• Breaking News

    ইতিহাস লিখে সুনীলরা এএফসি কাপ ফাইনালে

    বেঙ্গালুরু ৩ জোহর দারুল তাজিম ১


    (সুনীল ৪১, ৬৭, আন্তোনিও ৭৫)   (রহিম ১১)


    প্রথম পর্ব ১-১, বেঙ্গালুরু জয়ী ৪-২


     

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    sunil-header

    কলকাতার একটা ক্লাবের জন্ম ১৮৮৯ সালে। অন্য একটির ১৮৯১। পরে অবশ্য ১৯২০-ও আছে, আর একটি ক্লাবের, যাদের তবুও সান্ত্বনাসূচক একটি এএফসি-সেমিফাইনাল আছে।

    শতবর্ষ-পেরন দুটি ক্লাবের সঙ্গে শতবর্ষে পা দিতে-চলা তৃতীয় ক্লাবও তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল, সাড়ে তিন বছর আগে, ২০ জুলাই ২০১৩ প্রতিষ্ঠিত একটি ভারতীয় ক্লাব, ড্যাং ড্যাং করে চলে গেল এএফসি কাপের ফাইনালে!

    ইতিহাস লেখা হল শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে। বেঙ্গালুরু এফসি প্রথম ভারতীয় ফুটবল ক্লাব হিসাবে এএফসি কাপের ফাইনালে। এর আগে দুটি ভারতীয় ক্লাব, ডেম্পো (২০০৮) ও ইস্টবেঙ্গল (২০১৩), পৌঁছেছিল সেমিফাইনালে। শেষ ধাপে পৌঁছতে পারেনি তারা। বেঙ্গালুরু পেছনে ফেলল তাদের। এখন বেঙ্গালুরুকে ফাইনালে খেলতে হবে ইরাকের আল-কুয়া আল-জাউইয়া ক্লাবের বিরুদ্ধে।

    ঘরের মাঠে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় পর্ব খেলার আগে আত্মবিশ্বাসী ছিল বেঙ্গালুরু। ‘অ্যাওয়ে’ ম্যাচে গতবারের চ্যাম্পিয়ন জোহর দারুল তাজিমের বিরুদ্ধে ১-১ রেখে ফিরেছিলেন সুনীল ছেত্রীরা। লিংডোর সেই এক গোল জানিয়ে দিয়েছিল, ঘরের মাঠে জিততে পারলে বা ০-০ ড্র রাখতে পারলেই জুটবে ফাইনালের ছাড়পত্র।

    কিন্তু, কাজটা কঠিন করে ফেলেছিল ভারতের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব, ১১ মিনিটেই। সফির জোরালো শট এগিয়ে এসে ফিস্ট করেছিলেন অমরিন্দর সিং, বেঙ্গালুরুর গোলরক্ষক। নিজের গোল থেকে এতটাই এগিয়ে ছিলেন অমরিন্দার যে, তাঁর হাতে লেগে উঁচু হয়ে-যাওয় বল নিচে নামছিল প্রায় নিজের গোলেই। জোহর দারুল তাজিমের অধিনায়ক সফি রহিম শুধু লাফিয়ে মাথা ছুঁইয়ে বল পাঠিয়ে দিয়েছিলেন জালে। সঙ্গেই শেষ হয়ে গিয়েছিল বেঙ্গালুরুর ‘অ্যাওয়ে’ গোলের ‘অ্যাডভান্টেজ’। তারপর একটাই রাস্তা খোলা ছিল বেঙ্গালুরুর সামনে, জিততে হবে ফাইনালে যেতে।

    স্পেনীয় ম্যানেজার আলবের্তো রোকার বেঙ্গালুরু ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায়। বিরতির আগেই ১-১ করেন সুনীল, ৪১ মিনিটে। কর্নার থেকে বল তুলেছিলেন লিংডো। সুনীল সবাইকে এড়িয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ফাঁকায়। স্ট্রাইকারের আদর্শ হেড, ১-১। নির্ধারিত সময়ের শেষেও যদি ওই একই ফল থাকে, অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে গড়াতে পারে ম্যাচ জেনে বিরতিতে সাজঘরে দু-দলের ফুটবলাররা।

    কিন্তু সেই সম্ভাবনা শেষ করে দেন সুনীল, বিরতির পর। ৬৭ মিনিটে তাঁর গোল বেঙ্গালুরু সমর্থকদের লোকগাথায় জায়গা পাওয়ার মতো। বড় বক্সের বাইরে বল পেয়ে টার্ন করে ডানপায়ের শটে পরাস্ত করেন আজামউদ্দিনকে। অধিনায়কের ওই গোলের পর নতুন করে জেগে উঠেছিল বেঙ্গালুরু। গতবারের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব হাল ছেড়ে দেয় তার ৮ মিনিটের মধ্যে তৃতীয় গোল খেয়ে। এবারও সেট পিস। লিংডোই তুলেছিলেন বল, বক্সে। দুর্দান্ত হেড আন্তোনিওর, ৩-১। দু-পর্ব মিলিয়ে জিততে হলে জোহর দারুল তাজিমকে তখন আরও দু-গোল করতে হবে।

    যতই গতবারের চ্যাম্পিয়ন হোক না কেন, অ্যাওয়ে ম্যাচে শেষ ১৫ মিনিটে দু-গোল করে সমতা ফেরানোর মতো খেলেনি জোহর দারুল তাজিম। তাই শেষ পর্যন্ত আর কোনও গোল হয়নি।

    সুনীলরা ভারতীয় ফুটবলের নতুন কীর্তি স্থাপন করতে এবার যাবেন দোহায়। ইরাকি ক্লাবের বিরুদ্ধে ৫ নভেম্বর ফাইনাল খেলতে, এএফসি কাপের। আর কলকাতায় তখনও চলবে গঙ্গাপারের পলিমাটির দখলদারি নিয়ে যে কোনও ছুতোয় প্রায় শতাব্দী-প্রাচীন অর্থহীন বাক্যবাগিশি!

    No comments