• Breaking News

    ট্রফি ফিরিয়ে আনার লড়াই আতলেতিকো দে কলকাতার

    helder-postiga-celeb-0310আইএসএল রিলিজ



    আতলেতিকো দে কলকাতা কি এবার একটু পিছিয়ে শুরু করছে? যাঁদের সই করিয়েছে, বড় নাম নেই। প্রাক-মরসুম অনুশীলনে যে-ম্যাচগুলো খেলেছে, নেই তেমন উল্লেখযোগ্য ফল। এমনকি, ইন্ডিয়ান সুপার লিগের তৃতীয় মরসুমে তাঁরাই জিতবে, এমন দাবিও সেভাবে উঠল কই? নতুন কোচ এবার তাদের দায়িত্বে। খেলবেও যুবভারতীর জায়গায় নতুন স্টেডিয়ামে। সব মিলিয়ে কলকাতার বাইরে থাকেন যাঁরা, মনে হতে পারে যে আতলেতিকো হয়ত এবার বিরাট কিছু আশা করছে না। কিন্তু, তেমন ভাবলে ভুল হবে। ভারতীয় ফুটবলের মক্কায় দ্বিতীয় হওয়াকে কেউই আমল দেয় না!
    কলকাতার প্রাক্তন কোচ আন্তোনিও আবাস খুব ভাল করেই জানেন এই প্রত্যাশার পাহাড়প্রমাণ চাপের কথা। নিজের দলের শক্তি দুর্দান্তভাবে কাজে লাগিয়ে প্রথমবার জিতেছিলেন খেতাব। কিন্তু, গতবার হেরেছিলেন সেমিফাইনালে, চেন্নাইয়িনের কাছে। কলকাতা একেবারেই সন্তুষ্ট হয়নি তাতে। আবাসের মনে হয়েছিল নতুন চ্যালেঞ্জ দরকার। তাই কলকাতা ছেড়ে চলে এসেছেন এফসি পুনে সিটিতে।
    আতলেতিকো যে সে জন্য বিরাট চাপে পড়েছিল, এমনও নয়। আবাসের পরিবর্ত খুঁজতে বিশেষ সময় নেয়নি। আর এক স্পেনীয় হোসে ফ্রান্সিকো মোলিনা-কে দিয়েছে দায়িত্ব। মোলিনা ছিলেন আতলেতিকো মাদ্রিদের ডিফেন্ডার, স্পেনের যে-ক্লাবের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে আইএসএল খেলতে শুরু করেছিল কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি। ২০১০ সালে মোলিনা দায়িত্ব নিয়েছিলেন ভিয়ারেয়ালের। তেমন বলার মতো সাফল্য পায়নি ক্লাব। কিন্তু, আতলেতিকো কলকাতার দায়িত্ব নেবেন, নিশ্চিত করে ফেলার পরই সাফল্য এসেছিল। হংকংয়ে তখন তিনি কিচি এসসি ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন এবং কিচি এসসি জিতেছিল হংকংয়ের ঘরোয়া ত্রিমুকুট।
    ভারতে অবশ্য একই মরসুমে তিনটি খেতাব জেতার সুযোগ নেই, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ক্ষেত্রে। একটই প্রতিযোগিতায় খেলবে মোলিনার দল, আইএসএল। যদি পারেন খেতাব জিততে, কলকাতা পেয়ে যাবে তাদের নতুন নায়ককে।
    আতলেতিকো কলকাতার যা দল, গতবারের হারানো খেতাব কিন্তু ফিরে পেতেই পারে। আক্রমণভাগের দিকে তাকালেই বুঝবেন, কতটা শক্তিশালী তারা। গোল পাওয়ার জন্য তাদের সেরা ভরসা হেলদের পোস্তিগা। পর্তুগালের জাতীয় দলের প্রাক্তন তারকার সঙ্গে আছেন ইয়ান হিউম, প্রথম বছরে যিনি জিতেছিলেন সবচেয়ে বেশি গোলের সোনার বল। দুজনের যা গোলের রেকর্ড, আইএসএল-এ সবচেয়ে বিপজ্জনক জুটি হয়ে উঠতে পারে পোস্তিগা-হিউম। গতবার পোস্তিগা চোটের কারণে খেলতেই পারেননি প্রায়। কিন্তু সুস্থ পোস্তিগা যে বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারেন, আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। একই কথা প্রযোজ্য হিউম সম্পর্কেও। কানাডার হিউম আবার পরিশ্রমীও, যে-কারণে তিনি চ্যম্পিয়ন।
    মোলিনার সবচেয়ে বড় সুবিধা, দলে বিদেশি ফুটবলারদের বেশিরভাগই আগের বছরেও ছিলেন। মোট সাতজন বিদেশিকে ধরে রেখেছে আতলেতিকো। অর্থাৎ পোস্তিগা, হিউম, হোসে লুইস এসপিনোসা আরোয়ো (তিরি), সমীঘ দুতি, ওফেনসে নাতো বোরহা ফেরনান্দেস ও জাভি লারা-রা পরিচিত আইএসএল-এর পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে, প্রত্যাশার চাপ সম্পর্কেও।
    সত্যি কথা বলতে কী, কলকাতার কোনও দল দেশে ফুটবলের কোনও লিগেই সাধারণ স্তরে থেকে যেতে পারে না! কোনওভাবেই ভক্তরা মেনে নেবেন না তেমন মানসিকতা। আর দেশেরও যে-প্রতিভাদের সই করিয়েছে আতলেতিকো, তেমন ভাবার জায়গাও নেই। মাঝমাঠ দেখুন। বিক্রমজিৎ সিং, লালরিনডিকা রালতে এবং বিকাশ জাইরু তো আছেনই, গোলে দেবজিৎ মজুমদার ছাড়াও রক্ষণে কিংশুক দেবনাথ, কীগান পেরিরা ও প্রীতম কোটাল আছেন, দলকে নির্ভরতা দিতে।
    কলকাতার যে কোনও ভক্তকে জিজ্ঞেস করুন, শুনবেন, আইএসএল খেতাব এবার আবার ফিরে আসছে কলকাতাতেই! কোচ পাল্টেছে তো কী হয়েছে? যুবভারতীর জায়গায় নতুন মাঠে খেলতে হবে, যেখানে অনেক কম সমর্থক খেলা দেখতে বা দলকে সমর্থন জানাতে যেতে পারবেন, কিন্তু তাতে হয়েছেটা কী? প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থেকেই আশায় বুক বাঁধছেন সমর্থকরা। এবার তাদের নতুন লড়াই, প্রথমবারে জেতা ট্রফিটা আবার কলকাতায় ফিরিয়ে আনার।

    No comments