• Breaking News

    চতুর্থ রেফারির ‘দেখায়’ বিশ্বাস রেখেই জিদানের ঢুঁসোয় লালকার্ড, জানালেন সেই রেফারি

    Captureরাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    ভুলে যেতে চেয়েছেন সবাই। কেউ কি পেরেছেন ভুলতে?
    দশ বছর পূর্ণ হবে আগামী ৯ জুলাই। সেই অভিশপ্ত বিশ্বকাপ ফাইনাল, যেখানে জিনেদিন জিদান ঢুঁসো মেরেছিলেন মার্কো মাতেরাজ্জির বুকে। দেখেছিলেন লাল কার্ড। ফ্রান্স ওই মুহূর্তেই ছিটকে গিয়েছিল বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে। শেষে হার টাইব্রেকারে। জিদান আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, আর কখনও খেলবেন না লেস ব্লুস জার্সিতে। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের বিদায় থেকে গিয়েছে দুঃখজনক।
    ঘটনা মনে রেখেছেন সবাই। কারও কি মনে আছে সেই রেফারির নাম যিনি লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন জিদানকে?
    আর্জেন্তিনীয় ওরাসিও এলিজোন্দো (Horacio Elizondo) ছিলেন রেফারি। তিনিও ইতিহাস লিখেছিলেন, সেই বিশ্বকাপের প্রথম এবং শেষ ম্যাচ খেলিয়ে। মানে, উদ্বোধনী ম্যাচ খেলিয়েছিলেন, ফাইনালেও বাঁশিমুখে ছিলেন ওরাসিও। আর ফিফা ডট কম-কে জানিয়েছেন, জিদানকে সেই রাতে লাল কার্ড দেখানোর কারণ। নিজের চোখে দেখে নয়, চতুর্থ রেফারির দেখায় অপার বিশ্বাসে!
    ‘‘ঘটনাস্থলের কাছাকাছিই ছিলাম না। কাজেই দেখার প্রশ্নই নেই। ঘটে যাওয়ার পর খেলা থামিয়ে চলে এসেছিলাম যেখানে মাতেরাজ্জি পড়েছিল মাটিতে। সঙ্গে সঙ্গেই মাইক্রোফোনে জানতে চেয়েছিলাম সহকারীদের কাছে, ওরা কিছু দেখেছে কিনা। দুজনেই বলেছিল, কিছু দেখেনি। কথা বলতে বলতেই মাইক্রোফোনে ভেসে এসেছিল লুইস মেদিনা কান্তালেখো-র স্বর। ম্যাচের চতুর্থ রেফারি। বলেছিল, ‘সাদা জার্সির ওই দশ নম্বর ঢুঁসো মেরেছে ইতালীয় ফুটবলারের বুকে। চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারবে না, কী ভয়ঙ্কর ঘটনা। পরে দেখলেই বুঝবে।’ বুঝতে একটুও অসুবিধা হয়নি। আগের তিন বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করেছিলাম আমরা সবাই। বিশ্বাস অটুট ছিল পরস্পরের সিদ্ধান্তে। একটুও দেরি করিনি আর। কিছু করার নেই, লুইসকেও জানিয়ে দিই, ঠিক আছে, জিদানকে তা হলে যেতে হচ্ছে মাঠ ছেড়ে!’’
    এত বড় একটি সিদ্ধান্ত যা প্রভাব ফেলেছিল বিশ্বকাপ ফাইনালের ফলে, নিজের চোখে না দেখে শুধু বিশ্বাসে নির্ভর করেই নিয়ে ফেলেছিলেন আর্জেন্তিনীয় রেফারি!
    শুধু তা-ই নয়, ফিফা এব্যাপারেও তদন্ত করেছিল যে, সহকারী রেফারিরাও যা দেখেননি, কী করে রেফারি সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন, টিভি রিপ্লে-র কথা শুনে? ফিফার নিয়ম অনুসারে রেফারিদের পক্ষে ভিডিও রিপ্লে দেখে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। পরে, ঘটনার গুরুত্বের কারণে মাতেরাজ্জিকে দু-ম্যাচ এবং জিদানকে তিন ম্যাচ নির্বাসিত করা হয়েছিল। জিদান যেহেতু অবসর নিয়েই ফেলেছিলেন, ফিফার হয়ে তিন দিন কমিউনিটি সার্ভিস-এ যোগ দিয়েছিলেন। আর চিরন্তন দ্বন্দ্ব থেকে গিয়েছে এই নিয়ে যে, মাতেরাজ্জি ঠিক কী কী বলে প্ররোচিত করেছিলেন জিদানকে এমন আচরণ করতে।
    দশ বছর পূর্তির আগে সেই আর্জেন্তিনীয় রেফারি অবশ্য তাঁর বক্তব্য থেকে একচুলও সরেননি। তাঁর দাবি, শুধু সেই প্রতিযোগিতায় নয়, আগের তিন বছর ধরেই চলেছিল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। ‘২০০৬ বিশ্বকাপ থেকেই ঠিক করা হয়েছিল যে, রেফারি এবং তাঁর সহকারীরা থাকবেন একই দেশের। আমরা সেভাবেই নিজেদের তৈরি করেছিলাম তিন বছর ধরে। রেফারিদের জন্য এই সিস্টেমটা খুবই ভাল। আস্থা ছিল টিমওয়ার্কে।’
    তারপর আর কি কখনও দেখা হয়েছে জিদানের সঙ্গে? ওরাসিও জানিয়েছেন, হয়েছিল। ‘পরের বছর, স্পেনের মুর্সিয়াতে। আদিদাস-এর কোনও একটি প্রোডাক্ট লঞ্চ হচ্ছিল। সংগঠকরা আমাদের দুজনকেই ডেকেছিলেন। অবশ্য তার আগেই জানতে চেয়েছিলেন, আমাদের কারও কোনও অসুবিধা আছে কিনা, অন্যজনের উপস্থিতিতে। আমার তরফে অসুবিধা থাকার কথাই ছিল না। জিদানও আপত্তি করেনি। আমরা ছিলাম একই হোটেলে। জিদানের পরিবার, আমার পরিবার। একসঙ্গে ব্রেকফাস্ট করেছি। নানা কথা হয়েছে। কিন্তু ওই ঘটনা নিয়ে একটাও কথা বলেনি। প্রমাণ পেয়েছিলাম, বিরাট ফুটবলারের পাশাপাশি জিদান ঠিক কত বড় মানুষও।’

    No comments