• Breaking News

    শেষ তিনটি ম্যাচেই এখন জয় চাই গোয়ার

    এফসি  গোয়া ০ মুম্বই সিটি এফসি ০


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2536" align="alignleft" width="300"]শেষ মিনিটে অমরিন্দরের সেভ। ছবি -আইএসএল শেষ মিনিটে অমরিন্দরের সেভ। ছবি -আইএসএল[/caption]

    হুলিও সিজারকে কী বলবেন জিকো? ‘সেমিফাইনালটা ফেলে এলে ঘরের মাঠে’? নাকি, গিমারায়েস বলবেন সুনীলকে, ‘তিনটে পয়েন্ট পাওয়া যেতেই পারত তুমি গোলটা পেলেই’?

    সুনীল এবং সিজার। দুই ফুটবলারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মিসের কারণে গোয়া বনাম মুম্বই অমীমাংসিত থেকে গেল। একই নিঃশ্বাসে নাম নিতে হবে দুই গোলরক্ষক, গোয়ার কাট্টিমনি ও মুম্বইয়ের অমরিন্দরেরও। দুজনে দুটো গুরুত্বপূর্ণ ‘সেভ’ না করলে যে কোনও একটি দল পারত তিন পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে। তৃতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ৪০তম ম্যাচে, ফতোরদায়।

    ড্র থেকে প্রাপ্তি অবশ্যই মুম্বইয়ের। এবারের আইএসএল-এ যারা অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে তুলে নিল ১২ পয়েন্ট। ১১ ম্যাচে মোট পয়েন্ট যেহেতু ১৬, ঘরের মাঠে মাত্র চার পয়েন্ট পেয়েছে দিয়েগো ফোরলানের দল। কিন্তু, এই একটি পয়েন্টও তাদের আর একটু এগিয়ে দিল। লিগ তালিকায় তারা এখন দ্বিতীয় স্থানে।

    ৬২ থেকে ৬৫ মিনিটে তিনটি গোলের সুযোগ। দুটি নষ্ট করেছিলেন মুম্বইয়ের ফুটবলাররা, একটি গোয়া। প্রথমে ৬২ মিনিটে সুনীল ছেত্রী। দিয়েগো ফোরলান গোললাইন পর্যন্ত বলের জন্য লড়াই করেছিলেন গ্রেগরির সঙ্গে। বলের দখল পেয়ে ভেতরে পাঠিয়েছিলেন। ফাঁকায় ছিলেন সুনীল। কিন্তু দৌড়ে এসে বলে শট করতে গিয়ে মিস করেন প্রথমে। তারপরই দ্বিতীয়বার শট নেন যখন, সঞ্জয় বালমুচুর গায়ে লেগে বল ফিরে এসেছিল। তখনও পর্যন্ত নিশ্চিতভাবেই ম্যাচের সেরা সুযোগ।

    দু’মিনিট পরই হোফ্রে আর ত্রিনদাদে পরস্পরের মধ্যে পাস খেলে রবিন সিংয়ের জন্য সাজানো হয়েছিল বল। কিন্তু গোইয়ান ঠিক সময়ে ত্রাতা হয়ে হাজির হন, আগের বহুবারের মতোই। প্রথমার্ধে যেমন রোমিও ফেরনান্দেজ একবার শট নিয়েছিলেন সাইড নেটে। ফোরলান নিজে আরও একবার সুযোগ পেয়েছিলেন মুম্বইকে এগিয়ে দেওয়ার, ৬৫ মিনিটে। দেফেদেরিকোর থ্রু ধরতে রাজু আর গ্রেগরির মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে বলে পা-ও লাগিয়েছিলেন যা পরাস্ত করেছিল কাট্টিমনিকে। কিন্তু এত আস্তে ছিল সেই পাস যা গ্রেগরি সহজেই বাইরে পাঠান।

    উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত এসেছিল আর একবার যখন সুনীল বক্সের ঠিক মাথা থেকে বাঁপায়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন। কিন্তু কাট্টিমনিকে পরাস্ত করা যায়নি। নিজের বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে গোল বাঁচান গোয়ার গোলরক্ষক।

    দ্বিতীয়ার্ধে জিকোর আর উপায় ছিল না, সর্বাত্মক আক্রমণে যাওয়া ছাড়া। ঘরের মাঠে খেলা বলে নয়, তালিকায় সবার শেষে ছিলেন বলেও, তাগিদ দেখাতে হত তাদেরই। শেষ চার ম্যাচ থেকে, তাঁর নিজেরই দাবি, অন্তত ১০ পয়েন্ট না-পেলে সেমিফাইনালে পৌঁছনোর আশা থাকবে না। আর, চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট মানে তিনটি ম্যাচ তো জিততেই হবে।

    তাই মাঝমাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবলার বাড়িয়ে চেষ্টা করেছিলেন জিকো। কিন্তু তাঁর স্ট্রাইকাররা গোল পাননি। ৮৯ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পেয়েও গোলে রাখতে পারেননি হুলিও সিজার। তার পরেই ৯৩ মিনিটে সিজার বেরিয়ে এসেছিলেন মুম্বইয়ের ডিফেন্ডারদের এড়িয়ে। বল পেয়েও গিয়েছিলেন পায়ে। সামনে একা অমরিন্দর, কিন্তু সিজার পারেননি। অমরিন্দর ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বল বের করে দেন। সিজার পারলে, গোয়া কিন্তু সেমিফাইনালের রাস্তায় এগিয়ে যেতে পারত আরও খানিকটা। ১১ ম্যাচে এখন ১১ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এল সপ্তম স্থানে। কিন্তু অষ্টম স্থানে-থাকা নর্থইস্ট ইউনাইটেডের চেয়ে দুটি ম্যাচ বেশি খেলে। শেষ তিনটি ম্যাচেই এখন জয় চাই গোয়ার!

    No comments