• Breaking News

    আইএসএল-এ ‘ইংরেজ অভিশাপ’-এর ধারা পাল্টাতে পারবেন কোপেল?

    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    steve-coppell-main

    তিনটি ম্যাচ হয়ে গেল, এখনও একটিও গোল করতে পারেনি কেরালা ব্লাস্টার্স। মরসুমের শুরুতে প্রথম ম্যাচে হেরেছিল নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে। আতলেতিকো দে কলকাতার কাছে দ্বিতীয় ম্যাচ। কোচিতে ঘরের মাঠে দুর্দান্ত সমর্থন সত্ত্বেও তাদের সংগ্রহে এখন এক পয়েন্ট, দিল্লি ডায়নামোসের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে।

    তবে, কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকারের কেরালা ব্লাস্টার্স-এর কোচ স্টিভ কোপেল শুধু যে নিজের ক্লাবের ভবিষ্যৎ পাল্টাতেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তা নয়, হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে ইংরেজ কোচদের দুর্দশা ঘোচাতেও তৈরি। গত দুটি মরসুমে ইংরেজ কোচরা আইএসএল-এ বলার মতো সাফল্য পাননি। পিটার টেলর, টেরি ফেলান, ডেভিড প্ল্যাটরা যা পারেননি তা করে দেখাতে চাইছেন কোপেল।

    গত বছর কেরালা ব্লাস্টার্সের কোচ ছিলেন পিটার টেলর যিনি ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব ২১ দলের কোচ ছিলেন আগে, লেস্টার সিটিতেও কোচিং করিয়েছিলেন। কিন্তু, মাঝপথেই ক্লাব ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন টেলর। তাঁর জায়গায় এসেছিলেন চেলসি ও ম্যাঞ্চেস্টার সিটির প্রাক্তন ফুলব্যাক টেরি ফেলান। কিন্তু, লিগ তালিকায় সবার শেষে ছিল কেরল।

    এফসি পুনে সিটিতে গত বছর ছিলেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটির প্রাক্তন কোচ প্ল্যাট। নকআউট পর্বে নিয়ে যেতে পারেননি পুনেকে। যদিও শুরুটা ভালই করেছিল পুনে, ফিরতি লিগে বেশ খারাপ পারফরম্যান্সের পর সেমিফাইনালের জন্য যোগ্যতার্জন করতে পারেনি।

    প্রথম মরসুমে কেরালা ব্লাস্টার্সের ম্যানেজার হিসাবে ছিলেন আর এক ইংরেজ, গোলরক্ষক ডেভিড জেমস। মার্কি প্লেয়ার কাম ম্যানেজার হিসাবে কেরালা ব্লাস্টার্সকে ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন, ঠিক। কিন্তু তিনি থেকে গিয়েছেন ব্যতিক্রম হিসাবেই। বাকি ইংরেজ কোচরা কেউই পাননি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

    ‘বুঝতে পারছি না কেন এখানে সাফল্য পাচ্ছে না ইংল্যান্ডের কোচরা। কিন্তু, আমি এই ধারাটা পাল্টে দেব। ম্যানেজার হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর বেশ কয়েক রাত ঘুমোতে পারিনি এই কথাগুলোই ভেবে,’ বলেছেন কোপেল, কোচ হিসাবে যাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলি পরিপূর্ণ। ‘কোচির এই মাঠ কেরালা ব্লাস্টার্স যে সমর্থন পায়, অবিশ্বাস্য। ফুটবলাররা প্রত্যেকে দর্শকদের এই সমর্থন নিয়ে উচ্ছ্বসিত এবং ওরাও চায় ভক্তদের কিছু ফিরিয়ে দিতে।’

    গত দু’মরসুমের ফুটবল মন দিয়েই দেখেছেন কোপেল। এখন তাঁর একটাই ইচ্ছে, ইংরেজ কোচদের কাছে আইএসএল অভিশাপ, এমন ভাবনাকে উল্টোখাতে বইয়ে দেওয়া। তবে,১১ সপ্তাহের লিগের চ্যালেঞ্জ ইংল্যান্ডের দশ মাসের লিগের তুলনায় আলাদা, মেনে নিয়েছেন।

    ‘ব্যাপারটা কঠিন কারণ ইংল্যান্ডের কোচরা দশ মাস ধরে কোচিং করাতে অভ্যস্ত। সেখানে আইএসএল-এ সবই তাৎক্ষণিক। দলের শক্তি এবং দুর্বলতা খুব তাড়াতাড়ি বুঝে নিতে হবে, চেষ্টা করছি যত শীঘ্র সম্ভব দলের সেরা খেলাটা বের করে আনতে। প্রাথমিকভাবে এটুকু বলতে পারি যে,বাকি মরসুমের দিকে তাকিয়ে দলের ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলাররা পরস্পরের সঙ্গে মিশছে খুবই ভালভাবে,’ বলেছেন কোপেল।

    ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, ব্রেন্টফোর্ড, ব্রিস্টল সিটি ও ব্রাইটনে কোচিং করিয়ে এসেছিলেন কোপেল। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের প্রাক্তন উইঙ্গার এই প্রথম ইংল্যান্ডের বাইরে কোনও দলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ভার নিয়েছেন। আর, দায়িত্ব নিয়েই বুঝতে শুরু করেছেন, আইএসএল-এর চ্যালেঞ্জটা ঠিক কতটা কঠিন।

    ‘ফুটবলার এবং কোচ হিসাবে সারা জীবনই ইংল্যান্ডের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। দশমাসের প্রক্রিয়া, সব আবহাওয়ায়, সব পরিস্থিতিতে। প্রায় গোটা বছরেরই মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা। আইএসএল-এর ব্যাপারটা পুরোপুরিই আলাদা, কখনও এমন কোনও প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত থাকিনি।

    ‘প্রথম দু’বছরে আইএসএল দেখেছি, অনেক দূর থেকে এবং আমি এখনও মুগ্ধই। এবার অবশ্য খুঁজে বেড়াচ্ছি, কী কী করলে এই পরিস্থিতিতেও সাফল্য আনা সম্ভব। আমি তো নিশ্চিত, পারবই,’ বলেছেন কেরালা ব্লাস্টার্সের নতুন ম্যানেজার।

    No comments