• Breaking News

    অভিজিৎ: দংকে আরও উন্নতি করতে হবে

    আর কয়েক ঘণ্টা পর বরদলুই ট্রফির


    ফাইনাল। তার আগে ইস্টবেঙ্গলের সহকারী কোচ কাম ম্যানেজারের 


    সঙ্গে ফোনে গল্প করলেন শিবম দাস




    [caption id="attachment_1836" align="alignleft" width="175"]কোচের ভূমিকায় অভিজিৎ। ছবি— ফেসবুক কোচের ভূমিকায় অভিজিৎ। ছবি— ফেসবুক[/caption]

    প্রশ্ন: খেলা কঠিন না কোচিং করানো?

    অভিজিৎ: এখনও দলের হটসিটে বসিনি। কলকাতা লিগে একটা রেকর্ডের সামনে ছিলাম, চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ায় সেই চাপটা অনুভব করিনি। তবে, খেলাটা বেশি চাপের ছিল।

    প্রশ্ন: হঠাৎ করেই ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার কোচের দায়িত্ব? একটু তাড়াহুড়ো হয়ে গেল না?

    অভিজিৎ: জীবনে যা আসে, গ্রহণ করি। সবসময় সব কিছু নিয়ে ভাবি না। ডেম্পোতে আট বছর খেলেছি, সেই সময় কোনও গোলকিপার কোচ পাইনি। পরবর্তীকালে ইউনাইডেট স্পোর্টসে খেলার সময়েও কোনও কোচ ছিল না। তাই যা শিখেছি, পুরোটাই নিজে নিজে। আর, কোচিং-এ সি লাইসেন্সও করেছিলাম। মনে হয়েছে এটাই কোচিং-এ আসার সেরা সময়।

    প্রশ্ন: ইস্টবেঙ্গল গত কয়েকবছর গোলকিপার সমস্যায় ভুগেছে। এই মরসুমে সমস্যা মিটবে?

    অভিজিৎ: গোলকিপার দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, দলে ডিফেন্ডার, মিডফিল্ডার, সবারই সমান দায়িত্ব থাকে। কলকাতাতে শুধু গোলকিপারদেরই দোষারোপ করা হয়। তাই, আগে দর্শকদের মানসিকতা বদলাতে হবে। স্ট্রাইকারদের নিয়ে যেমন নাচানাচি করা হয়, গোলকিপারদেরও সেরকম সন্মান দেওয়া উচিত। কলকাতা লিগে দেখেছি, দিব্যেন্দু বল ধরলেই গ্যালারি থেকে চিৎকার ভেসে আসত। এই জন্য, বহু ভাল গোলকিপার কলকাতাতে সফল হয়নি।

    প্রশ্ন: কার কোচিং থেকে সবথেকে বেশি শিখেছেন?

    অভিজিৎ: সবার থেকেই শিখতে চেয়েছি। ইস্টবেঙ্গলে থাকাকালীন মর্গ্যানের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছিলাম। আর্মান্দো গোয়াতে থাকাকালীন যেভাবে ফুটবলারদের নিয়ন্ত্রণ করতেন, শেখার বিষয়। কিন্তু, এলকো সাতোরির থেকে কলকাতা ময়দান আরও অনেক কিছু শিখতে পারত। ওঁর কোচিং পদ্ধতি সম্পূর্ণ অন্য ধরনের ছিল। সাফল্য পায়নি তাই হয়তো তাঁকে সরে যেতে হয়েছে। আমাদের অনেক কিছু শেখার বাকি ছিল ওঁর থেকে।

    প্রশ্ন: বরদলুই-এর দল সম্পর্কে কী বলবেন?

    অভিজিৎ: এই দলটা তরুণ। ডিফেন্সে ক্যালাম, মাঝমাঠে প্রকাশ, আক্রমণভাগে জিতেন নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে। ভাল খেলেছে দিব্যেন্দু, অশপ্রীতও। দলগত সংহতি খুব ভাল। রঞ্জন চৌধুরি ফর্মেশন বদলে ৪-৪-২ খেলাচ্ছেন। সবাই সবার ভুমিকা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তাই সাফল্য আসছে।

    প্রশ্ন: রঞ্জন চৌধুরির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

    অভিজিৎ: রঞ্জনদা অভিজ্ঞ কোচ। বহু ফুটবলার উপহার দিয়েছেন। শিক্ষিত ও আধুনিক কোচ। সম্পূর্ণ নতুন দলে যেভাবে মানিয়ে নিয়েছেন, কুর্নিশ জানানো উচিত। আমিও শিখছি ওঁর থেকে।

    প্রশ্ন: তিন বিদেশির খেলা কেমন লাগল?

    অভিজিৎ: দং ভাল খেলেছে, কিন্তু আরও উন্নতি করতে হবে। আরও অনেক কিছু শিখতেও হবে। আদিলেজার কাজ গোল করা, ভালভাবেই করেছে। ক্যালাম ধারাবাহিক। আমি খুশি, এখনও একটাও গোল খায়নি দল।

    প্রশ্ন: ফাইনালে কতটা তৈরি দল?

    অভিজিৎ: আন্ডারডগ হিসাবে শুরু করবে ইস্টবেঙ্গল। নেপালের দলটা ধারে ও ভারে অনেক এগিয়ে। এত দূর পৌছে ট্রফিটা না জিততে পারলে খারাপ লাগবে। কোনও নির্দিষ্ট ফুটবলারকে মার্কিং করা হবে না। অঞ্চল ভাগ করে করে যে যার দায়িত্ব পালন করবে। লড়বে সবাই, গুটিয়ে থাকবে না কেউ।

    প্রশ্ন: ট্রফি জিতলে কাকে উৎসর্গ করবেন?

    অভিজিৎ: এত দূর থেকে যাঁরা এখানে খেলা দেখতে এসছেন, জিতলে ট্রফিটা তাঁদের জন্যই। কোনও দিনই নিজের কথা ভাবতে পছন্দ করি না। ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য আমরা বেঁচে আছি। তাই ওদের জন্যই ট্রফিটা জিততে চাইছে দল।

    প্রশ্ন: আকাদেমির প্রকাশ ও ইয়ামিকে কেমন লাগল?

    অভিজিৎ: প্রকাশ ও ইয়ামির ভবিষৎ উজ্বল। প্রকাশ খুব পরিশ্রমী ফুটবলার। মাঝমাঠটাকে দারুণভাবে চালাতে পারে। ইয়ামির স্ন্যাচিং ও পাসিং দুর্দান্ত। ইয়ামিকে আরও বেশি পরিণত হতে হবে।

    No comments