• Breaking News

    ১৮ পেনাল্টির পর জার্মানির প্রথম জয়, ইতালির বিরুদ্ধে, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে!

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    zaza

    জার্মান ফুটবল ইতিহাস যা দেখেনি, জোয়াকিম লো-র জার্মানি আবারও করে দেখাল!

    প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ইতালিকে হারাল প্রথমবার। পৌঁছল ইউরোর সেমিফাইনালে। গতবার সেমিফাইনালে এই ইতালির কাছেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। মধুর প্রতিশোধ এবারের কোয়ার্টার ফাইনালে। কষ্ট করতে হল বটে, ১৮ পেনাল্টির শেষে ৬-৫ জয়!

    ম্যাচের প্রথম গোল ৬৫ মিনিটে। মারিও গোমেজ বলটা পেয়ে ঢুকে এসেছিলেন বাঁদিক দিয়ে। পাস রাখেন হেক্টরের জন্য। বলটা এক ইতালীয় ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে উঁচু হয়ে বক্সে পড়ার মুখে এগিয়ে-আসা ওজিল বাঁপায়ের ভলিতে গোল করে যান ছ’গজের বক্সের ঠিক বাইরে থেকে। বুফোঁর কিছু করার ছিল না।

    ৭৮ মিনিটে গোলশোধ ইতালির। কর্নার করেছিলেন ফ্লোরেঞ্জি, তাঁর কাছেই ফিরে এসেছিল বল। উঁচু করে রেখেছিলেন বক্সে যেখানে বোয়াতেং লাফিয়ে ওঠেন তাঁর দুই হাত মাথার ওপরে দুপাশে ছড়িয়ে রেখে। বল তাঁর হাতে লাগে এবং নিশ্চিত পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানাতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি হাঙ্গেরির রেফারি ভিকতর কাসাই। যদিও, কেন বোয়াতেংকে হলুদ কার্ড দেখাননি, প্রশ্নটা থাকছেই। বোনুচ্চি এগিয়ে এসেছিলেন পেনাল্টি নিতে। নয়ারকে এবারের ইউরোয় প্রথমবার পরাস্ত করে সমতা ফিরিয়েছিলেন।

    এগিয়ে যাওয়ার ঠিক পরেই ২-০ করে ফেলার মতো অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল জার্মানি। গোমেজ আবারও বল পেয়েছিলেন বক্সের মধ্যে। ব্যাকফ্লিক করতে যাবেন, কিয়েলিনি সামনে থেকে এসে বুট লাগিয়ে ফেলেন বলে। ইতালির হয়ে ১৬০তম ম্যাচ খেলতে-নামা বুফোঁর অসাধারণ সেভ। ওই সময় ২-০ হয়ে গেলে ম্যাচ শেষ হয়ে যেত ওখানেই।

    প্রথমার্ধে বলার মতো সুযোগ দুটি। মুলার একেবারে ফাঁকায় পেয়ে গিয়েই দুর্বল শট মেরেছিলেন যা বাঁচাতে বিশেষ কষ্ট করতেই হয়নি বুফোঁকে। আর ইতালির স্তুরারোর জোরালো শট যা সোজা গোলের দিকেই যাচ্ছিল, বোয়াতেংয়ের বাড়ানো পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বাইরে যায়। বাকি প্রথমার্ধ সীমাবদ্ধ ছিল মাঝমাঠে, খুচরো পেশাদার ফাউলে। ইতালির সমস্যা, দে রোসি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি, কানদ্রেভা তো খেলেননি আগের দুটি ম্যাচেও। দে রোসির জায়গায় কে খেলবেন নিয়ে ভাবনা ছিল কোন্তের। থিয়াগো মোতাও কার্ড সমস্যায় নির্বাসিত ছিলেন। স্তুরারোর ওপর ভার পড়ে, নিরাশ করেননি।

    পাঁচ মিডফিল্ডার নিয়ে ইতালির মাঝমাঠ দাপটে শাসন করছিল আগের ম্যাচগুলো। জার্মান-কোচ তাই রক্ষণে তিনজনকে রেখে চার মিডফিল্ডারের ওপরে মুলার-ওজিল নিয়ে মোট ছ’জনকে রেখেছিলেন, ইতালির রাজত্বে ফাটল ধরাতে। সফলও হয়েছিলেন। খেদিরা ম্যাচের শুরুতেই আহত হয়ে বসে যেতে বাধ্য হলেও তৈরিই ছিলেন সোয়াইনস্টেগার, বিশ্বকাপ এবং ইউরো মিলিয়ে জার্মানির সবচেয়ে বেশি ৩৮ ম্যাচ খেলে ফেললেন যিনি, ক্লোজের সঙ্গে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে তো প্রায় মিনিট ২৫ ইতালির অর্ধের বাইরেই যাচ্ছিল না বল। পজেশন কম, যদিও তা নিয়ে কোনওকালেই মাথা ঘামায়নি ইতালি। কিন্তু ম্যাচে ওই সময়টাই ছিল জার্মানির সেরা। ইতালি তখন প্রাণপণে গোল আটকাতে লড়ছে। গোল খাওয়ার পরও লড়ছিল ব্যবধান বাড়তে না দিতে। বোয়াতেংয়ের ভুলে গোলটা খাওয়ার পর আবার একটু দমে গিয়েছিল জার্মানি। সময় নিয়েছিল ঘুরে দাঁড়াতে। যদিও গোলের সুযোগ সেভাবে আর তৈরি হয়নি কোনও দলের পক্ষেই।

    টাইব্রেকারে কিছু পেনাল্টি বা মিস মনে রাখার মতো। সাসাকে নামানো হয়েছিল শেষ মুহূর্তে, হয়ত পেনাল্টি নেবেন বলেই। তিনি যেভাবে এসে বল আকাশে ওড়ালেন, কোন্তের খুশি হওয়ার কথা নয়। একই রকম হতাশাজনক ছিল মুলার, ওজিল এবং সোয়াইনস্টেগারের পেনাল্টিগুলোও। তাঁদের জন্য সুখবর হয়ে এসেছিল ইতালির পেল্লে, বোনুচ্চিদের মিস! শেষে দার্মিয়ানের পেনাল্টি সেভ করেন নয়ার। হেক্টরের পেনাল্টিও প্রায় বাঁচিয়েই দিয়েছিলেন বুফোঁ, ঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে। কিন্তু, বল তাঁর শরীরের নিচ দিয়ে জালে এবং জার্মানির প্রথম জয়, ইতালির বিরুদ্ধে, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে!

    No comments