• Breaking News

    পাকিস্তান প্রসঙ্গে ‘খেলা থেকে রাজনীতিকে দূরে রাখাই শ্রেয়’ মত জয়দীপ-দীপা-অতনুর

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    dsc_0168

    প্রশ্ন ছিল, যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে হয় আজকের এই পরিস্থিতিতে, দীপা কর্মকার, অতনু দাস, জয়দীপ কর্মকারকে - খেলবেন কি?

    সবচেয়ে সিনিয়র জয়দীপ এগিয়ে এলেন উত্তর দিতে। ‘দেখুন অলিম্পিক স্পোর্টস-এর ব্যাপারটা আলাদা। অন্য অনেক দেশের কম্পিটিটর থাকে। তা ছাড়া, যত প্রতিযোগিতায় খেলতে গিয়েছি, পাকিস্তানি প্রতিযোগীদের সঙ্গে দুর্দান্ত সম্পর্ক হয়েছে। ওরাও যেমন বলে ইন্ডিয়ানরাই ওদের বেস্ট ফ্রেন্ড, আমরাও বলি। ক্রিকেট বা অন্য খেলার ব্যাপারে বলতে পারব না, কিন্তু অন্যান্য খেলায় ওরা তো পরিষ্কার বলে যে, আমরা ভারতে যতটুকু সুযোগ সুবিধা পাই, ওরা পায় না। রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্তরে যদি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আলাদা কথা। আমার কোনও বক্তব্য নেই সে-ব্যাপারে। খেলার আসরকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখাটাই কাম্য।’

    dsc_0370

    অতনু-দীপা লুফে নিলেন জয়দীপের বক্তব্য। দীপা জুড়েও দিলেন, ‘অলিম্পিকে তো পাকিস্তানি কোনও জিমন্যাস্ট কোয়ালিফাই-ই করেনি, করে না সচরাচর। তা হলে, ভেবে কী করব?’ জয়দীপ-দীপা, দুই ‘চতুর্থ’ কর্মকারের খেলায় আরও সমস্যা, ব্যক্তিগত স্তরে এমন সরাসরি লড়াই হয় না। প্রাথমিক পর্বে বহু দেশের বহু শুটার বা জিমন্যাস্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অধিকাংশ সময়ই সেরা আটজন ওঠেন ফাইনালে। একই দেশের দুজন উঠতে পারেন যেমন, আট দেশের আটজনও পারেন উঠতে। সমস্যা, সেখানে পাকিস্তানের কেউ থাকলে ‘খেলব না’ বললে, বাকি ছয় দেশের প্রতিযোগীর বিরুদ্ধেও খেলা সম্ভব নয়!

    উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে। ধরুন, আগামী বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ-এ দীপা সেরা আটে জায়গা পেলেন, পদকজয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষায়। আরও ধরা যাক, বাকি সাতজনের মধ্যে দুজন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের, একজন করে রাশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, রোমানিয়া, চিন ও পাকিস্তানের। কী করবেন দীপা? কীভাবে পাকিস্তানি সেই জিমন্যাস্টকে এড়িয়ে যাবেন? সম্ভব? একমাত্র সম্ভব হতে পারে যদি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থা পাকিস্তানকে এমন আসরে খেলতে না-দেয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনও অলিম্পিক খেলার সঙ্গে যুক্ত কারও পক্ষেই নেওয়া সম্ভব নয়, ব্যক্তিগত পর্যায়ে।

    ‘সিরিয়াস’ আলোচনা বলতে ওটুকুই। মিনিট ১৫-২০র সাংবাদিক সম্মেলনে বাকি সবই পুজোর আগের মেজাজ। দীপা যেমন আবার দিল্লি যাচ্ছেন। যদি জার্মানিতে একটি প্রতিযোগিতার জন্য খেলতে যাওয়া নিশ্চিত হয়, কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দীর কথায়, ‘পুজোয় বাড়িতে থাকা হবে না।’ অতনু আবার খুশি, সাত বছর পর এবার পুজোয় কলকাতায় থাকবেন বলে। ‘মাসখানেক হল, বাড়িতেই থাকছি বেশিরভাগ সময়। মায়ের হাতের রান্না খেয়ে খেয়ে কয়েক কেজি ওজন বাড়িয়েও ফেলেছি। এবার থাকছি পুজোয়, আরও কয়েকটা দিন নিয়মের বাইরে থাকব। গুছিয়ে আনন্দ করব। তারপর আবার ফিরে যাওয়া খেলার রুটিনে।’ দীপার প্রিয় খাবার যেমন ইলিশ মাছ আর বাঙালি খাবার, মিষ্টিও, যা বেশি খেতে পারেন না। তবে খাচ্ছেন এখন টুকটাক। খেলার জগৎ এমনই নিষ্ঠুর যে, প্রিয় খাবারের দিকে চোখ তুলে তাকানোও মানা!

    dsc_0461

    ‘টোয়েন্টি-টোয়েন্টি টোকিও’ এখন থেকেই দীপা-অতনুদের ‘টার্গেট’। সাড়ে তিন বছর ধরে চলবে নিজেদের নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলনে ডুবিয়ে রাখার নিরলস সাধনা। মাঝেমাঝে কখনও এমন একটু নিখাদ আনন্দ, সামাজিক দায়িত্ব পালন। যেমন করলেন আজ, বিধাননগর মিলনমেলা মাঠে, কেএমডিএ সিভিল কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার সংস্থার আমন্ত্রণে এসে। সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে।

    কেএমডিএ সিভিল কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার সংস্থার জন্ম ২০০২ সালে। দুঃস্থ মানুষের পাশে আছে তারা, শুরু থেকেই। যেমন, দশহাজার দুঃস্থ শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হল নতুন বস্ত্র, পুজোর আগে। থ্যালাসেমিয়া এবং ক্যান্সার-আক্রান্ত রোগীদের জন্য থাকল অর্থসাহায্য। প্রতিবন্ধীদের দেওয়া হল হুইল চেয়ার। দীপা-অতনু-জয়দীপ-বিশ্বেশ্বরের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন আর-এক চতুর্থ বদ্রু ব্যানার্জিও। তাঁরাও বাড়ালেন হাত। আর, সবার সোচ্চার ভালবাসা সঙ্গে নিয়ে অতনু-দীপার প্রতিশ্রুতি থেকে গেল, ‘২০২০ টোকিও থেকে পদক আনার জন্য যা-যা সম্ভব, করব।’

    সব ছবি – সন্দীপ দত্ত

    No comments