• Breaking News

    অঁরি: সারা দিন টিভিতে ক্রিকেট দেখলে তো ক্রিকেটারই হতে চাইবে বাচ্চারা!

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক

    [caption id="attachment_2122" align="alignleft" width="425"]অঁরির সঙ্গে নীতা আম্বানি ও সৌরভ। রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে। ছবি - আইএসএল অঁরির সঙ্গে নীতা আম্বানি ও সৌরভ। রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে। [/caption]

    ‘সারা দিন বাচ্চারা যদি টেলিভিশনে ক্রিকেট দেখে, ক্রিকেটার ছাড়া আর কী-ই বা হওয়ার স্বপ্ন দেখবে!’

    থিয়েরি অঁরির কথা। কলকাতায় এসে। ভারত সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েই এসেছেন, পরিষ্কার। ইংল্যান্ডে বহু বছর (১৯৯৯-২০০৭) খেলেছিলেন, আর্সেনালে। ক্রিকেট কী জিনিস, বিশ্বের অধিকাংশ ফুটবলার যেমন জানেনই না, অঁরি সেই গোত্রে পড়বেন না সেই কারণে। ইংরেজি জানেন, ক্রিকেট সম্পর্কেও খানিকটা ধারণা আছে। তেমনই জানেন, ভারতে ক্রিকেটটাই একমাত্র খেলা, অন্য খেলাগুলো আছে, ওই পর্যন্তই!

    তবে, অবস্থা পাল্টাচ্ছে। তাই অঁরির মনে হচ্ছে, ‘শেষ ১০-১৫ বছরে বাচ্চারা এখন টেলিভিশনে অন্য খেলাও দেখতে পাচ্ছে, বিশেষত ফুটবল। আর দেখতে পাচ্ছে বলেই আকর্ষণ তৈরি হচ্ছে। তারাও স্বপ্ন দেখতে শিখছে। এবার সেই স্বপ্নটাকে কাজে করে দেখানোর সময়টাও দিতে হবে। রাতারাতি হবে না। যদিও তেমন হলেই বোধহয় ভাল হত, কিন্তু ওভাবে হয় না। শুনলাম, এখন অনেক কম বয়স থেকেই ফুটবল খেলা শেখানো হচ্ছে। ঠিক পথেই এগোচ্ছে ভারতীয় ফুটবল।’

    জিদান-জমানায় দেশের হয়ে খেলার সুবাদে তিনটি বড় ট্রফিই জিতেছেন। বিশ্বকাপ ১৯৯৮ সালে, ২০০০ সালে ইউরো আর ২০০৩ সালে কনফেডারেশনস কাপ। শুধু ওই কনফেডারেশনস কাপে ছিলেন না জিদান। ফ্রান্স ২০০৬ সালেও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু সেবার জিততে পারেনি, মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুঁসো মেরে জিদান লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বলে। ইতালি সেই ফাইনাল জিতেছিল টাইব্রেকারে।

    ক্লাব ফুটবলে আর্সেনাল তাঁকে খ্যাতি ও পরিচিতির সঙ্গে দিয়েছিল ইংল্যান্ডের ঘরোয়া সব খেতাব। প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড। কিন্তু, লক্ষ্য ছিল ইউরোপীয় খেতাব। তাই শেষ দিকে যেতেই হয়েছিল বার্সেলোনায়। কাতালুনিয়ায় গিয়ে তিন বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপও পেয়েছিলেন। মেসি-এতোর সঙ্গী হয়ে সেখানে যাত্রা সম্পূর্ণ হয়েছিল অঁরির, ক্লাব ফুটবলে।

    স্বীকার করলেন, ভারতে আসার আগে তাঁর কোনও ধারণাই ছিল না ভারতীয় ফুটবল সম্পর্কে। ‘এখানে পৌঁছে পরিষ্কার বুঝতে পারছি, আপনারা ঠিক কতটা আবেগপ্রবণ, ফুটবল নিয়ে। খু্বই ভাল লাগছে দেখে। টিভির কল্যাণে এখন সবাই জানেন গোটা বিশ্বের জনপ্রিয়তম খেলার নাম ফুটবল। তাই, ছোটরাও এখানে ফুটবলে উৎসাহী হচ্ছে এখন। চাই এমন কোচদের যাঁরা ঠিকঠাক শেখাবেন ওই কচিকাঁচাদের, দেখাবেন ঠিক রাস্তাটা। পরিশ্রম আর নিষ্ঠা থাকলে কী কী করা যায়, কোস্তা রিকা বা আইসল্যান্ড তো দেখিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে। ভারতও পারবে, ইচ্ছে এবং কিছু করে দেখানোর তাগিদ থাকলে, পরিশ্রম করলে।’

    কলকাতায় এসে হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে আতলেতিকো দে কলকাতা বনাম মু্ম্বই সিটি এফসি ম্যাচ দেখলেন, রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে বসে। তাঁর দুর্ভাগ্য, যুবভারতী স্টেডিয়ামের ভর্তি গ্যালারির জায়গায় রবীন্দ্র সরোবরের ১২ হাজারি গ্যালারি দেখেই কলকাতা ছাড়তে হচ্ছে। তবে, পুরনো বন্ধু দিয়েগো ফোরলানকে এখনও খেলতে এবং জয়ের গোল করতে দেখে উচ্ছ্বাস গোপন থাকেনি। ম্যাচের শেষে দুজনকে অনেকক্ষণ কথা বলতে দেখা গেল মাঠে দাঁড়িয়ে। প্রসঙ্গত, ২০০২-০৪, ফোরলানও খেলতেন ইংল্যান্ডেই, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে, যখন আর্সেনালে অঁরি-যুগ চলছিল।

    এখন বেলজিয়ামের জাতীয় দলে প্রধান কোচ রোবের্তো মার্তিনেজের সহকারী। হ্যাজার্ড-দে ব্রুইন-ফেলাইনি-লুকাকু-বেনটেকেদের শেখাচ্ছেন ফুটবলের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম দিকগুলো। যাওয়ার আগে জানিয়ে গিয়েছেন, আইএসএল-এর কোনও দলই তাঁকে কোচ হওয়ার কোনও প্রস্তাব আগে দেয়নি।

    দিলেও, বেলজিয়ামের সহকারী কোচের দায়িত্ব ছেড়ে কি আর আসতেন!

     

    No comments