• Breaking News

    আবাস কি পারবেন এটিকে-র সাফল্য-মন্ত্র পুনেতেও ফিরিয়ে আনতে?

    আইএসএল রিলিজ

    habas

    এফসি পুনে সিটি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, এবার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ধরা দেবে তাদের হাতে।কিন্তু, ইন্ডিয়ান সুপার লিগের তৃতীয় মরসুম শুরুর আগেই বিরাট ধাক্কা খেল দুজন তারকা ফুটবলারের চোটে।
    মার্কি ফুটবলার আইডুর গুডজনসন ও ডিফেন্ডার আন্দ্রে বিকে-র চোট খানিকটা হলেও পিছিয়ে দিয়েছে পুনে-কে।গুডজনসন গিয়েছিলেন ২০১৬ ইউরোতে, যেখানে তাঁর দেশ আইসল্যান্ড হইচই ফেলে দিয়েছিল দুর্দান্ত ফুটবল খেলে।চেলসি ও বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন গুডজনসন। আশা ছিল, এবারের আইএসএল-এ পুনের হয়ে দুরন্ত খেলবেন মার্কি ফুটবলার। স্পেনে প্রাক-মরসুম অনুশীলনে ছন্দেই ছিলেন। কিন্তু চোট-সমস্যায় তাঁর আইএসএল অভিযান শুরুর আগেই থমকে গেল।একা তিনিই নন, ক্যামেরুনের ডিফেন্ডার বিকেও ছিটকে গেলেন সেই চোট পেয়েই।
    এবার শুরু থেকে নিজেদের কৌশল পাল্টেছিল পুনে। আগের দুবার তারা ছুটেছিল বড় নামের পেছনে।সেই বিখ্যাত তারকারা প্রত্যাশানুযায়ী পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। এবার তারা বিশ্বাস রাখতে চেয়েছেন সেই ফুটবলারদের ওপর, আইএসএল-এ যারা ভাল খেলে এসেছেন। আশা করা হচ্ছে, নিজেদের কাঁধে এই প্রত্যাশার চাপ তুলে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তাঁরা।
    আর এই প্রক্রিয়াটা শুরুই হয়েছিল সবার আগে আন্তোনিও লোপেজ আবাসকে সই করিয়ে, কোচ হিসাবে।প্রথম আইএসএল জিতেছিলেন আবাস, আতলেতিকো দে কলকাতার হয়ে। পরের বার সেমিফাইনালে হারেন, দ্বিতীয় আইএসএল-এ শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়িন এফসি-র কাছে। এবার তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন নতুন দলে এসে। আবারও কি দেখাতে পারবেন আবাস-ম্যাজিক?
    ‘প্রাক-মরসুম অনুশীলনে সুযোগ পাওয়া গিয়েছে ফুটবলাদের দেখে নেওয়ার। একসঙ্গে থেকে দলগত খেলায় উন্নতির কাজও এগিয়েছে। ফুটবলারদের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা হয়েছে, তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতির চেষ্টাও হয়েছে। ম্যাচ জেতার জন্য যে শারীরিক সুস্থতা জরুরি তা-ও বাড়ানোর জন্য খেটেছি আমরা’, জানিয়েছেন আবাস।
    পুনে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে, আগামী ৩ অক্টোবর। সেই ম্যাচে অনেক নামই চেনা। সবার আগে অবশ্যই এদেল বেতে, পুনের গোলরক্ষক। পরপর দুবার আইএসএল-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন যিনি, দুটি বিভিন্ন দলের হয়ে – আতলেতিকো দে কলকাতা এবং চেন্নাইয়িন এফসি। এবার পুরনো কোচের সঙ্গে আবার মাঠে বেতে, আইএসএল জেতার ক্ষেত্রে হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে।
    আবাস মাঝমাঠেও এমন ফুটবলারদের রেখেছেন যাঁরা গতবার ভরসা জুগিয়েছিলেন। যেমন এফসি গোয়ার গতবছরের তারকা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জোনাথন লুক্কা। তিনি এবার পুনে-তে। নর্থইস্ট ইউনাইটেড থেকে এসেছেন ব্রুনো আরিয়াস।
    ‘প্রাক-মরসুম অনুশীলনে আমাদের একটাই উদ্দেশ্য ছিল, ম্যাচ-ফিটনেস বাড়ানো। ফিটনেস না থাকলে ট্যাকটিক্স, টিম স্পিরিট বা টেকনিক্যাল স্কিল, কোনও কিছুই কাজে আসে না’, বলেছেন আরিয়াস।
    আবাস কোচ হিসাবে বেশ কড়া। তাই এমন কিছু ফুটবলার নিয়ে এসেছেন যাঁরা তাঁর কাজ ও খেলার ধরনের সঙ্গে পরিচিত।ডিফেন্ডার অগাস্তিন ফেরনান্দেস ও স্ট্রাইকার ইজুমি আরাতাকে নিয়ে এসেছেন।আরও যাঁদের সই করিয়েছেন, যেমন ফ্রান্সিস ফেরনান্দেস (দিল্লি ডায়নামোস), নারায়ণ দাস (এফসি পুনে সিটি), ইয়ুমনাম রাজু (নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি) ও সঞ্জু প্রধান (নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি) – সবাই বিশ্বাসী ওই পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার মন্ত্রে।
    ‘ফুটবলারদের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং কোচের দর্শন, ইত্যাদি নিয়ে প্রাক-মরসুমে আলোচনা হয়েছে, কাজও হয়েছে’, বলেছেন আরাতা।আতলেতিকোর হয়ে গত মরসুমে আরাতা পাঁচটি গোল করেছিলেন।
    আবাস এবং তাঁর ফুটবলারদের অনেক কিছু প্রমাণ করতে হবে। প্রাক-মরসুম অনুশীলনের পর দলগত শক্তিতে যে বিশ্বাস তৈরি হয়েছে, সঙ্গে আবাসের নিখুঁত পরিকল্পনা মিলিয়ে পুনের সামনে এখন একটাই রাস্তা খোলা, আরও ওপরে ওঠার!

    No comments