• Breaking News

    বেঙ্গালুরু দেখিয়ে গেল, আকাশটা অনেক বড়!

    আল কুয়া আল জাইয়া ১       বেঙ্গালুরু এফসি ০


    (হামাদি আহমাদ ৭০)


     

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য


    bengaluru

    পারল না বেঙ্গালুরু এফসি। স্বপ্ন সফলের লক্ষ্যে শেষ ধাপে গিয়ে পদস্খলন। কিন্তু তাতে কী!

    দুই দেশের দুই ক্লাবের সামনেই ছিল একই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্য। ভারতের কোনও ক্লাব আগে যেমন পারেনি এএফসি কাপের ফাইনালেই পৌঁছতে, ইরাকের কোনও ক্লাব পারেনি খেতাব জিততে। আগে পাঁচবার ফাইনালে পৌঁছেও। কাজটা যে সত্যিই কঠিন বোঝাতে এই তথ্যটুকুই যথেষ্ট। অবশেষে ইরাকি ক্লাব পারল, ইউরোপীয় ফুটবলে ইউরোপা লিগের সমগোত্রীয় এশীয় ফুটবলের এএফসি কাপ জিততে। ভারত-সেরা ক্লাবকে হারিয়ে প্রথমবার কোনও মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হল আল কুয়া আল জাইয়া।

    বেঙ্গালুরু অবশ্য হারল লড়েই। ৯০ মিনিটে ফ্রি কিক পেয়েছিল। ওয়াটসন মেপে বল রেখেছিলেন একেবারে ফাঁকায় পৌঁছে-যাওয়া বিনীতের জন্য। শট নেওয়ার জন্য পা চালিয়েছিলেন বিনীত, পায়ে-বলে হয়নি। ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় পৌঁছেও ঠিক কাজটি হল না। বিনীতের জায়গায় সুনীল ছেত্রী ওখানে থাকলে কি ফল অন্যরকম হত? খেলায় কী হলে কী হত, নেহাতই অলীক!

    ইনজুরি টাইম ছিল পাঁচ মিনিটের। তারও শেষ দুটি মিনিটে ইরাকি ক্লাবের বক্সেই বল। শেষ মুহূর্তেও রিনো আন্তোর ক্রস ইরাকি ক্লাবের গোলরক্ষক লাফিয়ে মাথার ওপর ধরে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিজে ফেললেন, গ্যালারিও ফেলল। আর, সতীর্থ ডিফেন্ডার এসে তো চুমু খেয়ে গেলেন মাথায়, আনন্দে!

    সুনীল ছেত্রী দারুণ বল বাড়িয়েছিলেন লিংদোর জন্য, লিংদো শটও নিয়েছিলেন বাঁপায়ে, যা দুর্দান্ত ব্লক করেন ইরাকি অধিনায়ক আলি। নিশ্চিত গোল বাঁচালেন, অনায়াস দক্ষতায়। তখনও কিন্তু গোলশূন্যই ছিল। মানে, লিংদোর ওই শট আলি না-বাঁচালে এগিয়ে যাওয়ার কথা বেঙ্গালুরুরই। পরে আরও একবার সুনীল ক্রস রাখতে গিয়ে ভুল করেন, যা ঠিকঠাক হলে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হতেও পারত।

    প্রথমার্ধে দুই দলই খেলছিল সতর্ক ফুটবল। দুই কোচ নিশ্চিতভাবেই চেয়েছিলেন বিপক্ষের শক্তি মেপে নিতে। বেঙ্গালুরু যেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি, ইরাকের ক্লাবও পারেনি গোলমুখ খুলে ফেলতে। দূর থেকে চেষ্টা হয়েছিল শুধু। দ্বিতীয়ার্ধে ইরাকের ক্লাব আক্রমণ বাড়ায়। বেঙ্গালুরু চেষ্টা করেছিল গোট আটকাতে। দলের প্রথম গোলরক্ষক না হয়েও রালতে বুঝতে দেননি। অন্তত গোটা তিনেক ভাল ‘সেভ’ জানিয়ে দেয়, থাকতেই এসেছেন তিনি।

    ফাইনালের একমাত্র গোল ৭০ মিনিটে এবং রালতের কিছু করার ছিল না। কৃতিত্ব আমজাদ রাধির। বেঙ্গালুরুর তিনজন ছিলেন বক্সে – রুবিও, ওয়াটসন ও জনসন। তিনজেনের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে যান রাধি। বিপদ বুঝে রালতে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁকে ডাইভ দেওয়ার সুযোগ দিয়ে রাধি বলটা স্কোয়ারে ঠেলে দেন বক্সের মাঝখানে অপেক্ষারত হামাদি আহমাদের জন্য। প্রতিযোগিতায় নিজের ১৬তম গোলটি করতে কোনও অসুবিধাই হয়নি আহমাদের। গোল খাওয়ার পর সাময়িক হতাশা গ্রাস করেছিল বেঙ্গালুরুকে। এবং রাধি নিজে তখন দুবার গোলের সুযোগ নষ্ট করেন যেমন, হামাদিও পারতেন গোল বাড়াতে। কিন্তু আর গোল হয়নি ম্যাচে।

    সাড়ে তিন বছরের ভারতীয় ক্লাবের চেয়ে অনেকটাই এগিয়েছিল ইরাকি ক্লাব, ঠিক। কিন্তু দোহায় এএফসি কাপের ফাইনালের মঞ্চেও বেঙ্গালুরু লড়েছিল সর্বস্ব দিয়ে এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত, যা বার্তা দিয়ে যায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের।

    সুনীল ছেত্রীদের বেঙ্গালুরু শিখিয়ে দিয়ে গেল, ক্লাব ফুটবলের আকাশটাও অনেক বড়। আর একদিন সেই আকাশে হয়ত পতপত করে উড়বে ভারতের ঘুড়িও। হয়ত কেন, নিশ্চিত!

    No comments