• Breaking News

    ‘নিজের’ মাঠে ফিরছেন গারদিওলা, বিপক্ষের হয়ে!

     

    আজ রাতে – বার্সেলোনা বনাম ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, ১২-১৫


    ucl-coaches

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আজ রাতে ধুন্ধুমার। আজন্ম কাতালান পেপ গারদিওলা ফিরছেন কাম্প নু-তে, আবার!

    এই ফেরা অবশ্য সে-ফেরা নয়। যে-মাঠ ছিল তাঁর খেলোয়াড়ি যৌবনের উপবন, আজ প্রৌঢ়ত্বের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সেই মাঠে ফিরতে হচ্ছে শত্রু হয়ে। বছর দেড়েক আগেও একবার এসেছিলেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল খেলতে। তাঁর প্রিয় শিষ্য লিওনেল মেসি তাঁকে এবং তাঁর বায়ার্ন মিউনিখকে শিখিয়েছিলেন ফুটবলের কিছু গূঢ় তত্ত্ব, আবার। বোয়াতেং-এর ডাঙায় সাঁতার, নুয়ারের শুয়ে-বসে গোল খাওয়া। তার আগে এই ম্যাঞ্চেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ম্যাচে জেমস মিলনারের পায়ের তলা দিয়ে অক্লেশে অবহেলায় বল নিয়ে যাওয়া দেখে গ্যালারিতে বসে আনন্দের আতিশয্যে মুখ ঢেকে ফেলেছিলেন গারদিওলা। আর কুণ্ঠাহীন স্বীকারোক্তি ছিল, ‘মেসিকে আটকানো যায় না!’

    কিন্তু, ফুটবল এমনই যে, প্রিয় শিষ্যকে আটকানোর ছক করতে হয় আবারও, প্রিয় গুরুকে।

    গত দুবছর ধরে কাম্প নু-তে আসা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। পার্থক্য, গত দুবারই এসেছিল নকআউট পর্বে, যেখানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল প্রতিযোগিতা থেকে। এবার পরিস্থিতি আলাদা। ঠিক ১২ দিন পর, ১ নভেম্বর, নিজেদের মাঠে এতিহাদে আবার খেলার সুযোগ পাবে শুধু নয়, এই ম্যাচ হারলেও কেল্টিক ও বোরুসিয়া মোনচেনগ্ল্যাডবাখকে হারিয়ে নকআউটে পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ তো আছেই, একই গ্রুপে থাকায় প্রথম ১৬-য় অন্তত বার্সেলোনার মুখোমুখি হতে হবে না, নিশ্চিত। মানুয়েল পেয়েগ্রিনির ম্যাঞ্চেস্টার সিটি যে-সুযোগ পায়নি।

    বার্সেলোনা বনাম ম্যাঞ্চেস্টার সিটি


    ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪, বার্সেলোনা জয়ী ২-০ (এতিহাদ) মেসি, আলভেস

    ১২ মার্চ, ২০১৪, বার্সেলোনা জয়ী ২-১ (কাম্প নু) মেসি, আলভেস - কোম্পানি

    ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫, বার্সেলোনা জয়ী ২-১ (এতিহাদ) সুয়ারেজ ২ - আগেরো

    ১৮ মার্চ, ২০১৫, বার্সেলোনা জয়ী ১-০ (কাম্প নু) রাকিতিচ

    মোট ম্যাচ ৪, বার্সেলোনা জয়ী ৪


    বার্সেলোনার গোল ৭, সিটির গোল ২


    পেপ গারদিওলা বনাম বার্সেলোনা


    ৬ মে, ২০১৫, বার্সেলোনা জয়ী ৩-০ (কাম্প নু) মেসি ২, নেইমার

    ১২ মে, ২০১৫, বায়ার্ন মিউনিখ জয়ী ৩-২ (আলিয়াঁজ এরিনা) বেনাতিয়া, লেওয়ানডোস্কি, মুলার – নেইমার ২

    দুই কোচের সম্পর্কও বন্ধুত্বেরই। একসময় সতীর্থ, বার্সেলোনা ও ক্রুয়েফ-আদর্শে অনুপ্রাণিত। বার্সেলোনার কোচ লুইস এনরিকে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে পেপই বিশ্বের সেরা কোচ।’ প্রশংসা ফিরিয়ে দিয়েছেন পেপ এই বলে যে, ‘আমার বার্সেলোনার থেকেও ভাল ফুটবল খেলছে লুইসের বার্সেলোনা।’ প্রসঙ্গত, চার বছরে বার্সেলোনায় গারদিওলা যদি ১৪টি ট্রফি জিতে থাকেন, গত আড়াই বছরে এনরিকে জিতেছেন ৮ ট্রফি।

    গ্রুপ লিগের খেলা হওয়ায় আরও একটি সুবিধা হতে পারে গারদিওলার, হারের ভয়ে কম্পিত না-থেকে তিনি ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে বলতে পারেন, আক্রমণের রাস্তাতেই থাকতে। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ‘অ্যাওয়ে’ ম্যাচে গারদিওলার রেকর্ড বার্সেলোনায় থাকার সময়ও খুব ভাল ছিল না, এখনও নেই। কিন্তু, ‘নিজের’ মাঠে – কাম্প নু তো তাঁর নিজেরই মাঠ – গারদিওলা যদি দলের মানসিকতায় বদল আনতে পারেন, আজ রাতে কাম্প নু-তে অন্যরকম কিছু দেখা যেতেই পারে।

    বার্সেলোনা এবার খানিকটা ছন্দহীন। বিশেষত, গোল খাচ্ছে প্রচুর। গত দশ বছরে প্রথম লা লিগায় এমন সময়ে তারা আছে চতুর্থ স্থানে। ৮ ম্যাচে গোল খেয়ে ফেলেছে ১০টি! সমসংখ্যক ম্যাচের পর গারদিওলার সিটি এখনও শীর্ষেই আছে, ১৯ পযেন্ট নিয়ে, ৮ গোল খেয়ে।

    গারদিওলার গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো আবার এই তো সে দিনই গেলেন কাম্প নু থেকে এতিহাদে। সেই বার্সেলোনা-আদর্শে অনুপ্রাণিত গোলরক্ষক, লম্বা শটে বল বিপক্ষের গোলরক্ষকের কাছে পাঠানোর চেয়ে যিনি পছন্দ করতে শিখেছেন পাস দিয়ে খেলা  তৈরি করতে। একই শিক্ষায় দীক্ষিত জার্মান টের স্টেজেনও। কিছু করার নেই, দুমদাম শটে বলের দখল হারানোর বিরুদ্ধে বার্সেলোনা। তাতে গোলরক্ষকরা এমন পাস দিতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনলেও কুছ পরোয়া নেহি। ভালদেসকে কে-ই বা ভুলতে পারবেন!

    বার্সেলোনা ‘এ’ বনাম বার্সেলোনা ‘বি’ শিরোনামের মতো জায়গায় অবশ্য এখনও ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে নিয়ে আসতে পারেননি গারদিওলা। তাঁরও তো কিছু সময় দরকার, তাই না?

     

    No comments