• Breaking News

    টানা তিন ম্যাচে হারল জিকোর গোয়া

    চেন্নাইয়িন এফসি ২     এফসি গোয়া ০


    (মুলডার ১৫, মেহরাজ ২৬)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

     

    [caption id="attachment_1978" align="alignleft" width="300"]মেহরাজ, গোলে শট নেওয়ার ঠিক আগে। ছবি - আইএসএল মেহরাজ, গোলে শট নেওয়ার ঠিক আগে। ছবি - আইএসএল[/caption]

    মার্কো মাতেরাজ্জি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন ফুটবলারদের,‘হয় ঠিক করে খেলো, না হলে পরের মরসুমে আমি আর নেই হয়ত।’

    গতবারের হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে চ্যাম্পিয়নদের হয়ত এমন কড়া বার্তাই দরকার ছিল, জয়ের রাস্তায় ফিরতে। ফিরলেনও তাঁরা, ঘরের মাঠে। এই মাঠেই দিল্লি ডায়নামোসের কাছে তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ জামব্রোতার কাছে হার কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি মতেরাজ্জি। কাজ হল, তৃতীয় ম্যাচে তিন পয়েন্ট এল অবশেষে। এবং, গতবারের ফাইনালে যাদের হারিয়েছিলেন, আবারও সেই এফসি গোয়াকে হারিয়ে পরিষ্কার বুঝিয়ে দিল চেন্নাইয়িন, খেতাব ধরে রাখতে শেষ পর্যন্ত লড়বে অভিষেক বচ্চনের দল।

    ফাইনালে গতবার ৮৯ মিনিট পর্যন্ত ২-১ এগিয়ে ছিল জিকোর দল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পরপর দুটি গোল হজম করে ট্রফি ছুঁতে পারেনি। এবার চেন্নাইয়ের দুটি গোল প্রথমার্ধে, যথাক্রমে ১৫ ও ২৬ মিনিটে। তারপর, মাতেরাজ্জির দল গোল খায়নি বাকি ৬৪ মিনিট। বলা ভাল, গোয়ার স্ট্রাইকাররা গোল দিতে পারেননি!

    প্রথম গোল বক্সের বাইরে থেকে ডানপায়ের শটে। কাট্টিমনিকে পরাস্ত করেছিলেন হ্যান্স মুলডার। দ্বিতীয় গোলের সময় মেহরাজের ডান পায়ের শট গোয়ার ডিফেন্ডার দুমা-র গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে আশ্রয় নেয় জালে। দুটি আক্রমণের কোনওটিই সেভাবে গোলমুখ খুলে-ফেলা আক্রমণ নয়। দূর থেকে শট। কিন্তু, প্রথম গোলের সময় গোয়ার কোনও ডিফেন্ডার বাধা দেননি ম্যাচের নায়ক মুলডারকে। বিনা বাধায় শট নিতে পেরেছিলেন। দ্বিতীয় গোলের সময় তো মেহরাজের শট আটকানোর চেষ্টাতেই গোল।

    পরপর তিন ম্যাচে হার, গতবারের ফাইনাল ধরলে টানা চার ম্যাচে। হল কী জিকোর গোয়ার? টানা তিন মরসুম তিনি ম্যানেজার হিসাবে আছেন গোয়াতে। তৃতীয় মরসুমের শুরুতে গোয়ার নতুন মালিক বলেছিলেন, জিকোয় আস্থা আছে তাঁদের। এই মরসুমে নিশ্চয়ই কাঙ্ক্ষিত ট্রফি এনে দেবেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি। কিন্তু, তৃতীয় মরসুমের শুরুতে নর্থইস্ট ইউনাইটেড, পুনে এফসি-র পর এবার চেন্নাইয়িনের কাছেও হেরে, হারের হ্যাটট্রিক করে ফেলল জিকোর গোয়া। তিন ম্যাচ পর তারাই একমাত্র দল যাদের ঘরে একটি পয়েন্টও নেই!

    প্রধান কারণ অবশ্যই স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতা। বলের দখল পায়ে ছিল, আক্রমণও বেশি করেছেন দুই অর্ধেই, গোলমুখ খুলে ফেলেছেন, কিন্তু হয়নি কাজের কাজ। ফুটবলে শেষ পর্যন্ত গোলই আসল। কতবার বিপক্ষ বক্সে গিয়ে গোলের সুযোগ হারালেন তা দিয়ে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয় না। রেইনালদো, কোয়েলিও, খোফ্রেরা সবই করলেন, গোল পেলেন না। ম্যাচের শুরুতেই, দু’মিনিটে চেন্নাই গোলরক্ষক করণজিৎ যেভাবে বক্সের বাইরে সে রেইনালদোর গায়ে মেরে গোলের সুযোগ করে দিয়েছিলেন, তারপরও পেনাল্টির জন্য পড়ে না গিয়ে রেইনালদো যদি গোলের জন্য ঝাঁপাতেন, হয়ত শুরুতেই গোল পেয়ে খেলার ফল অন্যরকম হতেও পারত।

    কিন্তু, খেলাশেষে আপাতত জিকোর দল শূন্য পয়েন্টেই থাকল। আইএসএল-এর ইতিহাস যা দেখেনি কখনও, আগেরবারের ফাইনালিস্টদের কাছে। আর তৃতীয় ম্যাচে প্রথম জয় পেয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এল চেন্নাইয়িন।

    No comments