• Breaking News

    হিউমের পেনাল্টিতে এখন দ্বিতীয় কলকাতা

    আতলেতিকো দে কলকাতা ১ দিল্লি ডায়নামোস ০


    (হিউম ৭৮, পেনাল্টি)


    14794120_10154503710043820_1155616655_nআইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে প্রথমবার দিল্লি ডায়নামোসকে হারাল আতলেতিকো দে কলকাতা। তৃতীয় মরসুমে এসে। ঘরের মাঠ রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে এবারের পঞ্চম ম্যাচে দ্বিতীয় জয় পেল কলকাতা, ইয়াইন হিউমের পেনাল্টি-গোলে। আর তৃতীয় আইএসএল-এ প্রথম বার ম্যানেজার হিসাবে হারের মুখ দেখলেন জিয়ানলুকা জামব্রোতা।

    কলকাতার স্পেনীয় কোচ মোলিনা বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন। কলকাতার সেরা দুই ফুটবলার, হাভি লারা ও অর্ণব মন্ডলকে বসিয়ে দিয়ে। লারা না থাকায় কলকাতার খেলা তৈরির ছন্দই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, যে কারণে দিল্লি ডায়নামোস বেশ দাপট দেখাচ্ছিল মাঝমাঠে। বেশ কিছু সুযোগও তৈরি করে তারা যেগুলো থেকে গোল হলেও কিছু বলার ছিল না।

    যেমন, ৩৫ মিনিটে গাডজে এগিয়ে এসে বল দিয়েছিলেন মালুদাকে। ফরাসি বিশ্বকাপারের শট বাঁচান দেবজিৎ। গাডজের শট, পরে মার্সেলিনিওর শটও বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন কলকাতার গোলরক্ষক। এক মিনিটে পরপর তিনটি সেভ! দেবজিতের আত্মবিশ্বাসে মাঝেমাঝে খামতি দেখা গেলেও ওই সময় তিনি ছিলেন সেরা ছন্দে। ২৪ মিনিটে মালুদার ক্রস থেকে বল পেয়ে মার্সেলিনিও পরাস্ত করে ফেলেছিলেন আগুয়ান দেবজিৎকে। কিন্তু, গোললাইনের সামনে থেকে বল ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্রবীর দাস।

    প্রথমার্ধ জুড়ে দাপট ছিল দিল্লির। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে কলকাতা ফিরে এসেছিল খেলায়। প্রীতম কোটাল আর সমীঘ দুতি ডানদিক দিয়ে বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠে এসে বিপদ বাড়িয়েছিলেন, কিন্তু দিল্লির রক্ষণ সামলে দেয়। স্পেনীয় গোলরক্ষক দোবলাস বেশ কয়েকবার গোলমুখী বল ধরতে হলেও তেমন বিপজ্জনক কোনওটাই ছিল না। একবার শুধু ডিকার ফ্লিক বারে লেগে বাইরে গিয়েছিল।

    কলকাতা পিছিয়ে পড়তে পারত ৭৫ মিনিটে। তার ঠিক আগে, বক্সের মধ্যে গাডজেকে আটকাতে গিয়ে ফাউল করেছিলেন পর্তুগিজ সেরেনো ফোনসেকা। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে তাঁকে বাইরে যেতে হয়, কলকাতাকে শেষ ১৬ মিনিট খেলতে হয় দশজনে। পেনাল্টি পেয়েছিল দিল্লি, শট নিতে এগিয়েছিলেন মার্সেলিনিও, এবারের আইএসএল-এ আগেই যাঁর ছিল তিন গোল। কিন্তু, মার্সেলিনিওর বাঁপায়ের শট বারের ওপর দিয়ে বাইরে যাওয়ায় নতুন জীবন পেয়ে যায় কলকাতা। গোল দিতে পারলে নিজে চতুর্থ গোল পেয়ে শীর্ষে উঠে আসতেন অমিলিয়ানো আলফারোর সঙ্গে, গোলদাতাদের শীর্ষে, চাপে ফেলে দিতে পারতেন কলকাতাকেও।

    গোলটা কলকাতা পেল তার ঠিক চার মিনিট পর, দশজনে খেলতে খেলতেই। এবার দুতিকে আটকাতে গিয়ে লালছনকিমা পেনাল্টি দেন। কলকাতার পক্ষে পেনাল্টি নিতে আসেন হিউম এবং দোবলাসকে উল্টো দিকে ফেলে এনে দেন জয়ের গোল, এ-কারণে তিনিই ম্যাচের সেরাও। তিন মরসুম মিলিয়ে এই গোলের পর হিউম পৌঁছে গেলেন ১৮ গোল নিয়ে আইএসএল-এ সর্বকালের গোলদাতাদের শীর্ষে। পেছনে ফেললেন স্তিভেন মেন্দোজাকে (১৭)।

    মরসুমে প্রথম হারের পর ৫ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দিল্লি ডায়নামোস থেকে গেল পঞ্চম স্থানেই। জিতে কলকাতা পঞ্চম ম্যাচের পর ৯ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এল দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় এখন মুম্বই সিটি, ৮ পয়েন্টে, তিন দিন পরই যাদের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে থিয়েরি অঁরির উপস্থিতিতে খেলবেন হিউম-দুতি-লারারা।

    No comments