• Breaking News

    জিকো কি পারবেন এবার ট্রফি জিততে?

    zicoরাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    (আইএসএল প্রেস রিলিজ)

    আর্থার আনতুনেস কোইমব্রা-কে চেনেন? বিশ্ব তাঁকে একডাকেই চেনে, তবে এই নামে নয়। তাঁর পরিচিতি জিকো নামে, যে বিখ্যাত ব্রাজিলীয় ফুটবলার এখন এফসি গোয়ার কোচ। পরপর দু’বছর হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে ছিলেন তিনি এফসি গোয়ার দায়িত্বে। সাফল্য পাননি বলা ভুল, কিন্তু ট্রফি হাতে ওঠেনি। তৃতীয় বছরে ট্রফি জেতা ছাড়া আর কোনও ভাবনা নেই তাই। প্রথম বছরে সেমিফাইনালে এফসি গোয়া হেরেছিল চ্যাম্পিয়ন আতলেতিকো দে কলকাতার কাছে। গতবার আর এক ধাপ এগিয়ে ফাইনালে চেন্নাইয়িন এফসি-র কাছে হার, ফাইনালের শেষ দিকে স্টিভেন মেন্ডোজার গোলে।

    ফতোরদা স্টেডিয়ামে ঘরের মাঠের সমর্থন পেয়েও ফাইনালে হেরে নিশ্চিতভাবেই আহত হয়েছিল জিকোর অহং। এখন তিনি আগের সব স্মৃতি মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে মাঠে নেমে পড়েছেন আবার,ট্রফির সন্ধানে।

    তৃতীয় মরসুমে এসে আইএসএল-এর অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যা করেনি, জিকো কিন্তু আস্থা রেখেছেন তাঁর দলকে ফাইনালে নিয়ে-যাওয়া ছয় বিদেশি ফুটবলারের ওপর। লুসিও আছেন অধিনায়ক এবং মার্কি ফুটবলার হিসাবে। সঙ্গে খোফ্রে গোনজালেস, রেইনালদো অলিভেইরা, রাফায়েল কোয়েলিও, লুসিয়ানো সোব্রোসা এবং গ্রেগরি আর্নোলিন। সমস্যা অবশ্য দেশীয় ফুটবলারদের নিয়ে, যা এফসি গোয়ার খেতাব জয়ের স্বপ্ন সফল হওয়ার পথে বড় বাধা হতে পারে, যদিও সে-জন্য বিশেষ দোষ নেই জিকোর।

    আসলে, এফসি গোয়ার প্রাক্তন মালিকরা নির্বাসিত থাকার ফলে ভারতীয় ফুটবলারদের সই করানোর কাজটা শুরুই হয়েছিল অনেক দেরিতে। ফলে, বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার এবার চলে গিয়েছেন অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। যেমন – নারায়ণ দাস, প্রণয় হালদার, টি হাওকিপ ও বিক্রমজিৎ সিং। নতুন ফুটবলারদের নিয়ে আবার নতুন করেই শুরু করতে হচ্ছে জিকোকে তাই। রবিন সিং এসেছেন। তবে সমর্থকদের আশাহত হওয়ার বিশেষ কারণ নেই। মাঝমাঠের দুই স্তম্ভ রোমিও ফেরনানদেজ ও মন্দার রাও দেশাই আছেন এবারও।

    ‘জানি, এবার ট্রফি চাই। ফুটবলে ওটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে, প্রথম দু’বছরে যে একেবারে খারাপ খেলেছি, এমন তো নয়! নতুন মরসুমেও সর্বস্ব দিয়েই চেষ্টা করব, যেমন করে এসেছি আগের দু’বছরে,’ বলেছেন জিকো।

    এবার যে ট্রফি ছাড়া আর অন্য কিছুই ভাবতে চাইছেন না জিকো, প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল তাঁর সিদ্ধান্তে। এফসি গোয়া-র পুরো দল নিয়ে ব্রাজিলে চলে গিয়েছিলেন প্রাক-মরসুম অনুশীলনের জন্য। তিন সপ্তাহ রিও দে জানেইরো-তে ছিল এফসি গোয়া। জিকোর ফুটবল-স্কুলে অনুশীলন করেছিল। চারটি প্রীতি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জিতলেও, জিকো খুশি দলের প্রস্তুতিতে।

    রক্ষণে লুসিও আর গ্রেগরি আর্নোলিন জুটিকে প্রথম ম্যাচে ভঙ্গুর দেখালেও বাকি তিন ম্যাচের দুটিতে তাঁরাই আবার নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই দুটি ম্যাচে গোল খায়নি এফসি গোয়া। স্ট্রাইকার রাফায়েলও ছন্দে ফিরেছেন। ব্রাজিলের নতুন ফুটবলারদের - ত্রিনদাদে গোনকালভেস, রাফায়েল দুমাস ও রিচার্লিসন - খেলা জুগিয়েছে ভরসা।

    চিন্তা তবুও থাকছেই কারণ তিনকাঠির তলায় যে তিনজনকে নেওয়া হয়েছে, সবাই ভারতীয়।লক্ষীকান্ত কাট্টিমনি গতবার তারকা হয়ে গিয়েছিলেন। সেই ছন্দ এবারও ধরে রাখতে পারেন কিনা দেখার অপেক্ষায় থাকবেন সবাই। শুভাশিস রায়চৌধুরি আর সুখদেব পাটিল বাকি দুই গোলরক্ষক।

    আইএসএল-এর প্রথম দুটি মরসুম যা শিখিয়েছে, অভিজ্ঞতা আর দলগত শক্তিই আসল, ট্রফি জিততে। বড় নামের পেছনে অনাবশ্যক ছোটাছুটির চেয়ে যা ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই কথাটাই মাথায় রেখে দল সাজিয়েছেন জিকো।

    No comments