• Breaking News

    বিতর্কিত পেনাল্টিতে এক পয়েন্ট দিল্লির

    দিল্লি ডায়নামোস ৩     মুম্বই সিটি এফসি ৩


    (গ্যাডজে ৫১, বাদজি ৭৬, মার্সেলিনিও পেনাল্টি ৮২)   (ভাদোজ ৩৩, ৩৯, সোনি ৬৯)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2033" align="alignleft" width="300"]সোনির অভিনন্দন ভাদোজকে। ছবি - আইএসএল সোনির অভিনন্দন ভাদোজকে। ছবি - আইএসএল[/caption]

    ফলাফলের দিক দিয়ে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে উত্তেজক ম্যাচ তৃতীয় ইন্ডিয়ান সুপার লিগে। ঘরের মাঠে ১-৩ পিছিয়ে থাকা দিল্লি ডায়নামোস এক পয়েন্ট পেল বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্তে। মুম্বইয়ের সামনে সুযোগ ছিল জিতে শীর্ষে উঠে আসার। বিরতিতে তারা এগিয়ে ২-০। কিন্তু, অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল তাদের, মাঠে হয়ত বিপক্ষের তুলনায় একটু বেশি ভাল খেলেও।

    মুম্বইকে প্রথমে এগিয়ে দিয়েছিলেন ভাদোজ। কিন্তু গোলের জন্য বিরাট অবদান লিও কোস্তার। দৌড়তে দেখেছিলেন ভাদোজকে, থ্রু বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, একেবারে ফাঁকায়। ভাদোজ ভুল করেননি গোল করতে।

    দ্বিতীয় গোলের সময় ফ্রি কিক পেয়েছিল মুম্বই। বক্সের ঠিক বাইরে। সোনি নর্দে এগিয়ে আসেন ফ্রি কিক নিতে। দিল্লির গোলরক্ষককে পরাস্তও করেছিলেন সোনি। কিন্তু তাঁর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এসেছিল। ঠিক জায়গায় ঠিক সময়ে অপেক্ষায় ছিলেন ভাদোজ। এবার হেডে বল পাঠান জালে। নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল।

    দিল্লি ফিরে এসেছিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই, ৫১ মিনিটে। মালুদা বাঁদিক থেকে বল দিয়েছিলেন মার্সেলিনিওকে। অফসাইডে ছিলেন কি মার্সেলিনিও? সহকারী রেফারি দেখেননি। সুতরাং, মার্সেলিনিও বল ধরে এগিয়ে পাস দেন গ্যাডজে-কে, ফাঁকায়। ডান পা ছুঁইয়ে সহজেই ব্যবধান কমান রিচার্ড গ্যাডজে।

    কিন্তু, ৬৯ মিনিটে সোনি নর্দে মুম্বইয়ের তৃতীয় গোল করেছিলেন, ব্রাজিলীয় কাফুর সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে। বাঁদিক থেকে আক্রমণে উঠেছিলেন হাইতির সোনি। বক্সের ঠিক মাথায় মাঠে সদ্য-আসা কাফুকে পাস দেন। কাফুর দুরন্ত চিপ, ঠিক সময়ে ডিফেন্ডারদের অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে এগিয়ে এসেছিলেন সোনি। ডান পায়ের শটে প্রথম পোস্টে পরাস্ত করেন সোরাম-কে।

    দিল্লির দ্বিতীয় গোল ৭৬ মিনিটে, লুসিয়ান গোইয়ানের আত্মঘাতী বললেই ঠিক, কিন্তু বাদজির নামেই দেওয়া হয়েছে। মালুদা বল বাড়িয়েছিলেন বাদজিকে। নেতো এগিয়ে যান, বাদজিকে আটকাতে। কিন্তু বাদজি বল গোলের দিকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন নেতোকে এড়িয়ে। ডিফেন্ডার গোইয়ান শুয়ে পড়ে বল বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। তাঁর শটেই সম্পূর্ণ দিক পাল্টে উল্টো দিকের নেটে যায় বল।

    আর, ঘরের মাঠে সোনার সুযোগও দিল্লি পেয়ে যায়, ৮১ মিনিটে। পেনাল্টি পেয়েছিল দিল্লি। প্রশ্ন থাকবেই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে। বাদজি উঁচু করে বল ফেলেছিলেন বক্সে, গ্যাডজে বলের দখল নিতে গিয়েছিলেন। তাঁকে মার্ক করছিলেন পরিবর্ত জেরসন যিনি সবে এসেছিলেন মাঠে, সোনির পরিবর্ত হিসাবে। আসলে আনোয়ার চোট পেয়ে যাওয়ায় রক্ষণে কাউকে নামাতেই হত গিমারায়েসকে। তাই জেরসন আসেন, সোনিকে উঠে যেতে হয়। গ্যাডজে-জেরসন সংঘর্ষের সময়ও ফাউলের বাঁশি বাজেনি। গোলরক্ষক নেতো এগিয়ে এলেন যখন, রেফারি বাঁশি বাজিয়েছিলেন পেনাল্টির।

    মার্সেলিনিও এগিয়ে এসেছিলেন পেনাল্টি নিতে। মুম্বইয়ের গোলরক্ষক ভোলপাতে নেটোর ডানদিকে রেখেছিলেন, বাঁপায়ে। প্রতিযোগিতায় মার্সেলিনিওর তৃতীয় গোল, এনে দিল একটি পয়েন্ট, জামব্রোতাকে।

    তারপরেও অবশ্য মুম্বই জিততে পারত। কিন্তু দেফেদেরিকোর বাঁপায়ের শট সোরামকে পরাস্ত করেও পোস্টে লেগে ফিরে এসেছিল ৮৫ মিনিটে।

    এক পয়েন্ট দিল্লিকে তুলে নিয়ে গেল তৃতীয় স্থানে আবার, ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে, গোল-পার্থক্যে আতলেতিকো দে কলকাতাকে চতুর্থ স্থানে পাঠিয়ে। আর, মুম্বই ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে থেকে গেল দ্বিতীয় স্থানেই।

    No comments