• Breaking News

    দুই বিদেশির গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি

    মুম্বই সিটি এফসি ১              আতলেতিকো দে কলকাতা ১


    (দেফেদেরিকো ২৭)    (লারা ৮২)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_1941" align="alignleft" width="300"]ম্যাচের নায়ক খাবি লারা। ছবি - আইএসএল ম্যাচের নায়ক খাবি লারা। ছবি - আইএসএল[/caption]

    দু’দলই অপরাজিত ছিল, হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের তৃতীয় মরসুমে। ম্যাচ শেষেও থাকল। দুই বিদেশি ফুটবলারের দুটি দুর্দান্ত গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি। আর প্রথমার্ধে মুম্বই সিটি এফসি-র প্রাধান্যের জবাবে দ্বিতীয়ার্ধে আতলেতিকো দে কলকাতার দাপট। প্রথম লালকার্ড এবারের আইএসএল-এ,দেখলেন মুম্বইয়ের প্রণয় হালদার। তিন মরসুমে প্রথমবার মুম্বই-কলকাতা ম্যাচে জিতল না কোনও দল!

    শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আক্রমণে এসেছিল মুম্বই সিটি এফসি। প্রথম ১৫ মিনিটে তো প্রায় নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল আতলেতিকো দে কলকাতার ফুটবলারদের। দেফেদেরিকো-লিও কোস্তা-হাওকিপ ত্রয়ীকে রুখতে তখন হিমসিম কলকাতার রক্ষণ।

    ৯ মিনিটে দেফেদেরিকোর থ্রু থেকে ফাঁকায় পেয়ে গিয়েছিলেন হাওকিপ। দেবজিৎ এগিয়ে আসেন। তাঁর বাড়ানো হাত হাওকিপের পায়ে লেগেছিল কিনা, বোঝা কঠিন। হাওকিপ ভারসাম্য রাখতে পারেননি। তিন মিনিট পরই আবার হাওকিপকে সাজিয়ে দিয়েছিলেন দেফেদেরিকো। বাঁদিক দিয়ে উঠে এসে বাঁপায়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন হাওকিপ। কিন্তু দেবজিতের হাতের ছোঁয়া লেগে পোস্টে প্রতিহত হয়ে ফিরে এসেছিল বল।

    আরও একবার দেখা দিয়েছিল পেনাল্টি-সম্ভাবনা, দেবজিতের ভুলে, ৩২ মিনিটে। লাফিয়ে উঠে বল ধরতে গিয়ে ফস্কেছিলেন দেবজিৎ। কিন্তু সেই বল আবার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় তাঁর শরীরের সঙ্গে লেগেছিল হাওকিপের শরীর। যদিও হাওকিপ বা মুম্বইয়ের কেউ পেনাল্টির তোমন জোরালো আবেদন করেননি।

    তার আগেই অবশ্য মুম্বইকে এগিয়ে দিয়েছিলেন দেফেদেরিকো,২৭ মিনিটে। খোংজির লবে হেড করতে ব্যর্থ অর্নব মন্ডল। আর্জেন্তিনীয় ফুটবলারের পায়ে বল, দুই স্টপারের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে যান ছোট্ট টোকায়। বাঁপায়ের শটে দেবজিতের বাঁদিক দিয়ে জালে রাখেন, এই মরসুমে নিজের দ্বিতীয় গোল।

    কলকাতার ইয়ান হিউম আর পোস্তিগা জুটির মার্কি পোস্তিগা তো ছিলেনই না, মুম্বইয়ের মার্কি ফোরলানও ছিলেন না, চোটের কারণে। আড়াই ম্যাচে একটিও গোল নেই হিউমের,দ্বিতীয়ার্ধে তুলে নিয়েছিলেন কলকাতার কোচ মোলিনা। বিক্রমজিৎকে তুলে অবিনাশ রুইদাসকে নামিয়ে দুই উইং দিয়ে গতি বাড়াতে চেয়েছিলেন। বল ধরে রেখে আক্রমণ তৈরিতে মন দিয়েছিল কলকাতা।

    মুম্বই তখন নিজেদের অর্ধে বেশ পিছিয়ে রক্ষণে ব্যস্ত। প্রথমার্ধের সেই দাপট থেকে হঠাৎ রক্ষণাত্মক কেন হয়ে পড়েছিল মুম্বই, বোঝা কঠিন। কিন্তু তাদের এই রক্ষণাত্মক মনোভাব সুবিধা করে দিয়েছিল কলকাতাকে। পুরো দ্বিতীয়ার্ধই আক্রমণামত্মক কলকাতার সামনে যেন কুঁকড়ে ছিল মুম্বই, নিজেদের মাঠে। ৬৪ মিনিটে বোর্খার পাস থেকে গোলমুখে দুতি ঠিকঠাক ছোঁয়াতে পারলেই সমতা ফেরাতে পারতেন। কিন্তু বল তাঁর হাঁটুতে লেগে বাইরে যায়।

    প্রণয়ের লাল কার্ড ৭২ মিনিটে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বোর্খাকে ফাউল করে। বাকি ১৮ মিনিট ও ৫ মিনিটের ইনজুরি টাইম পেয়েছিল কলকাতা, একজন বেশি ফুটবলার নিয়ে খেলার। স্পেনীয় লারার গোলশোধ ৮২ মিনিটে। ডান পায়ের জোরালো শট, যা জ্যাকিচাঁদ সিংয়ের পায়ের ছোঁয়ায় সামান্য দিক পাল্টে আশ্রয় নেয় জালে। তাঁরও দ্বিতীয় গোল প্রতিযোগিতায়। আর, দ্বিতীয়ার্ধে কলকাতার আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচের নায়কও লারাই।

    তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এল মুম্বই, ৫ পয়েন্ট নিয়ে এখন লিগ তালিকায় তৃতীয় কলকাতা।

    No comments