• Breaking News

    বিনীতের জোড়া গোলে চেন্নাই ধূলিসাৎ

    গ্যালারিতে জিদানের মুখোশ অস্বস্তি বাড়াল মাতেরাজ্জির


    কেরালা ব্লাস্টার্স ৩                    চেন্নাইয়িন এফসি ১


    (কাদিও ৬৭, বিনীত ৮৫, ৮৯)            (মেন্দি ২২)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2462" align="alignleft" width="300"]জিদানের মুখোশে কেরলের ভক্তরা। ছবি - আইএসএল জিদানের মুখোশে কেরলের ভক্তরা। ছবি - আইএসএল[/caption]

    সিকে বিনীত আবারও তিন পয়েন্ট এনে দিলেন কেরালা ব্লাস্টার্সকে। বেঙ্গালুরু এফসি-র হয়ে এএফসি কাপ ফাইনাল খেলে এসে গত ম্যাচেই মাঠে নেমে জিতিয়েছিলেন কেরালা ব্লাস্টার্সকে। ঘরের মাঠে এবার গতবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়িন এফসি-র বিরুদ্ধে জোড়া গোল বিনীতের! দিল্লির কাছে ১-৪ হারের পর মার্কো মাতেরাজ্জির দল কেরলের কাছে ১-৩ হারল। সেমিফাইনালে পৌঁছনোর লক্ষ্যে বিরাট ধাক্কা পরপর দুটি হারে, নিশ্চিত!

    আর এবার দোষ অনেকটাই চেন্নাইয়িন এফসি-র গোলরক্ষক কের-এর। হোসুর ক্রস ধরতে এগিয়ে গিয়েছিলেন, বল হাতে রাখতে পারেননি। বিনীতের সামনে ফাঁকা গোল, লাফিয়ে ডানপায়ের ‘সাইড ভলি’-তে ভুল করেননি নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় গোল করে দলকে ২-১ এগিয়ে দিতে। তার চার মিনিট পর বিনীতের নিজের তৃতীয় গোল, এবার আন্তোনিও জার্মানের পাস থেকে। চেন্নাইয়ের ফুটবলাররা এগিয়ে গিয়েছিলেন গোল শোধ করার ইচ্ছে নিয়ে। ফলে, নিজেদের অর্ধ ফাঁকাই ছিল। জার্মানের পাস থেকে বল পেয়ে বিনীত মাথা ঠান্ডা রেখে অনেকটা দৌড়ে কের-কে আবারও পরাস্ত করে, কেরালা ব্লাস্টার্সকে তুলে আনলেন ১০ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে-থাকা দিল্লির চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পেছনে।

    চেন্নাইয়ের গোল ২২ মিনিটে। রক্ষণ থেকে রাফায়েল অগুস্তোর পাস ধরে অনেকটা এগিয়ে এসেছিলেন মেন্দি। কেরলের কেউই তাঁকে বিশেষ বাধা দেননি। বক্সে ঢুকে পড়ে ডান পায়ে শট নিয়েছিলেন মেন্দি। বল কেরলের বিশ্বস্ত ডিফেন্ডার এঙ্গেবার্তের পায়ে লেগে দিক বদলে জালে! মেন্দি পরপর দ্বিতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় গোল করলেন। আগের ম্যাচে দিল্লির বিরুদ্ধে তাঁর গোল যদিও বিশেষ কাজে আসেনি, দল ১-৪ হেরে যাওয়ায়। এবারও একই ফল, শেষ পর্যন্ত। চেন্নাই অনেকগুলি সুযোগ তৈরি করলেও প্রধানত ডুডুর ব্যর্থতায় ব্যবধান বাড়িয়ে রাখতে পারেনি প্রথমার্ধে। যে ভুলের মাসুল দিতে হল তাঁদের, ম্যাচ শেষে।

    ৫৪ মিনিটে অত্যন্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রেফারি জি গবেশ। জার্মান এগিয়ে এসেছিলেন বল নিয়ে। চেন্নাইয়ের গোলরক্ষক কের বক্সের বাইরে এগিয়ে এসে পরিষ্কার ফাউল করেছিলেন জার্মান-কে। অন্য যে কোনও রেফারি এমন পরিস্থিতিতে গোলরক্ষককে লাল কার্ড দেখাতেন। গবেশ হলুদ কার্ড দেখালেন জার্মান-কে। তাঁর মনে হয়েছিল জার্মান বোধহয় নাটক করে ডাইভ দিয়েছিলেন!

    তবে, কেরলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন সেই জার্মানই। ৬৭ মিনিটে তিনি সাবিয়া ও রিসেকে পেরিয়ে এসেছিলেন। সাবিয়া পরে সামনে চলে আসায় তাঁর দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে গোলের সামনে বলের অপেক্ষায় থাকা কাদিওর পায়ে সাজিয়ে দেন। বাঁপায়ে গোল করতে কোনও ভুল করেননি কাদিও।

    ৯ ম্যাচে ৩৫ জন, গড়ে প্রায় প্রতি ম্যাচে প্রথম এগারয় চারজন করে পাল্টেছেন মাতেরাজ্জি। কিন্তু, প্রথম এগার ঠিক না থাকার ফল সরাসরি পড়েছে ফলে। ৯ ম্যাচে পর ১০ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানেই থাকল চেন্নাই। কেরল-চেন্নাই ম্যাচে নতুন জুড়ল জিদানের মুখোশ পড়ে মাতেরাজ্জিকে মনে পড়িয়ে দেওয়া সেই অস্বস্তিকর ঘটনা, ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের। ভারতের দক্ষিণ প্রান্তের দুই রাজ্যের পারস্পরিক ফুটবল-শত্রুতায় যা নতুন সংযোজন!

    No comments