• Breaking News

    মার্কি ফোরলান, মুম্বই আত্মবিশ্বাসে টগবগে

    আইএসএল রিলিজ

    diego-forlan

    ইন্ডিয়ান সুপার লিগে মুম্বই সিটি এফসি-র শুরু ততটা জবরদস্ত হয়নি যতটা আশা করেছিলেন ভক্তরা। কিন্তু এবার ধারা পাল্টাতে চাইছে ফ্র্যাঞ্চাইজি। তাই শুরু থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে আলাদা করে।

    প্রথম দু’বছরে কোনওবারই সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারেনি, যদিও প্রতিভার কমতি ছিল না। প্রথমবারে তো আট দলের মধ্যে সপ্তম স্থানে শেষ করেছিল মুম্বই সিটি এফসি। গতবার তার চেয়ে একধাপ ওপরে, ষষ্ঠ স্থানে।

    আইএসএল-এর তৃতীয় মরসুম এখনও শুরুই হয়নি, কিন্তু মুম্বই সিটি এফসি-র নাম বারবারই প্রচারমাধ্যমে উঠে আসছে এবং প্রতিবারই ইতিবাচক কারণে। মনে করা হচ্ছে, এবার সেমিফাইনালে পৌঁছনোর অন্যতম সেরা বাজি তারাই।

    কোস্তা রিকার কোচ আলেকজান্দ্রে গিমারায়েস এবার দায়িত্বে। নিজের দেশকে দুবার তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপে। তাঁর প্রশিক্ষণে শুরুর আগে থেকেই ছন্দে মু্ম্বই। এখনও অপরাজিত আছে প্রাক-মরসুম অনুশীলন ম্যাচগুলোতে। দুবাইতে মাসখানেকের বেশি সময় ছিল দল। চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শক্তিশালী দলগুলির বিরুদ্ধে। জিতেছে দুটি ম্যাচে, ড্র করেছে বাকি দুটি ম্যাচ। হারেনি একটিও।

    ‘মুম্বই ফিরেছিলাম অপরাজিত থেকে, যা নিশ্চিতভাবেই বেশ ভাল ব্যাপার। ওখানে শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলতে হয়েছিল, চরম গরমে। তবুও সবাই নিজের খেলা ঠিকঠাকই খেলেছে। ৩৫ দিন ওখানে থেকে দলের ফুটবলাররা যেমন বুঝে নিয়েছে কোচকে, ওরাও বুঝতে পেরেছে কোচ কেমন, কী চায়, ইত্যাদি। আমরা এখন মরসুম শুরুর জন্য পুরোপুরি তৈরি,’ বলেছেন কোচ গিমারায়েস।

    সেই প্রথম মরসুম থেকেই মুম্বই মানে কোনও না কোনও বড় নাম। শুরুতে মার্কি হিসাবে এসেছিলেন ফ্রেডি লিউংবার্গ। গত মরসুমে নিকোলাস আনেলকা। এবার তো আরও বড় নাম, দিয়েগো ফোরলান। ২০১০ সালে বিশ্বকাপে যিনি নিজের দেশ উরুগুয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন সেমিফাইনালে, পেয়েছিলেন বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান।

    দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ বিশ্বকাপে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছিলেন ফোরলান। যে কোনও পরিস্থিতি থেকে গোল করে ফেলার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে তাঁর, যা নিশ্চিতভাবেই কাজে লাগবে মুম্বই সিটি এফসি-র। তবে, ফুটবল যেহেতু দলগত খেলা, একা একা তো আর কিছু করতে পারবেন না। তাঁকে সাহায্য করার জন্য আছেন আর্জেন্তিনার ৩১-বছর বয়সী স্ট্রাইকার গাস্তোন সানগোই। গত বছরেই পোল্যান্ডের সেরা লিগ জিতে এসেছেন গাস্তোন। তাই ফোরলানের চিন্তা কম।

    তা ছাড়াও, ভারতের জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীও আছেন। কয়েকটা ম্যাচে সুনীলকে পাওয়া যাবে না, ঠিক। তাঁর ক্লাব বেঙ্গালুরু এফসি-র হয়ে এএফসি কাপে খেলতে হবে বলে। কিন্তু, গোল-করা নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথাই নয় মুম্বইয়ের।

    ‘এবার আমরা মরসুম শুরু করতে চলেছি আগের থেকে অনেক বেশি প্রস্তুতি নিয়ে। প্রাক মরসুমে যারাই খেলতে দেখেছেন, খুশি দলের খেলায়। আলেকজান্দ্রে সত্যিই খুব ভাল কাজ করছেন। অনুশীলনে সবাই আরও একটু বেশি দিতে আগ্রহী, প্রত্যেকে এগিয়ে যাচ্ছে অন্যের সাহায্যে, দলের একতা দেখার মতো। প্রাক-মরসুমের এই অপরাজিত আখ্যাটা সহজে ছাড়তে চাই না, মরসুম শুরুর পরও। ভক্তরাও যাতে সাফল্যের আনন্দে উচ্ছ্বসিত হতে পারেন, সেটাও করে দেখাতে চায় মুম্বই,’ বলেছেন সিইও ইন্দ্রনীল দাস ব্লা।

    ইন্দ্রনীলের এই আত্মবিশ্বাসের উৎস শুধুই প্রাক-মরসুমে অপরাজিত থেকে-যাওয়া নয়। দুর্দান্ত দল গড়েছেন তাঁরা যা কাগজে-কলমে অন্তত এ-মরসুমের অন্যতম সেরা। যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দেশের সেরা কয়েকজন ফুটবলারকে সই করিয়েছেন এবার তারা।

    সুনীল ছেত্রীকে সবাই চেনেন, ওঁর কথা ছেড়েই দিন। বেঙ্গালুরু থেকে সুনীলের সতীর্থ ফানাই লালছুয়ানমাওয়াই খেলছেন গত বছর থেকে। সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ঘরোয়া মরসুমে খেলে দক্ষতা দেখিয়ে উঠে-আসা অমরিন্দার সিং। আগে আতলেতিকো দে কলকাতায় ছিলেন, দেশের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকও। আর আছেন জ্যাকিচাঁদ সিং, উদান্ত সিং, প্রণয় হালদার, আইবরলাং খোংজি, বৈঠাং হাওকিপ এবং আইজল এফসি-র অধিনায়ক ডেভিড লালরিনমুয়ানা।

    বিদেশ থেকেও যাদের সই করানো হয়েছে, সবারই সঙ্গী অনেকগুলি করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। এবারও যদি প্লে অফে না-যেতে পারে মুম্বই, সত্যিই হয়ত দুর্ভাগ্য!

    No comments