• Breaking News

    গোমসের ভুলে প্রতিশোধ পুনের, উঠে এল চারে

    মু্ম্বই সিটি এফসি ০ পুনে সিটি এফসি ১
    (লিংদো ৮৯)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ
    মহারাষ্ট্রের দুটি দল খেলে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে। মুম্বইয়ের মু্ম্বই সিটি এফসি আর পুনের পুনে সিটি এফসি। দুই দলের মালিকদের মধ্যে আছেন বলিউডের দুই তারকা। মুম্বইতে রনবীর কাপুর, পুনেতে ঋত্বিক রোশন। একই রাজ্যের দুই দলের মধ্যে শত্রুতা থাকবেই। তৃতীয় আইএসএল-এর শুরুতে এই ম্যাচে পুনের বালেওয়াড়ি স্টেডিয়ামে ১-০ জিতেছিল মুম্বই। এবার, মুম্বই এরিনা-তে খেলতে এসে ফিরিয়ে দিয়ে গেল পুনে, ১-০ জিতে। পারস্পরিক লড়াইতে ‘মহা-ডার্বি’ এখন সমান-সমান!


    তিন পয়েন্ট এনে দিয়ে আন্তোনিও আবাসের মুখে হাসি ফোটানোর মূল কৃতিত্ব ইউজেনিসন লিংদোর। নারায়ণ দাসের ক্রস উঁচু হয়ে এসেছিল মু্ম্বই বক্সে। মুম্বইয়ের গোলরক্ষক আলবিনো গোমস লাফিয়েছিলেন ঠিকঠাক। কিন্তু বলটা গ্রিপ করতে পারেননি। সুযোগের সন্ধানে ছিলেন পরিবর্ত হিসাবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে-আসা লিংদো। ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান ৮৯ মিনিটে। গোমস যদি বল হাতছাড়া না করতেন, গোলের কোনও সম্ভাবনাই তৈরি হত না, নিশ্চিত। আর ওই মুহূর্ত ছাড়া, বিপক্ষের গোলমুখে তেমন সুযোগ বিশেষ তৈরি করতে পারেনি পুনে।

    তবে, ওই এক গোলই যথেষ্ট ছিল আবাসের পুনে সিটি এফসি-কে প্রথম চারে তুলে আনতে। ৮ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে ছিল পুনে। নবম ম্যাচে এই জয় ১২ পয়েন্টে তাদের তুলে আনল কেরালা ব্লাস্টার্সের ওপরে। বাইরের মাঠে জয়ের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রাপ্তি ‘ক্লিনশিট’, এবারের আইএসএল-এ পুনের প্রথম। এদেল বেতে নিঃসন্দেহে থেকেছেন এখনও পর্যন্ত প্রতিযোগিতার সবচেয়ে ধারাবাহিক গোলরক্ষক। কিন্তু তাঁর দুর্দান্ত ছন্দ সত্ত্বেও গোল খেয়েই চলেছিল পুনে। শেষ পর্যন্ত নবম ম্যাচে বল ঢুকল না পুনের জালে!

    সে জন্য অবশ্য খানিকটা হলেও দায় থেকেই যাবে মুম্বইয়ের মার্কি ফুটবলার দিয়েগো ফোরলানের। ৮৫ মিনিটে কাফু সাজিয়ে দিয়েছিলেন ফোরলানকে। একেবারে একা পেয়ে গিয়েছিলেন বেতে-কে। কিন্তু ফোরলানের ডানপায়ের গড়ানো শট বেতে পা বাড়িয়ে আটকে দেন। অমন সুযোগ থেকে ফোরলান গোল পাবেন, স্বাভাবিক। কিন্তু ফুটবল এমনই যেখানে সহজতম কাজ করতেও ভুল হয়ে যেতে পারে ফোরলানের মতো ফুটবলারের।

    এই ফোরলানই দু-দলের প্রথম দেখায় দেফেদেরিকো-কে সাজিয়ে দিয়েছিলেন গোলের বল, যে-গোল মুম্বইকে দিয়েছিল প্রথম জয়। এবারও ৩৫ মিনিটে ফোরলান খুঁজে নিয়েছিলেন দেফেদেরিকো-কে, যাঁর শট বাঁচিয়ে পুনেকে পিছিয়ে পড়তে দেননি বেতে। পরে, ৭৫ মিনিটে ফোরলানের দুর্দান্ত ফ্রি কিক,বেতের সামনে মাটিতে পড়ে ওঠার মুখে বেতের হাত কোনও রকমে বল তুলে দিয়েছিল যা ক্রসবারে লেগে বাইরে যায়। গোলের জন্য লিংদো ম্যাচের নায়ক হলেন, ৯০ মিনিট মাঠে থেকে দলকে পিছিয়ে পড়তে না-দেওয়ার জন্য বেতেও পেতেই পারতেন সেই পুরস্কার।

    আট মিনিটে পেশিতে টান ধরে লিও কোস্তার। বাধ্য হয়েছিলেন উঠে আসতে। তাঁর জায়গায় মাঠে এসেছিলেন ব্রাজিলীয় থিয়াগো কুনা। মুম্বইয়ের কাছে বড় ধাক্কা তখন। যদিও খারাপ খেলেনি মুম্বই এবং গোমেসের ভুলটা না হলে হয়ত এক পয়েন্ট নিয়েই ফিরত, কিন্তু কোস্তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণে ধার খানিকটা কমেছিল, নিশ্চিত।

    ফোরলানের সঙ্গে প্রথমবার খেললেন সুনীল ছেত্রী। আশা ছিল বিরাট। প্রথম খেলায় সেই ম্যাজিক দেখা গেল না দুই তারকার পারস্পরিক বোঝাপড়ায়। সুনীলের ক্লান্তি নিশ্চয়ই বড় কারণ। এএফসি কাপ ফাইনালে খেলে দেশে ফিরেই আবার মাঠে নেমে পড়েছিলেন সুনীল। তবে, মুম্বইয়ের আশা, পরের ম্যাচেই ম্যাজিক দেখাবে এই জুটি। ১০ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট মু্ম্বইয়ের এখন। তালিকায় দ্বিতীয় ছিল, দ্বিতীয়ই থাকল। গ্রুপ লিগে বাকি কিন্তু আর চার ম্যাচ মাত্র!

    No comments