• Breaking News

    মালিকানা, কোচ, মার্কি বদলেও কেরলের লক্ষ্য একই

    আইএসএল রিলিজ

    kerala-blasters-logo-isl_1joi69y18czay1bo6f9pnx999y

    এদেল বেতের আঙুল বাধা হয়ে না-দাঁড়ালে, ইন্ডিয়ান সুপার লিগের প্রথম মরসুমেই ইতিহাস লিখে ফেলতে পারত কেরালা ব্লাস্টার্স। ফাইনালে পৌঁছেছিল তারা। লড়েছিলও শেষ পর্যন্ত। একেবারে শেষ মিনিটের গোলে ট্রফি জিতেছিল আতলেতিকো দে কলকাতা।

    সব কিছু চিত্রনাট্য অনুযায়ীই চললে, কেরলের সমর্থকরা উৎসবে মেতে ওঠার জন্য পেতেন পর্যাপ্ত সুযোগ। কিন্তু, যা ভাবা হ্য়, ফুটবল মাঠে সবসময় হয় না। হয়ওনি। ভক্তরা ভাগ্যকেই দায়ী করেছিলেন, ওইভাবে শেষ মুহূর্তের গোলে হারের জন্য। দ্বিতীয় মরসুম অবশ্য হৃদয় আরও ভেঙে দিয়েছিল তাদের। কেরল লড়ছিল নিজেদের ছন্দ ফিরে পেতে। কোচ বদলেও অবস্থান বদলায়নি। আট দলের লিগে অষ্টম অর্থাৎ সবার নিচে শেষ করেছিল কেরল।

    দাক্ষিণাত্যের কেরল গর্বিত হয় ফুটবলপ্রেমী রাজ্য হিসাবে। হয়ত এই শেষ স্থানটা তাদের প্রাপ্য ছিল না। এবার তৃতীয় মরসুমে এসে মালিকানায় হাতবদল হয়েছে। এসেছেন নতুন কোচও। তবে কিছু জিনিস যেমন পাল্টায় না, আইএসএল-এ কেরলের কোচের দায়িত্বে ইংরেজদের থাকার রীতিও পাল্টায়নি!

    এই মরসুমে কেরলের প্রশিক্ষক হিসাবে আছেন স্টিভ কোপেল, ইংল্যান্ডে যিনি অন্যতম জনপ্রিয়। গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের কোপেলকে আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না। পরে, রিডিং এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের দায়িত্ব নিয়ে কোচ হিসাবে খ্যাতি বাড়িয়েছেন নিজের। কেরলে, তাঁর নতুন দলে এসে, কী করবেন কোপেল, ভবিষ্যৎ বলবে। কিন্তু মানতেই হবে যে, শুরুটা মন্দ করেননি কোপেল।

    অ্যারন হিউজকে মার্কি ফুটবলার হিসাবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত একেবারে ঠিক। অনেকগুলি ফ্র্যাঞ্চাইজিই আবার বড় নামের পেছনে ছুটেছে, মার্কি ফুটবলার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে। কেরল তা না করে হিউজকে বেছে নিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, হিউজ আবার কে? কেরল তা নিয়ে একেবারেই ভাবিত নয়। জানে যে, হিউজের পরিচয় পাওয়া যাবে খেলার মাঠেই, চুপ করিয়ে দেবে সমালোচকদের। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের হয়ে হিউজই গোলরক্ষক ছাড়া প্রথম অন্য ফুটবলার যিনি ১০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন দেশের হয়ে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৪৬০ ম্যাচ খেলেছিলেন, যে রেকর্ড নিঃসন্দেহে ঈর্ষণীয়। সদ্য শেষ হওয়া ইউরো ২০১৬য় ফ্রান্সে প্রতিনিধিত্বও করেছিলেন নিজের দেশের। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড সবাইকেই চমকে দিয়েছিল নকআউট পর্বে পৌঁছনোর যোগ্যতার্জন করে।

    নিউক্যাসলের প্রাক্তন স্ট্রাইকার মাইকেল চোপড়াকে আরও একবার আইএসএল-এ নিজের প্রতিভার স্বরূপ দেখানোর সুযোগ দিয়েছে কেরালা ব্লাস্টার্স। এই সিদ্ধান্তে কেরলের হারানোর কিছুই নেই। তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে ফরাসি ডিফেন্ডার সেদরিক হেঙ্গবার্ত-কে বুঝিয়ে আরও একটি মরসুমের জন্য চুক্তিবদ্ধ করতে পারায়। প্রথম বছরে সেদরিক বেশ ভাল খেলেছিলেন কেরলে। কিন্তু গত বছর চলে গিয়েছিলেন নর্থইস্ট ইউনাইটেডে। সেখান থেকে এ-মরসুমের জন্য, আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে কেরলে।

    ঘরোয়া আসর থেকেও যাঁদের সই করানো হয়েছে, প্রত্যেকে যথেষ্ট উঁচুমানের ফুটবলার। যেমন, গতবার যে-ফুটবলার নিলামে অংশ নিয়েছিলেন, সেই রিনো আন্তোকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তাঁর ‘হোম’ অর্থাৎ ঘরে। আতলেতিকো-তে বেশ ভাল খেলেছিলেন রিনো। সঙ্গে আনা হয়েছে থোংখোসিয়েম হাওকিপকে। আইএসএল-এ তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় স্ট্রাইকার যাঁর হ্যাটট্রিক আছে। কেরল কী চাইছে, পরিষ্কার। ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলেন যাঁরা সেই সন্দেশ ঝিঙ্গন, সিকে বিনীত এবং মেহতাব হোসেনকে তো রেখেই দেওয়া হয়েছে।

    হয়ত ঠিক যে, কেরালা ব্লাস্টার্সের বিদেশিরা তত নামকরা নন যতটা অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কোচ স্টিভ কোপেল ভরসা রেখেছেন তাঁদের ওপর। ভারতীয় ফুটবলারদের দক্ষতায়ও অগাধ আস্থা তাঁর। মনে করছেন, আরও উন্নতি করতেই পারেন ভারতীয়রা। থাইল্যান্ডে প্রাক-মরসুম অনুশীলনে গিয়েছিল কেরল। ম্যাচের ফল বলছে, ছন্দে এসে গিয়েছে দল। কেরলে এমনিতেই ভক্তদের সঙ্গে দলের ফুটবলারদের সম্পর্ক গভীর। ফুটবলের সঙ্গে চট করে মানিয়ে নেন সমর্থকরা। এখন ফুটবলারদের দায়িত্ব, বিপক্ষ দলের ওপরও এই দাপট চালিয়ে যাওয়া। তা হলেই ‘ফিল গুড’ ব্যাপারটা ফিরে আসবে কেরলে, আবার!

    No comments