• Breaking News

    চেজের কাছে হার ভারতের, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ড্র

    সোবার্সের পঞ্চাশ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন চেজ
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ‌: ১৯৬ (ব্ল্যাকউড ৬২, অশ্বিন ৫-৫২) ও ৩৮৮-৬ (চেজ ১৩৭ নট আউট, ডরউইচ ৭৪, হোল্ডার ৬৪ নট আউট, সামি ২-৮২, অমিত ২-৯০)
    ভারত‌: ৫০০-৯ (রাহুল ১৫৮, রাহানে ১০৮ নট আউট, ঋদ্ধি ৪৭, চেজ ৫-১২১)




    [caption id="attachment_1061" align="alignleft" width="300"]ডরউইচকে আউট করার পর। তবু শেষ রক্ষা হল না। ছবি— টুইটার ডরউইচকে আউট করার পর। তবু শেষ রক্ষা হল না। ছবি— টুইটার[/caption]

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক
    পঞ্চাশ বছর আগের রেকর্ডটা যে ভেঙে যেতে পারে, পঞ্চম দিন সকালেও মনে হয়নি। হবেই বা কি করে, নতুন প্রজন্মের হাতে পড়ে ‘হারানো সুর’ হয়ে গিয়েছে ক্যারিবিয়ানদের টেস্ট ঐতিহ্য!
    তখন বিশ্ব ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়াত ওয়েস্ট ইন্ডিজই। ১৯৬৬ সালে হেডিংলে-তে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একই টেস্টে ৫ উইকেট ও সেঞ্চুরির অবিস্মরণীয় রেকর্ড (১৭৪ ও ৫-৪১) ছিল স্যার গ্যারি সোবার্সের। তাঁর পরে আরও অনেকে করেছেন বিশ্ব ক্রিকেটে। কিন্তু ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটে পঞ্চাশ বছর পর ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তির রেকর্ড ভাঙলেন রস্টন চেজ নামের এক তরুণ মুখ। যিনি সবে মাত্র খেললেন দ্বিতীয় টেস্ট।
    রস্টন লামার চেজ— ২৪ পার করা এই স্পিনার-অলরাউন্ডারই ১৩৭ নট আউটের এক অবিস্মরণীয় ইনিংস খেলে টিমকে নিশ্চিত টেস্ট হারের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিলেন সাবাইনা পার্কে।
    ৪-৪৮ নিয়ে পঞ্চম দিন শুরু করা জেসন হোল্ডারের টিম যে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে, এটাই তো স্বাভাবিক। উল্টো দিকে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো ভয়ঙ্কর স্পিনার, ইশান্ত শর্মা ও মহম্মদ সামির মতো ফর্মে থাকা পেস বোলার। দিনের শুরুতে ব্ল্যাকউডকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাট করতে নামা চেজ যে প্রায় অসম্ভবকে ‘তাড়া’ করে টেস্ট বাঁচিয়ে দেবেন, মনেই হয়নি। অন্তত বিরাট কোহলিদের সিলেবাসে ছিল না!
    ২৬৯ বল। আরো ভালো করে বলতে গেলে, ৩৫২ মিনিট মানে প্রায় ছ’ঘণ্টার অসম যুদ্ধ বিরাটের বিশ্বমানের বোলিংয়ের বিরুদ্ধে। ১৫টা চার। অশ্বিনকে মিড উইকেটের উপর উড়িয়ে দিয়ে বিশাল ছক্কা। চেজের ব্যাটিংয়ে সীমাবদ্ধতা কি ছিল না? ছিল! কিন্তু তার থেকেও বেশি ছিল ‘হারব না’র প্রত্যয়। যা বহু যুগ পর হস্টন চেজের হাত ধরে ফিরল ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটে।
    যেমন সাবলীল, জলের মতো ব্যাটিং করে গেলেন চেজ, তেমনই সঙ্গ দিলেন ব্ল্যাকউড, ডরউইচ ও হোল্ডার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে আপার অর্ডার ব্যাটসম্যানরাই দিনের পর দিন ব্যর্থ। সেখানে লোয়ার অর্ডার রান করে দেবে, এই অলীক কল্পনাই বা করে করেছিল। ব্ল্যাকউড ৬৩ করে ফিরে যান। ডরউইচ আউট হন ৭৪-এ। তখনও আচমকা তৈরি হয়েছিল একটা ক্ষীণ আশা। টি-ব্রেকের পর ওই সময়টুকুও তো যথেষ্ট, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরার। আর চারটে উইকেট ফেলতে পারবেন না অশ্বিনরা, হয় নাকি!
    দিনের শেষ সময়টুকু ক্যাপ্টেন জেসন হোল্ডারের। ৬৪ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে যান তিনি।
    চতুর্থ দিনটাতে সোনার সুযোগ ছিল ভারতের সামনে। কিন্তু বৃষ্টি বাঁচিয়ে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। পঞ্চম দিন অশ্বিন আর অমিত একটা করে উইকেট নিলেও কখনও নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি ম্যাচ। সাবাইনা পার্কে ড্র হলেও সিরিজে এখনও ভারত ১-০ এগিয়ে। পরের দুটো টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
    অ্যান্টিগা থেকে সাবাইনা পার্ক— এই পনেরো দিনে ভারত কী শিখল? প্রতিপক্ষ যেই হোক, এ ভাবেই ফিরে আসে! খেলাটার নাম যে ক্রিকেট! তা না হলে কি আর লিখতে হয়, রস্টন চেজের কাছে হার ভারতের, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ড্র!




    [caption id="attachment_1063" align="aligncenter" width="200"]নতুন স্বপ্ন। সেঞ্চুরির পথে রস্টন চেজ। ছবি— টুইটার নতুন স্বপ্ন। সেঞ্চুরির পথে রস্টন চেজ। ছবি— টুইটার[/caption]

    No comments