• Breaking News

    গোলের পাস বাড়িয়ে ডঃ অর্চিতের কথা মনে পড়ছিল ডিকার

    শিবম দাস


    dika

    ‘যখন আমার পাস থেকে পোস্তিগা গোল করল, ডঃ অর্চিতের কথা মনে পড়ছিল।’ দীপাবলির দুপুরে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে কথাগুলো বলছিলেন ডিকা।

    কিন্তু, কে এই ডঃ অর্চিত? জানার জন্য বছরখানেক পিছিয়ে যেতে হবে। এক বছর আগেই আইএসএল-এ মুম্বই সিটির হয়ে খেলার সময় মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন ডিকা। কলকাতার ডাক্তারদের দেখালেও পুরনো চোট সারেনি। সে সময়, মুম্বইতে গিয়ে এই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছ'মাস থেকে মাঠে ফিরতে পেরেছিলেন মিজোরামের এই ফুটবলার। ওজন বেড়ে গিয়েছিল একধাক্কায়, পা নাড়াতে পারেননি বহু দিন। এই অবস্হা থেকে মাঠে নেমে ফুটবলে লাথি মারাটাই ছিল চ্যালেঞ্জ। ডিকা হার মানেননি। মাঠে ফিরেছেন। আর, কলকাতা লিগের পরে ডিকার ভাল ফর্ম কাজে লাগাচ্ছে এখন আতলেতিকো দে কলকাতা।

    আতলেতিকো দে কলকাতার ফুটবল পরিবেশটাই আলাদা। কোচ-কর্তারা ফুটবলারদের সঙ্গে এক হোটেলে থাকেন না। মাঠের বাইরে পোস্তিগা, হিউমরা বন্ধুর মতো মেশেন বাকিদের সঙ্গে। সেই বন্ধুত্বে অহংবোধ নেই, আভিজাত্যের অহঙ্কার নেই। এটাই নাকি ভাল খেলতে সাহায্য করেছে ওঁকে। কলকাতা লিগ খেলার জন্য স্পেনের আবাসিক শিবিরে যেতে পারেননি। তাই প্রথম দিকে বসতে হয়েছে রিজার্ভ বেঞ্চে। ডিকা বলছিলেন, ‘মোলিনা প্রথমে ভরসা করতে পারেননি। প্র্যাক্টিসে আমাদের আলাদা সময় দিতেন। এত হাই-ইনসেনসিটির অনুশীলন আগে করিনি। শরীর ও মন দুটোই সজাগ ও সতেজ থাকছে।’

    পরপর তিনটে অ্যাওয়ে ম্যাচ। তাতেও কুছ পরোয়া নেহি মানসিকতা সকলের। ডিকার মতে, আইএসএল-এ হোম-অ্যাওয়ে ম্যাচ বলে কিছু হয় না। সব ম্যাচই জিততে হয়।

    নর্থইস্টের মাঠে খেলা কঠিন। সমগ্র গ্যালারি ছিল বিপক্ষে। তবুও সসন্মানে উতরে গেছেন। নর্থ-ইস্টের রাস্তাগুলো এখনও চোখের সামনে ভাসে তাঁর। স্কুলের পরই নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে ফুটবলের টানে পাড়ি দিতেন বহু মাইল দূরের গ্রামে। পাঁউরুটি খাওয়ার জন্য জমিয়ে রাখতেন টাকা। ডিকা বলছিলেন, ‘নর্থ-ইস্ট থেকেই তো উঠে আসা। তাই ওদের বিরুদ্ধে খেলার আগে আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি।’

    পরবর্তী ম্যাচ আন্তোনিও আবাসের পুনের বিরুদ্ধে। ডিকা বললেন, ‘সামনে যে দলই হোক, আমরা সেরা ফুটবলটাই খেলব। দুটো দলের কোচই স্প্যানিশ। তাই ফর্মেশন ও খেলার স্টাইল এক হবে, মাঠে যারা ভাল খেলবে তারাই জিতবে।’

    আর মুম্বই আর কলকাতার মধ্যে পার্থক্য? ডিকার মন্তব্য, ‘কলকাতার ম্যানেজমেন্টে ফুটবলটা বেশি, মুম্বই-এ বিনোদন। দুটো দল থেকেই শিখেছি অনেক।’ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ভক্ত আরও জুড়লেন, ‘কলকাতাতে ফাঁকা মাঠ মানায় না। সকলে মাঠে এসে আমাদের অনুপ্রাণিত করুন। ট্রফি আমরাই জিতব।’

    No comments