• Breaking News

    পিছিয়ে পড়ে, দশজনে জয়, চাকা ঘুরছে গোয়ার?

     

    এফসি গোয়া ২   নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি ১


    (রবিন ৬২, রোমিও ৯৩)   (সত্যসেন ৫০)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2251" align="alignleft" width="300"]রবিন-রোমিও, গোয়ার জয়ের দুই নায়ক। ছবি - আইএসএল রবিন-রোমিও, দুই নায়ক। ছবি - আইএসএল[/caption]

    দ্বিতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়িন আর রানার্স আপ এফসি গোয়া তৃতীয় আইএসএল-এর অর্ধেকেরও বেশি খেলা হয়ে যাওয়ার পর আট দলের লিগ তালিকায় যথাক্রমে সপ্তম এবং অষ্টম! আইএসএল-এ সব দলই যে শক্তির বিচারে খুব কাছাকাছি, এই তথ্যেই বোধহয় প্রমাণ।

    জিকোর দলের পক্ষে যাচ্ছিল না কিছুই, বারবার বলেছিলেন ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি ফুটবলার। ঘরের মাঠ ফতোরদায় তাঁরা যে পিছিয়ে পড়েছিলেন, সেই গোলও দুর্ভাগ্যজনক। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাতসুমি কর্নার নিয়েছিলেন। বল রবিন সিংয়ের মাথায়। বল বের করে দিতে চেয়েছিলেন হেডে। সেই বল গিয়ে পড়েছিল সত্যসেন সিংয়ের পায়ে। শট নিয়েছিলেন সত্যসেন, যা ত্রিনদাদের পিঠে লেগে পুরোপুরি দিক পাল্টে জালে চলে যায়। কাট্টিমনির কিছু করারই ছিল না। অথচ, গোটা ম্যাচে বেশ কয়েকবার কাট্টিমনি বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন গোয়াকে, নিশ্চিত হারের হাত থেকে, যে-কারণে ম্যাচের সেরার পুরস্কারও পেলেন গোয়ার গোলরক্ষক।

    প্রথমবার আইএসএল-এ কোনও দল মাঠে নেমেছিল ৯জন ভারতীয় ফুটবলার নিয়ে। তারপর, ৭২ মিনিটে দশজন হয়ে যায়। জিকোর সুখ্যাতি ছিল, ফাউল করতেন না তেমন। তাঁর এফসি গোয়া কিন্তু এবার সবচেয়ে বেশি চারটি লাল কার্ড দেখে ফেলল! আগের ম্যাচে দুজনের পর শুক্রবারের ম্যাচে লাল কার্ড দেখলেন সাহিল তাভোরা, ৭২ মিনিটে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে। আবারও দশজনে খেলতে হল, সমতা ফেরানোর দশ মিনিট পর থেকেই। কিন্তু সেখান থেকেও তিন পয়েন্ট। গোয়ার চাকা কি ঘুরতে শুরু করল অবশেষে?

    ৬২ মিনিটে গোল শোধ করেছিল গোয়া। পেছন থেকে লম্বা ক্রস, নর্থইস্টের হোলিচরণ পিছলে গিয়েছিলেন। বল পেয়ে যান রোমিও। বক্সের মধ্যে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা রবিন সিংয়ের জন্য বল বাড়িয়ে দেন। ওখান থেকে গোল ছাড়া আর কিছু করা সম্ভব ছিল না রবিনের। তারপর রবিন সুযোগ পেয়েছিলেন দলকে এগিয়ে দেওয়ার, কিন্তু পায়ে-বলে করতে পারেননি।

    শেষে অবশ্য পুষিয়ে দিলেন রবিন। চার মিনিট ইনজুরি টাইম দেওয়া হয়েছিল। তৃতীয় মিনিটে রবিন বল পেলেন বিপক্ষের মাঝমাঠে। দু-পা এগিয়ে দেখে নিয়েছিলেন রোমিও ফেরনান্দেজ ঠিক সময় দৌড়তে শুরু করেছেন। রবিনের বাঁপায়ের পাস ঠিক খুঁজে নেয় রোমিওকে। গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে বাঁচাতে চেয়েছিলেন সুব্রত পাল। কিন্তু রোমিও শরীরের দোলায় সুব্রতকে মাটিতে ফেলে আউটসাইড ডজে বেরিয়ে ডান পায়ের টোকায় গোলে রেখে যান বল।

    নেলো ভিনগাদার নর্থইস্ট ইউনাইটেড প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল দুর্দান্ত ছন্দে, প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে। কিন্তু টানা চার ম্যাচ হেরে বেশ সমস্যায় এখন। গোয়ার বিরুদ্ধে হারের জন্য অবশ্য দায়ী তাদের ফরোয়ার্ডদের প্রাপ্ত সুযোগ সদ্ব্যবহারে ব্যর্থতা। বেশ কয়েকবার গোলের সামনে পৌঁছেছিলেন তাঁরা। কাট্টিমনি এবং ক্রসবার আটকে দিয়েছিল তাঁদের, ঠিক। কিন্তু, কিছুতেই অস্বীকার করা যাবে না গোলমুখে ব্যর্থতাই নর্থইস্টকে পিছিয়ে রাখছে প্রতিবার।

    প্রথম সাত ম্যাচের পর জিকোর গোয়া শেষ করেছিল ৪ পয়েন্টে। পরের তিন ম্যাচে দুটি জয় তুলে নিয়ে এখন ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শেষেই থেকে গেল গতবারের ফাইনালিস্টরা। গতবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়ের পয়েন্টও ১০, এগিয়ে আছে মাতেরাজ্জির দল গোল-পার্থক্যে। আবার, নর্থইস্টেরও পয়েন্ট ১০-ই, আছে ষষ্ঠ স্থানে। শীর্ষে-থাকা দিল্লি ডায়নামোসের পয়েন্ট ১৬। অর্থাৎ ৮ দলের মধ্যে পয়েন্টের পার্থক্য মাত্র ৬! আরও দুটি ম্যাচ জিতলে গোয়াও কিন্তু উঠে আসতে পারে প্রথম চারে। কিছুই এখন অসম্ভব নয়, তৃতীয় আইএসএল-এ!

    No comments