• Breaking News

    পরিবর্ত পোস্তিগা শীর্ষে তুললেন কলকাতাকে

    নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি ১           আতলেতিকো দে কলকাতা ২


    (আলফারো ৩৯)                 (পোস্তিগা ৬৩, বেলেনকোসো ৮২)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2146" align="alignleft" width="300"]পোস্তিগার গোলের হেড। ছবি - আইএসএল পোস্তিগার গোলের হেড। ছবি - আইএসএল[/caption]

    হোসে মোলিনা নেই সাইডলাইনে। মাঠে নেই এলদের পোস্তিগা,ইয়াইন হিউম। কী করতে চেয়েছিলেন মোলিনা, বোঝা মুশকিল। বিশেষত অ্যাওয়ে ম্যাচে। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে যে-জুটিকে তৃতীয় ইন্ডিয়ান সুপার লিগের সবচেয়ে বিপজ্জনক জুটি ভাবা হয়েছিল, দুজনই মাঠের বাইরে!

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে যখন দল পিছিয়ে ০-১। উপায়ান্তর নেই দেখে পোস্তিগা মাঠে। তা-ও আবার সমীঘ দুতির জায়গায়,হাভি লারা ছাড়া বিদেশিদের মধ্যে এতদিন যিনি সবচেয়ে ধারাবাহিক।

    কিন্তু, ম্যাচ পাল্টে গেল তারপরই। নিজে গোল করে সমতা ফেরালেন পোস্তিগা। দ্বিতীয় গোলেও তাঁর অবদান থেকেই গেল। তা ছাড়াও, ছ’মিনিটের ইনজুরি টাইমের একেবারে শেষের দিকে, মাঠে সদ্য-আসা বিক্রমজিতের জন্য সাজিয়ে দিয়েছিলেন বল। বিক্রমজিতের শট তিনকাঠিতে থাকলে জয়ের ব্যবধান বাড়তেই পারত। মাঠে নেমে দেখিয়েছিলেন তাগিদ। থ্রো করতে যাচ্ছেন, কর্নার নিতে যাচ্ছেন। চোট সারিয়ে মাঠে ফিরতে মরিয়া ছিলেন বোঝাতে যা যথেষ্ট। সঙ্গত কারণেই মাঠে পরিবর্ত হিসাবে এসেও ম্যাচের নায়ক পর্তুগিজ তারকা।

    প্রথমার্ধে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে এগিয়ে দিয়েছিলেন এমিলিয়ানো আলফারো। ডানদিক থেকে নির্মল ছেত্রীর মাপা ক্রসে আলফারোর হেড এবং গোল। কলকাতা বক্সে তখন তিনজন ডিফেন্ডার, কেউ আলফারোকে আটকাতে পারেননি। প্রতিযোগিতায় উরুগুয়ের আলফারোর পঞ্চম গোল। আছেন গোলদাতাদের তালিকায় সবার ওপরে। নিজের ষষ্ঠ গোল করে ফেলার সুযোগ বেশ কয়েকবার পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি অবশ্য আলফারো।

    যেভাবে গোল খেয়েছিল, অনেকটা একই ভাবে গোল শোধ কলকাতার। রালতে ক্রস রেখেছিলেন বাঁদিক থেকে। পোস্তিগার সঙ্গেই ছিলেন জোকোরা। কিন্তু পর্তুগিজ ফুটবলার দেখালেন,কেন তিনি ছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সতীর্থ, পর্তুগাল দলে। তিনকাঠি কোথায় না দেখেই হেডে প্রথম পোস্টে রেখে যান বল, সুব্রত পালের কিছু করারই ছিল না।

    শট নিতে গিয়ে কুঁচকিতে সুব্রতর চোট, বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। পোস্তিগার পা থেকে গেল দ্বিতীয় গোলের পেছনেও, তার ঠিক পরেই। তাঁর শট নর্থইস্টের এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে চলে গিয়েছিল বাঁদিকে উঠে আসা রালতের পায়ে। বক্সের মাঝে একেবারে ফাঁকায় থাকা বেলেনকোসোর পায়ে সহজেই বল পৌঁছে দিয়েছিলেন রালতে। ম্যাচে তাঁর দ্বিতীয় গোলের পাস। আর বেলেনকোসোও পেলেন আইএসএল-এ নিজের প্রথম গোল। কলকাতা এগোল।

    দুটি দলই আগের ম্যাচে হেরেছিল। নর্থইস্ট হেরেছিল চেন্নাইয়িনের কাছে, কলকাতার হার মুম্বই সিটির কাছে। এবং দু’দলই কিন্তু হেরেছিল নিজেদের ঘরের মাঠে। নর্থইস্ট এবারও পারল না ঘরের মাঠে জিততে, মানে টানা দুটি ম্যাচে দলের ভক্তদের চোখের সামনে হার। অবশ্য দুটি পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়ার অভিযোগ তুলতে পারে। ১৬ আর ৩৫ মিনিটে যথাক্রমে কাতসুমি ও আলফারোকে পেনাল্টি বক্সে অবৈধভাবে আটকানো হয়েছিল, এই অভিযোগে। রেফারি কান দেননি কোনওবারই। একেবারে শুরুতে দুটি ম্যাচ ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে জিতে ৬ পয়েন্টের পর, শেষ দুটি ম্যাচে ঘরে তুলল শূন্য পয়েন্ট!

    টানা তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে হবে কলকাতাকে। যার প্রথমটি জিতে শুরু করায়, আতলেতিকো বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে পুনে যাবে, প্রথম দুবছর তাদের কোচ আন্তোনিও আবাসের বিরুদ্ধে খেলতে। ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট, তালিকায় শীর্ষে থেকে। নর্থইস্ট শুরুটা দুর্দান্ত করেও খানিকটা পিছিয়ে পড়েছে কিন্তু। ৭ ম্যাচে ১০, জন আব্রাহামের দল এখন তালিকায় তৃতীয়।

    No comments