন দূরের পোস্টের দিকে। রোনালদোকে ধরে রাখা হয়নি এবার। লাফালেন শূন্যে, যেন থেমে থাকলেন বলটা তাঁর মাথায় আসার আগে পর্যন্ত। সামনে গোল, জোরালো হেডে বল রাখলেন যেখানে, হেনেসি-র কিছু করার ছিল না। ১-০, এগোল পর্তুগাল।

    তিন মিনিটের মধ্যেই দ্বিতীয় গোল। এবার রোনালদোর ভুলটাকে ঠিক করে দিলেন নানি। বক্সের বাইরে থেকে রোনালদো শট নিতে গিয়েছিলেন, ঠিকঠাক হয়নি। বলটা বেরিয়ে যাচ্ছিল যখন, ওয়েলস রক্ষণ আবার অসতর্ক। নানি শুয়ে পড়ে পা লাগিয়ে ব্যবধান বাড়ালেন। প্রতিযোগিতায় তৃতীয় গোলের পর অ্যাসিস্টেও তৃতীয়বার জুড়ল রোনালদোর নাম। উল্টোদিকে যাঁর সঙ্গে তাঁর লড়াই নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল সংবাদমাধ্যম, বেশ নিষ্প্রভ, শেষ দুটি ম্যাচেই। নিজেদের ইতিহাস নতুন করে লিখলেও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধেই সর্বস্ব দিয়ে ফেলেছিলেন ওয়েলসের ফুটবলাররা, পারফরম্যান্সেই প্রমাণ।

    টানা চার ইউরো প্রতিযোগিতায় গোল করে ফেলেছিলেন রোনালদো, হাঙ্গেরির বিরুদ্ধেই। ওয়েলসের বিরুদ্ধে গোল তাঁর ইউরো ইতিহাসে নবম। ছুঁয়ে ফেললেন মিশেল প্লাতিনির সর্বকালের সর্বোচ্চ ৯ গোলের রেকর্ড। যদিও প্লাতিনি সেই রেকর্ড করেছিলেন ১৯৮৪ ইউরো-তে, মোট পাঁচ ম্যাচ খেলে। একটি প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড তাই থেকেই গিয়েছে প্লাতিনির নামে, ঠিক যেমন বিশ্বকাপেও একটি প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ ১২ গোলের রেকর্ড থেকে গিয়েছে আর এক ফরাসি জুস্ত ফঁতের নামে, ১৯৫৮ বিশ্বকাপে। কিন্তু মোট গোলের সংখ্যায় এখন ইউরোয় প্লাতিনির পাশেই রোনালদোও।

    ২০০৪ ইউরোর পর আবার ফাইনালে পর্তুগাল। সেবার গ্রিসের কাছে হারতে হয়েছিল নিজেদের দেশে। রোনালদো তখন তরুণ, সবে এসেছেন। ঢাকা পড়েছিলেন ফিগো-দেকোদের ছায়া। এবার তিনি অধিনায়ক। এবং সেমিফাইনালে একটি গোল করে আরও একটি গোলের বল সাজিয়ে দলকে নিয়ে গেলেন ফাইনালে। গতবার সেমিফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে শেষ পেনাল্টি নিতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত আর পারেননি। কারণ চতুর্থ পেনাল্টির পরই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল স্পেনের জয়। এবার আর তত দূর টেনে নিয়ে যেতে রাজি ছিলেন না রোনালদো। পেপে, এই ইউরোয় যাঁর ডিফেন্সে দক্ষতা ছিল সত্যিই চোখে পড়ার মতো, সুস্থ না-থাকায় তাঁকে বাদ দিয়ে ব্রুনো আলভেসকে নিয়ে খেলতে নেমেও এই জয়, প্রতিযোগিতায় প্রথমবার ৯০ মিনিটে, নিশ্চিতভাবেই ফাইনালের আগে মনোবল বাড়াবে ফেরনান্দো সানতোসের দলের।

    ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ জার্মানি হোক বা ফ্রান্স, দেশকেও ট্রফি দেওয়ার কথা এখন ভাবতেই পারেন রোনালদো। হারুন বা জিতুন আগামী রবিবার রাতে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেতাবের পর ইউরোর ফাইনাল, চতুর্থ বালন দি’ওর তাঁর হাতে ওঠাও এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা!

    No comments