• Breaking News

    আবাসের কাছে হারল কলকাতা!

     

    এফসি পুনে সিটি ২    আতলেতিকো দে কলকাতা ০


    (এদুয়ার্দো ৪১, আনিবাল, পেনাল্টি ৫৬)       (হিউম, পেনাল্টি ৬৯)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2214" align="alignleft" width="300"]হিউমের গোল। ছবি - আইএসএল হিউমের গোল। ছবি - আইএসএল[/caption]

    আন্তোনিও আবাস বনাম কলকাতা। গত দু’ছর যাদের চ্যাম্পিয়ন করার জন্য লড়েছিলেন, একবার সফলও হয়েছিলেন, সেই আতলেতিকো দে কলকাতার বিরুদ্ধে প্রথম দেখায় আবাস বোঝালেন, তাঁকে ভোলানো কঠিন হবে! দ্বিতীয় জয় পেল পুনে সিটি এফসি, ঘরের মাঠে প্রথমবার, তৃতীয় ইন্ডিয়ান সুপার লিগে। ৮ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এল পয়েন্ট তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে।

    দুই স্পেনীয় কোচের লড়াইও ছিল। আবাস সেখানেও জিতলেন প্রথম দেখায়। বারে বারেই বদলালেন কৌশল। কার্যত বাধ্য হয়ে একবার। পরে, নিজের মনোমত ফুটবলারদের মাঠে এনে। আর তাঁকে জেতাতে প্রথম গোল করে সাহায্য করলেন যিনি, তাঁকে জায়গা পেতে হল হাসপাতালে!

    প্রথম গোলের সময় ডান পায়ে কর্নার নিয়েছিলেন জোনাথন লুকা। বক্সের মধ্যে বল পড়ছে যখন, এদুয়ার্দো জোরালো হেডে গোল করে যান। তার খানিক আগেই এদুয়ার্দো হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রায়। সংঘর্ষে কেটে গিয়েছিল চোখের নিচের অংশ। অ্যাম্বুলেন্স চলে এসেছিল মাঠে। পরিচর্যা চলে। ব্যান্ডেজ বেঁধে, তখন অ্যাম্বুলেন্সকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কর্নার তারপরই, হেডে গোল দিয়ে সাইডলাইনে গিয়ে কোচকে জড়িয়ে ধরে আবাগের বহিঃপ্রকাশ। তারপর অবশ্য আর থাকতে পারেননি মাঠে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি ছিল তখন। দলকে এগিয়ে দিয়ে মাঠ ছাড়তে আর আপত্তি করেননি এদুয়ার্দোও।

    পুনের দ্বিতীয় গোল পেনাল্টি থেকে। বক্সে উঁচু হয়ে এসেছিল বল। প্রীতম কোটাল হাত উঁচু করেও পারেননি বল আটকাতে। চলে গিয়েছিল আনিবালের কাছে, যাঁর হেড অনিচ্ছাকৃত হলেও হাতে লেগেছিল প্রীতমের। তবে, হয়ত ওভাবে হাত উঁচু করার কারণেই রেফারি পুনের পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান। নিয়েছিলেন মেক্সিকোর ফুটবলার আনিবাল। কলকাতার গোলরক্ষক দেবজিৎ ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু বল প্রায় সোজাই এসেছিল। ডানদিকে ডাইভ দেওয়ার সময় তা বুঝে বাঁ-হাত দিয়ে বল বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন দেবজিৎ। খুব জোরে নেওয়া শটে বল তাঁর হাতে লেগে বল চলে গিয়েছিল জালে। বালেওয়াড়ির শ্রী শিব ছত্রপতি স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে তখন যেন ফিরে এসেছিল দীপাবলি!

    আতলেতিকো দে কলকাতা একটি গোল ফেরত দিয়েছিল, সেই পেনাল্টি থেকেই। বক্সের মধ্যে পুনের মার্কি সিসোকো আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন কলকাতার মার্কি পোস্তিগাকে। দুজনের মধ্যে বল দখলের লড়াইতে পোস্তিগা পড়ে যান। রেফারি ম্যাচের দ্বিতীয় পেনাল্টি দেন। এগিয়ে আসেন হিউম, এই ম্যাচের আগে যিনি দুটি গোল করেছিলেন কলকাতার হয়ে, পেনাল্টি থেকেই। এবার বেতে অবশ্য ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন, আটকে দিয়েছিলেন হিউমের শট। কিন্তু, তাঁর হাতে লেগে বল ফিরে এসেছিল ফলো থ্রু-তে এগিয়ে আসা হিউমের পায়েই। এবার আর ভুল করেননি হিউম, মাটিতে শুয়ে থাকা বেতেকে এড়িয়ে বল রাখেন জালে।

    ৬৬ মিনিটে বিদ্যানন্দ সিংয়ের সামনে একা এদেল বেতে, বিদ্যানন্দর শট আটকে দেন, গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন দলের গোলরক্ষক। ব্যবধান কমানোর সুযোগ ছিল। যেমন, ১-২ হওয়ার পর হিউমের পাস থেকে বল পেয়েছিলেন সমীঘ দুতি, যা কাজে লাগাতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকার এই ফুটবলার। ৯০ মিনিটে কর্নার ধরতে পারেননি বেতে। বল ছিটকে এসেছিল বোর্হার কাছে। কিন্তু বোর্হার শট বারের অনেক ওপর দিয়ে বাইরে। আতলেতিকো এই মরশুমে আগেও পিছিয়ে থেকে ফিরে এসেছিল বলে, শেষ পর্যন্ত লড়েছিল। কিন্তু দু-গোলের ব্যবধান মুছতে পারেননি পোস্তিগা-দুতিরা।

    ম্যাচে মোট ৩২ ফাউল, ৯ হলুদ কার্ড! দুটি পেনাল্টিও বলে দিচ্ছে, ম্যাচ ছিল চড়া মেজাজের। অষ্টম ম্যাচে দ্বিতীয় হার কলকাতার। ১২ পয়েন্ট নিয়ে থেকে গেল তৃতীয় স্থানে।

    No comments