• Breaking News

    দং: আই লিগে ভক্তদের আর নিরাশ করতে চাই না

    শিবম দাস


    dong2


    এখন পরিণত। আত্মবিশ্বাসীও। মাসখানেক আগে বিতর্কের ঝড় তাঁকে নিয়ে । যে কলকাতা লিগ প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল তাঁকে, সেখান থেকেই এবার ফিরেছিলেন খালি হাতে । হাল অবশ্য ছাড়েননি। গুয়াহাটির হোটেলের ঘর থেকেই দো দং শোনালেন তাঁর ফিরে আসার গল্প।


    প্র: এতটা বদলালেন কীভাবে? গোল করাচ্ছেন, করছেন।  নিজের পারফরম্যান্সে খুশি?


    দং: পুরনো জায়গায় খেলার সুযোগ পেয়ে খুব খুশি। বহুদিন পর যেন আমরা একটা দল হয়ে খেলছি । সিনিয়র হওয়ায় জুনিয়রদের গাইড করছি। এই টুর্নামেন্টে এসে দায়িত্ববোধের মানে বুঝেছি। দলে গোল করার থেকে গোল করানোর লোকের দরকার ছিল বেশি। সেই চেষ্টাই করেছি।


    প্র: বরদলুই ট্রফিতে দলের খেলার ধরন এতটা পাল্টাল কীভাবে?


    দং: এই দলে ডিফেন্সে ক্যালাম, মিডফিল্ডে আমি আর আক্রমণে আদিলেজা নেতৃত্ব দিয়েছে। প্র্যাক্টিসে জুনিয়ররা এসে আমাদের থেকে শিখতে চেয়েছে। কোচ মাঠের বাইরে থেকে চমৎকার মোটিভেট করেছেন। কোচকে বলেছিলাম, মাঝমাঠে স্বাধীনতা চাই। কোচ দিয়েছেন। সকলেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। সেটা দারুণ ভাবে কাজে লাগিয়েছে সবাই।


    প্র: কোচ রঞ্জন চৌধুরিকে কেমন লাগল ?


    দং: রঞ্জন চৌধুরির মতো কোচ কমই দেখেছি। আমাদের থেকেও শিখতে চান, সবসময় সাহস জুগিয়ে যান। সিনিয়র ফুটবলারদের আলাদা দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন। এত ভাল মানুষ দেখিনি। অনেকদিন পর যেন নিজেকে খুঁজে পেলাম। জুনিয়র ফুটবলারদের আমাদের থেকে শিখতে বলেছেন। তাই ওরা সমস্যায় পড়লে কোচের  আগেও আমাদের জিজ্ঞাসা করছে। দুর্দান্ত বোঝাপড়া সাজঘরে।


    প্র: কলকাতা লিগে কিন্তু আপনার ফর্ম নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল । এখন সেই সমালোচকদের কী বলবেন?


    দং: দ্বিতীয় বছরে বুঝেছি, কলকাতার সমর্থকদের চরিত্র এমনই। খারাপ সময়ে কিন্তু ওদেরকেই পাশে পেয়েছিলাম।  সব ফুটবলারের জীবনেই খারাপ সময় আসে। কিন্তু "কোয়ালিটি" মরে না। এই তিনটে ম্যাচ হয়তো কলকাতার দর্শকরা দেখেননি । দেখলে ওঁরা বুঝতেন, ওঁদের আদরের দং অনেকটা বদলে ফেলেছে নিজেকে।


    প্র: আদিলেজা ও ক্যালামের সঙ্গে আপনি। তিন বিদেশি  ফুটবলার একসঙ্গে খেলছেন বলেই কি দলের খেলা খুলে গেল?


    দং: কলকাতা লিগে তিন বিদেশি একসঙ্গে মাঠে নামার সুযোগ পাইনি। আদিলেজা খুবই সুযোগসন্ধানী স্ট্রাইকার, বক্সের যে কোনও জায়গা থেকে গোল করতে পারে। আর ক্যালাম তো আমার রুমমেট ছিল কল্যাণীতে । ওর মতো নেতা এই দলে দরকার ছিল। ইস্টবেঙ্গল কিন্তু গত চার ম্যাচে গোল খায়নি। ডিফেন্সে ক্যালামের পাশে কৌশিক, অশপ্রীত, অর্ণব ও কৌশিক খেলেছে। কিন্তু ক্যালাম সুন্দরভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছে।


    প্র: বরদলুই ট্রফিতে গ্রুপের  তিনটি ম্যাচের মধ্যে কোনটা বেশি কঠিন ছিল?


    দং: সিকিম ইউনাইটেড ম্যাচটাই সবথেকে কঠিন ছিল । ওরা দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলাটা বুঝে নিজেদের স্ট্র‍্যাটেজি বদলেছিল। যদিও আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পেরেছিলাম। তাই জিতেও ছিলাম সহজে।


    প্র: ইস্টবেঙ্গল আকাদেমির ছেলে ইয়ামিকে কেমন লাগল ?


    দং: দুর্দান্ত। শেষ ম্যাচে ৩৫ গজ দুর থেকে জোরালো শটে গোল করেছে। ইয়ামির মতোই বাকিরাও সবাই প্র্যাক্টিসে খুব পরিশ্রম করে। সেটাই ওদের আরও বড় করবে। ওদেরকে পরের বছর কলকাতা লিগেও সুযোগ দেওয়া উচিত।


    প্র: গ্যালারিতে কলকাতার দর্শকদের মিস করছেন না ?


    দং: ভীষণ! ইস্টবেঙ্গল এর আগে এত ফাঁকা স্টেডিয়ামে খেলেনি কখনও, অন্তত আমি দেখিনি। ইস্টবেঙ্গল আল্ট্রাসকে মিস করছি খুব। আমার খারাপ দিনেও ওরা যেভাবে সমর্থন করে, এখানে পাচ্ছি না। ফাইনালে উঠলে ওরা যেন অবশ্যই আসে।


    প্র: বরদলুই এর পর আপাতত অনেকদিন কোনও টুর্নামেন্ট নেই। আপনার পরিকল্পনা?


    দং: হয়তো কিছুদিন ছুটি কাটাতে কোরিয়াতে ফিরব। পরিবার, বন্ধুদের মিস করি খুব। কিন্তু আই লিগের অনেক আগেই ফিরব এবার। ফিজিক্যাল ট্রেনার রেখে শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে চাই। আই লিগে ভক্তদের আর নিরাশ করতে চাই না।


    প্র: সেমিফাইনালে সামনে লাজং। ইস্টবেঙ্গল তৈরি?


    দং: লাজং-এ অনেক জুনিয়র ফুটবলার। খুব ভাল দল। কিন্তু আমরা তো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, ওরা ওদের গ্রুপে রানার্স হয়েছে। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। ম্যাচটা জেতা খুব সহজ হবে না। কিন্তু কঠিন হওয়াও উচিত নয়।

    No comments