• Breaking News

    এবার গারদিওলাকে হ্যাটট্রিক উপহার দিলেন মেসি!

    বার্সেলোনা ৪  ম্যাঞ্চেস্টার সিটি ০


    (মেসি ১৭, ৬১, ৬৯ নেইমার ৮৯)


    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    [caption id="attachment_2057" align="alignleft" width="300"]প্রথম গোলের সময়, ব্রাভোকে মাটিতে ফেলে। ছবি - টুইটার প্রথম গোলের সময়। ছবি - টুইটার[/caption]

    বায়ার্ন মিউনিখকে নিয়ে এসে যা হয়েছিল, ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে নিয়ে এসে তার চেয়ে একগোল বেশি খেলেন কাম্প নু-তে! বায়ার্নে তবু ছিলেন বলার মতো কিছু ফুটবলার। এই ম্যাঞ্চেস্টার সিটির চেয়ে একধাপ ওপরে-থাকা দল নিঃসন্দেহে। তাই এক গোল বেশি নিয়ে ফিরতে হল পেপ গারদিওলাকে। ভাগ্যিস পেনাল্টিটা মিস করেছিলেন নেইমার। ০-৫ নিয়ে গারদিওলা ফিরছেন কাম্প নু থেকে, মেনে নিতে পারতেন না হয়ত কাতালানরাই!

    তাঁর চাপ কে বেশি বাড়ালেন, লিওনেল মেসি না ক্লদিও ব্রাভো, প্রশ্ন থাকবে। ইংরেজ প্রচার মাধ্যম আবারও পেয়ে গেল পরিচিত ‘খাদ্য’! ৫৩ মিনিটে চিলের অধিনায়ক যেভাবে লাল কার্ড দেখলেন, হার্টকেও এখন তুলনায় অনেক বেশি ভাল মনে হওয়া স্বাভাবিক। বেরিয়ে এসেছিলেন বক্সের বাইরে। পায়ে বল পেয়ে সোজা সুয়ারেজের পায়ে পাস দিয়ে দিয়েছিলেন। উরুগুয়ের ফুটবলার সঙ্গে সঙ্গেই চেষ্টা করেছিলেন ব্রাভোর মাথার ওপর দিয়ে তুলে দিতে। ব্রাভো অভ্যাসবশত হাত দিয়ে ধরে ফেলেন বল। লাল কার্ড দেখার জন্য এর চেয়ে সহজ কিছু আর হত না!

    অবশ্য একই রকম দায়িত্বজ্ঞানহীন লাল কার্ড দেখেছিলেন জেরেমি ম্যাথিউও। ৭১ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড, রহিম স্টার্লিংকে ফাউল করে। তার তিন মিনিটের মধ্যেই আবার ফাউল ওই একই স্টার্লিংকে। সিটিকে ২১ মিনিটের বেশি দশজনে খেলতে হল না এগারর বিরুদ্ধে, এই যা!

    চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবার দুটি ম্যাচ খেললেন মেসি। দুটিতেই হ্যাটট্রিক। কেল্টিকের পর ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। তিনটি গোলই বিপক্ষ রক্ষণের ভুলে। প্রথমটির ক্ষেত্রে ফেরনান্দিনিও পিছলে পড়ে গিয়েছিলেন বলে ইনিয়েস্তার রেখে-যাওয়া বলটা ধরে এগিয়ে গোল মেসির। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে ইনিয়েস্তার পাস এবার সরাসরি।

    তৃতীয় গোলটি বিশেষভাবে মনে থাকার কথা, লুইস সুয়ারেজের স্বার্থহীন মনোভাবের জন্য। যেখানে ছিলেন, সুযারেজ নিজেও গোল করার চেষ্টা করতেই পারতেন, হয়ত পেতেনও গোল। কিন্তু, দেখে ফেলেছিলেন, মেসি যেখানে রয়েছেন, গোল হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ ভাগ। তাই বল বাড়িয়ে দেন, মেসিও তুলে নেন তাঁর ফুটবল জীবনের ৪১তম ও বার্সেলোনার হয়ে ৩৭তম হ্যাটট্রিক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাঁর গোল সংখ্যা এখন ৮৯, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ৯৫ থেকে ৬ কম। হ্যাটট্রিকে অবশ্য রোনালদোকে পেছনে রেখেছেন আপাতত, ৭-৫।

    গোলও অবশ্য আরও বাড়াতে পারতেন মেসি। ৮৬ মিনিটে তিনি পেরিয়ে গিয়েছিলেন সিটি ডিফেন্ডারদের দুজনকে, তৃতীয়জনকে পেরতে যাবেন, কোলারভ ফাউল করেন, নিশ্চিত পেনাল্টি। কিন্তু হ্যাটট্রিক হয়ে যাওয়ায় আর নিজে মারতে গেলেন না। রোনালদিনিও যেমন স্নেহের বাঁধনে বেঁধে রেখেছিলেন মেসিকে, এখন নেইমারের সঙ্গে মেসির সম্পর্কও তেমন। তাই নেইমার গেলেন পেনাল্টি নিতে, সুয়ারেজ নয়। নেইমারের অনিশ্চিত পদক্ষেপ বলে দিচ্ছিল, সমস্যা হতে পারে। কাবায়েরো সহজেই বাঁচালেন নির্বিষ শট।

    সেই মিস ভোলাতেই নেইমারের গোল, দু-মিনিটের মধ্যেই। এবার মেসির নাম উঠল অ্যাসিস্ট তালিকায়। কিন্তু পাসটা পেয়ে নেইমার যেভাবে জন স্টোনসকে কাটালেন ও কাবায়েরোকে পরাস্ত করলেন, বোঝা গেল, পেনাল্টি নষ্টটা মন থেকে মেনে নিতে পারেননি একেবারেই!

    জোরদি আলবাকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে গিয়ে ৯ মিনিটেই তুলে নিতে হয়, জেরার্দ পিকেও চোট পাওয়ার পর খানিকক্ষণ খেললেও বসে যেতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতিতে ম্যাথিউর লাল কার্ড দেখা পরের ম্যাচে অবশ্যই সমস্যায় ফেলতে পারে বার্সেলোনাকে। যদিও, গ্রুপের শীর্ষে থেকে পরের পর্বে যাওয়ার দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন মেসিরা, ৩ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট ও ১৩ গোল নিয়ে!

    No comments